ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘বয়কট বয়কট হাসানাত হাসানাত’ স্লোগানে মধ্যরাতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া


‘বয়কট বয়কট হাসানাত হাসানাত’ স্লোগানে মধ্যরাতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জাতীয় সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ করেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

 

মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি গাছ কাটার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘বয়কট বয়কট হাসানাত হাসানাত’ স্লোগানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উত্তাল করে তোলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের হুমকি থেকে বাঁচতে ভেনিজুয়েলার তেল ‘কেড়ে’ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


ইরানের হুমকি থেকে বাঁচতে ভেনিজুয়েলার তেল ‘কেড়ে’ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মাত্র ৮ মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা স্মরণ করা যাক। গত ৩ জানুয়ারি রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন বিশেষ এলিট বাহিনী ডেল্টা ফোর্স ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে দেশটির তখনকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বন্দি করা হয়

 

এরপর তাদের বিমানে করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে মাদক-সন্ত্রাস ও চোরাচালানের মামলায় মাদুরো আমেরিকার কারাগারে বন্দি অবস্থায় বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি আছেন। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে এভাবে তুলে আনার ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন এভাবে মাদুরোকে তুলে এনেছিল, তার প্রমাণ মিলেছে শুক্রবার।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে ঐতিহাসিক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প এটিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, এটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন যে, এই চুক্তি ভেনিজুয়েলায় শত কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম কমিয়ে আনবে।

 

রুবিও লেখেন, ‘এই চুক্তি আমেরিকান এবং ভেনিজুয়েলার জনগণ উভয়ের জন্যই একটি বিশাল জয়।’

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা অংশীদারিত্ব পাবে, যা আমেরিকার বর্তমান নিজস্ব তেল রিজার্ভকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেবে। ভেনিজুয়েলার একটি নামহীন বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি নতুন বেসরকারি কম্পানি গঠন করা হবে। এই কম্পানিটি তেলক্ষেত্রগুলো উত্তোলনের জন্য ১০০ বছরের অধিকার পাবে। নতুন এই কম্পানির ৫৫ ভাগ কার্যকর উৎপাদন অংশীদারিত্ব থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, যার মধ্যে উৎপাদনী মূল্যে তেল কেনার সরাসরি অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

এটি বাস্তবায়িত হলে কম্পানিটি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম করপোরেট তেল রিজার্ভ হোল্ডার হিসেবে পরিচিত হবে।

নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং দেশটির তেল খাতকে বেসরকারীকরণের জন্য আইন পাস করেন, যা এই চুক্তির পথ সুগম করে।

রদ্রিগেজ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে, যেগুলোতে প্রমাণিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই চুক্তির ফলে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসতে পারে এবং কারাকাস ট্যাক্স বাবদ ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব পেতে পারে। রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এই চুক্তিটি ‘আমাদের দেশের পুনরুত্থানে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।’

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আমেরিকার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কমানো এবং আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ পুনরায় পূরণ করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য পূরণেই এ চুক্তি করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ব্যবহার করেছে, যা আগস্টের শুরুতে কমে ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। ২০২৬ সালের শুরুর পর থেকে এটি ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি কমেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৪.০৯ ডলার। গত বছরের এই একই সময়ে গড় মূল্য ছিল ৩.২১ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির ঘোষণা এলেও আমেরিকার বাজারে এখনই তেলের দাম কমবে না। ভেনিজুয়েলার তেল অবকাঠামো কয়েক দশক ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি মেরামত ও সচল করতে শত কোটি ডলার এবং কয়েক বছর সময় লাগবে। তাছাড়া ভেনিজুয়েলার বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী প্রাকৃতিক সম্পদে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই চুক্তিটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলের কিছু নেতা এটিকে আমেরিকার ’ভূমি গ্রাস’ বা জোরপূর্বক সম্পদ দখল হিসেবে সমালোচনা করছেন।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কয়েক দশকের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর বিষয়টি বিবেচনা করলে, বড় মার্কিন তেল কম্পানিগুলোকে এই অঞ্চলে ফিরে যেতে রাজি করানো বেশ কঠিন হতে পারে। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পর, ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে তেল কম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের দ্রুত ভেনিজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাহীরা এই সুযোগে আগ্রহ দেখালেও, দেশটির অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাদের মধ্যে কিছুটা সতর্কভাবও ছিল।

বৃহত্তম মার্কিন তেল কম্পানি এক্সনমোবিল-এর সিইও ড্যারেন উডস তখন বলেছিলেন, তার দৃষ্টিতে দেশটি এখন বিনিয়োগের অনুপযুক্ত। কিন্তু ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, তার প্রশাসন ভেনিজুয়েলায় এক ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ কয়েক দশক আগে যখন মার্কিন তেল কম্পানিসহ শত শত বিদেশি মালিকানাধীন সম্পত্তি জাতীয়করণ করেছিলেন, তখন মূলত ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুরি করেছিল।

ভেনিজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ মাটির নিচে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, এটি বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ ভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো যেখানে ভূতাত্ত্বিকদের অব্যবহৃত তেলের সন্ধান করতে হয়, ভেনিজুয়েলার মাটির নিচের মজুদগুলো মূলত আগে থেকেই মানচিত্রভুক্ত এবং জানা। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১ ভাগ তেল উৎপাদন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর

চট্টগ্রামে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু প্রাণ হারিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরসরাই উপজেলার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কের বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে তালাত মাহমুদ শুভ (২২) এবং একই ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার প্রবাসী শেখ ফরিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ওমর (২১)। উভয়েই বন্ধু ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় আবুতোরাব বাজারের একটি ল্যাবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাতে বারৈয়ারহাট বাজার থেকে একটি নতুন মোটরসাইকেল ক্রয় করে শুভ ও ওমর বাড়ির দিকে রওনা হন। পথে বড়তাকিয়া গেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির লরি তাদের মোটরসাইকেলটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই শুভর মৃত্যু ঘটে। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওমরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনিও মারা যান।

দুর্ঘটনার পর মিরসরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

নিহত শুভর ভাই ইমাম হোসেন ফরহাদ ও ওমরের মামা সাইদুল ইসলাম শাহীন জানান, নতুন মোটরসাইকেল কেনার আনন্দ নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বড়তাকিয়া গেট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৪৮২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ এম


নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৪৮২

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে নিহতের সংখ্যা বর্তমানে ৫৮৪ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের তিব্বতে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশের মিলিতভাবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জন রয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। চীনের তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে পাঁচজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই দেশের সম্মিলিত নিহতের সংখ্যা ৫৮৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চীন ও নেপালের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বন্যার পর পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে পানি উপচে পড়ায় আরও বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরে তা আবার শুরু করা হয়।

নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানের চেষ্টা করছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।

৩২০ ভারতীয় এখনো নিখোঁজ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ২১ জন ভারতীয় কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া ত্রিশূলী ওয়ান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অংশে আটকে থাকা আরও ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তবে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০০ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, এই ভয়াবহ দুর্যোগে দুই দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা জানিয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গতদের খাবার, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক অঞ্চলে চলে আসছে বিশাল তিমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক অঞ্চলে চলে আসছে বিশাল তিমি

পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র থেকে বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে প্রভাব ফেলছে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে বিশাল আকৃতির তিমিগুলো এখন এমন এলাকায় প্রবেশ করছে, যেখানে তাদের আগে কখনো দেখা যায়নি—এমন তথ্য দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে বরফমুক্ত উপকূলীয় পানিতে হাম্পব্যাক, মিংকে ও ফিন তিমির মতো বিশ্বের বৃহৎ তিমিগুলো খাদ্য সংগ্রহ করছে। আগে বরফের কারণে এসব অঞ্চলে তাদের প্রবেশ সম্ভব ছিল না। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বরফ গলতে থাকায় এই সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে মৌসুমি আর্কটিক ফিডিং ফ্রেঞ্জি বা খাদ্যের জন্য হুড়োহুড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন। পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক পরিবেশে যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, এটি তার একটি অংশ। এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত নাটকীয় বলা হচ্ছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে জরিপে একটিও হাম্পব্যাক তিমির দেখা মেলেনি। ২০০৭ সালে সাতটি হাম্পব্যাক তিমি দেখা গিয়েছিল। পূর্ব গ্রিনল্যান্ড উপকূলের বেইলিন হোয়েল দলে ফিন, মিংকে এবং হাম্পব্যাক তিমি অন্তর্ভুক্ত। এসবের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক আকাশপথে জরিপ গবেষকেরা ২০১৫ ও ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে পরিচালনা করেন।

তারা এই তথ্যের সঙ্গে স্যাটেলাইট-ট্যাগযুক্ত ১৫টি তিমির গতিপথ এবং ইনুইট শিকারিদের সাক্ষ্য একসঙ্গে মিলিয়ে একটি সামগ্রিক চিত্র দাঁড় করিয়েছেন। এ বিষয়ে গবেষক অধ্যাপক ম্যাডস পিটার হেইডে-জর্জিংসেন বলেন, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে প্রায় ৪ হাজার হাম্পব্যাক তিমি, ৬ হাজার ফিন তিমি এবং ৬ হাজার মিংকে তিমি গ্রিনল্যান্ড সাগরে প্রবেশ করেছে। গ্রিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের অধ্যাপক হেইডে-জর্জিংসেন বলেন, এই অঞ্চলের পরিবর্তনগুলো সম্ভবত উপমেরু অঞ্চলের যেকোনো জায়গার তুলনায় সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং খাদ্যের প্রাপ্যতা। উষ্ণ হয়ে ওঠা পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের পানিতে যেসব মাছ চলে এসেছে, তিমিগুলো মূলত সেগুলোই খাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন খাদ্য গ্রহণের মৌসুমে এই তিন প্রজাতির তিমি কমপক্ষে ৮ লাখ টন মাছ ও ক্রিল খেয়ে ফেলবে। যদিও কিছু তিমি উষ্ণ পানির সুফল পাচ্ছে, তবে নারহ্বালের মতো আর্কটিকের নিজস্ব প্রজাতিগুলো তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে তিমিগুলোর সামগ্রিক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, নাকি অন্য এলাকা থেকে কেবল তাদের স্থানচ্যুতি ঘটেছে, এই গবেষণা থেকে তা স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পশ্চিম গ্রিনল্যান্ড থেকে এই প্রাণীদের একটি দল সরে গেছে। গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল, কারণ দেশটির কিছু অঞ্চলে তিমি শিকার করা হয়। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%