ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৪৮২


নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৪৮২

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে নিহতের সংখ্যা বর্তমানে ৫৮৪ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের তিব্বতে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশের মিলিতভাবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জন রয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। চীনের তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে পাঁচজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই দেশের সম্মিলিত নিহতের সংখ্যা ৫৮৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জনে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: চিকিৎসকদের অবহেলায় ক্ষতি যেন না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চীন ও নেপালের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বন্যার পর পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে পানি উপচে পড়ায় আরও বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরে তা আবার শুরু করা হয়।

নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানের চেষ্টা করছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।

৩২০ ভারতীয় এখনো নিখোঁজ

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় আসা গাদি আইজেনকোট

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ২১ জন ভারতীয় কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া ত্রিশূলী ওয়ান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অংশে আটকে থাকা আরও ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তবে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০০ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, এই ভয়াবহ দুর্যোগে দুই দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা জানিয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গতদের খাবার, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক অঞ্চলে চলে আসছে বিশাল তিমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক অঞ্চলে চলে আসছে বিশাল তিমি

পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র থেকে বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে প্রভাব ফেলছে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে বিশাল আকৃতির তিমিগুলো এখন এমন এলাকায় প্রবেশ করছে, যেখানে তাদের আগে কখনো দেখা যায়নি—এমন তথ্য দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে বরফমুক্ত উপকূলীয় পানিতে হাম্পব্যাক, মিংকে ও ফিন তিমির মতো বিশ্বের বৃহৎ তিমিগুলো খাদ্য সংগ্রহ করছে। আগে বরফের কারণে এসব অঞ্চলে তাদের প্রবেশ সম্ভব ছিল না। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বরফ গলতে থাকায় এই সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে মৌসুমি আর্কটিক ফিডিং ফ্রেঞ্জি বা খাদ্যের জন্য হুড়োহুড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন। পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক পরিবেশে যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, এটি তার একটি অংশ। এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত নাটকীয় বলা হচ্ছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে জরিপে একটিও হাম্পব্যাক তিমির দেখা মেলেনি। ২০০৭ সালে সাতটি হাম্পব্যাক তিমি দেখা গিয়েছিল। পূর্ব গ্রিনল্যান্ড উপকূলের বেইলিন হোয়েল দলে ফিন, মিংকে এবং হাম্পব্যাক তিমি অন্তর্ভুক্ত। এসবের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক আকাশপথে জরিপ গবেষকেরা ২০১৫ ও ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে পরিচালনা করেন।

তারা এই তথ্যের সঙ্গে স্যাটেলাইট-ট্যাগযুক্ত ১৫টি তিমির গতিপথ এবং ইনুইট শিকারিদের সাক্ষ্য একসঙ্গে মিলিয়ে একটি সামগ্রিক চিত্র দাঁড় করিয়েছেন। এ বিষয়ে গবেষক অধ্যাপক ম্যাডস পিটার হেইডে-জর্জিংসেন বলেন, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে প্রায় ৪ হাজার হাম্পব্যাক তিমি, ৬ হাজার ফিন তিমি এবং ৬ হাজার মিংকে তিমি গ্রিনল্যান্ড সাগরে প্রবেশ করেছে। গ্রিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের অধ্যাপক হেইডে-জর্জিংসেন বলেন, এই অঞ্চলের পরিবর্তনগুলো সম্ভবত উপমেরু অঞ্চলের যেকোনো জায়গার তুলনায় সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং খাদ্যের প্রাপ্যতা। উষ্ণ হয়ে ওঠা পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের পানিতে যেসব মাছ চলে এসেছে, তিমিগুলো মূলত সেগুলোই খাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন খাদ্য গ্রহণের মৌসুমে এই তিন প্রজাতির তিমি কমপক্ষে ৮ লাখ টন মাছ ও ক্রিল খেয়ে ফেলবে। যদিও কিছু তিমি উষ্ণ পানির সুফল পাচ্ছে, তবে নারহ্বালের মতো আর্কটিকের নিজস্ব প্রজাতিগুলো তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে তিমিগুলোর সামগ্রিক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, নাকি অন্য এলাকা থেকে কেবল তাদের স্থানচ্যুতি ঘটেছে, এই গবেষণা থেকে তা স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পশ্চিম গ্রিনল্যান্ড থেকে এই প্রাণীদের একটি দল সরে গেছে। গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল, কারণ দেশটির কিছু অঞ্চলে তিমি শিকার করা হয়। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছয় মাসের যুদ্ধেও অটুট ইরান, লক্ষ্যহীন যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


ছয় মাসের যুদ্ধেও অটুট ইরান, লক্ষ্যহীন যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধটি দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে ছয় মাসের পরেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে পরাজিত করতে পারেনি। ব্যাপক বিমান হামলার ফলে ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধিত হয়েছে। নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। তবুও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, এবং জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নামেনি।

 

বর্তমানে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের নতুন লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপের মধ্যে ফেলা। তাদের আশা, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেবে।

অর্থনীতিবিষয় জানা

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলও যুক্তরাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নাও আনতে পারে।

ছয় মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ওয়াশিংটন আসলে কী চায়—ইরান সরকারের পতন, আত্মসমর্পণ, নাকি আলোচনায় সমঝোতা? এর কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই।

চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মন্তব্য, ‘এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান সুজান ম্যালোনিও যুদ্ধের ফলাফলকে ব্যর্থ বলে মনে করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, কিন্তু ইরান এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের ‘স্বাধীনতা’ কোথায়?

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের সূচনা দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এসেছে।’

ছয় মাস পর, তার প্রশাসন ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ আরোপ করছে। লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। বরং ইরানের নেতৃত্ব আরও কঠোর হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। শাসকরা নিজেদের টিকে থাকাকে দেশের টিকে থাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন। সাধারণ মানুষের ত্যাগকে তারা দেশপ্রেম এবং শহীদের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করছেন। সামান্যতম ভিন্নমতও কঠোর হাতে দমন করা হচ্ছে।

ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে নত করার প্রচেষ্টা সফল হয়নি, এবং ট্রাম্পের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও এখন অনেকটাই ফাঁপা শোনাচ্ছে।

ম্যাপরেফারেন্স দেখা

বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত, তবু অটুট ইরান

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার ছেলে এবং বর্তমান উত্তরসূরি সাইয়েদ মুজতবা খামেনি।

কয়েক সপ্তাহের তীব্র বোমাবর্ষণে ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও। কিন্তু এতেও সরকারের পতন হয়নি। নেতৃত্বে বড় কোনো ভাঙন দেখা যায়নি। জনগণও রাস্তায় নামেনি। বরং ইরানের সামরিক বাহিনী অনেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আবার সচল করে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

সবচেয়ে বড় পাল্টা পদক্ষেপ আসে হরমুজ প্রণালিতে। তেহরান একপর্যায়ে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। এই যুদ্ধে কয়েক হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। এ ছাড়া ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এবার অস্ত্র অর্থনীতি

সামরিক অভিযান এখন অর্থনৈতিক চাপের দিকে পরিবর্তিত হয়েছে। গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করেন। এর লক্ষ্য হলো ইরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেওয়া।

ব্যাসেন্ট বলেন, ইরানের ‘প্রতিটি শেষ বিকল্প’ বন্ধ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। অভিযানের শক্তি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাবে এবং ইরানের সরকার একা না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে বলেও জানান তিনি।

কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন—এর শেষ কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের সরকার পতন চায়? হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে তেহরানকে বাধ্য করতে চায়? নাকি অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চায়?

অর্থনীতিবিষয় জানা

লন্ডনভিত্তিক বোরস অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের গবেষক এসফানদিয়ার বাটমাঙ্গেলিজদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য স্পষ্ট নয়।

তার মতে, কী ধরনের আচরণ পরিবর্তন চাওয়া হচ্ছে, সেটি নির্দিষ্ট না করলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো দেশকে বাধ্য করা যায় না।

ইরানের ওপর এরই মধ্যে হাজার হাজার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই আরো নিষেধাজ্ঞায় তেহরান আত্মসমর্পণ করবে—এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বরং পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইরান পারস্য উপসাগরে জাহাজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা বাড়াতে পারে। এতে আবারও মার্কিন সামরিক হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির গবেষক সিনা তুসির ভাষায়, ‘ইরানকে ক্ষতি করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে। কিন্তু সেই ক্ষতি থেকে আত্মসমর্পণ বা সরকার পতনের পথটি স্পষ্ট নয়।’

সমঝোতার পথও ক্রমে সরু

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অস্পষ্ট হওয়ায় তেহরানেও প্রশ্ন বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, ইরানের নেতৃত্ব জানতে চাইছে—যুক্তরাষ্ট্র কি পতন চায়, আত্মসমর্পণ চায়, নাকি সমঝোতা?

ইরান মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধকে যুদ্ধেরই আরেক রূপ হিসেবে দেখছে। তাই নতুন মার্কিন কৌশলে দুটি বড় ঝুঁকি রয়েছে।

চাপ ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন আবার সামরিক পথে ফিরতে পারে। আর চাপ সফল হলে ইরান মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙতে আরো বড় পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

ভায়েজের মতে, নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের বিকল্প হওয়ার বদলে নতুন যুদ্ধের ভূমিকা তৈরি করতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুদ্ধ শেষ করার অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তারা সতর্ক করেছেন, ক্ষুধার্ত মানুষ ও অর্থনৈতিক ধস ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

তবুও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের অবস্থান কঠোর। ইরান অন্তত জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরতে চায়। ওই সমঝোতায় ট্রাম্পও স্বাক্ষর করেছিলেন। এখন অবশ্য তিনি সেটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও ইরান ও ওমান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের ব্যবস্থা মেনে নেবে, তার সঙ্গে তেহরানের অবস্থানের বড় ফারাক রয়েছে। অর্থনীতি বিপর্যস্ত হলেও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নয় ইরানের নেতৃত্ব। একই সঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির ওপরও তাদের আস্থা নেই। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়েও গভীর সন্দেহ রয়েছে।

যুদ্ধ নেই, শান্তিও নেই

বর্তমানে সংঘাত অনেকটা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। দুই পক্ষ সরাসরি একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালির দুই দিকের অবরোধও তুলনামূলকভাবে শিথিল। ফলে কিছু তেল সরবরাহ হচ্ছে।

এই অবস্থাকে বিশ্লেষকেরা একধরনের ‘ভুয়া যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের একটি সুবিধা হলো, এর প্রভাব ধীরে আসে এবং সহজে পরিমাপ করা যায় না। এতে সংঘাতের উত্তাপও কিছুটা কম থাকে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এটি ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। বিজয় খুব কাছে—এমন বার্তাও দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু এই অচলাবস্থাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

অর্থনীতিবিষয় জানা

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ইরান-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এলি গেরানমায়েহ বলেন, হোয়াইট হাউসে এখন ক্রমেই এমন ধারণা বাড়ছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব নয়। একই ধারণা তৈরি হচ্ছে তেহরানেও।

তার সতর্কবার্তা, ‘এটি বিপজ্জনক সময়।’ কারণ দুই পক্ষই যদি ধরে নেয় যে অন্য পক্ষের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়, তাহলে সংঘাত আবার সামরিক পথে গড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জেরেমি শাপিরোও প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প কেন এই দীর্ঘ ও দেশে অজনপ্রিয় যুদ্ধ শেষ করার কোনো পথ বেছে নিচ্ছেন না।

তার মতে, আরো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এমন ভান করছে যে যুদ্ধ এখনো চলছে। অথচ তারা চাইলে যুদ্ধ জয়ের দাবি করতে পারত। অথবা স্বীকার করতে পারত যে তারা হেরে গেছে।

ছয় মাসের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন সত্যই সামনে এনেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইরানকে আঘাত করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু তাকে নত করার পথ নেই। আর যুদ্ধের সেই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন ইরানের সাধারণ মানুষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আপিল বিভাগের নতুন বিচারপতি হাবিবুল গনির শপথ কাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


আপিল বিভাগের নতুন বিচারপতি হাবিবুল গনির শপথ কাল

রবিবার (৩০ আগস্ট) শপথ বাক্য পাঠ করানো হবে নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির।

সকাল সাড়ে ৯টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নতুন বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

 

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বায়ার্নের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে মুখ খুললেন কেইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫০ এম


বায়ার্নের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে মুখ খুললেন কেইন

বায়ার্ন মিউনিখ নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে স্টুটগার্টকে ৫-১ গোলে পরাজিত করে একটি অসাধারণ সূচনা করেছে। এই বিশাল জয়ের পর দলের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন সমর্থকদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছেন।

 

শুক্রবার, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ২০২৭ সালের পরে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে থাকার জন্য চুক্তি নবায়নের আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসে ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, গত সপ্তাহে বায়ার্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার প্রথম দফার বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। কেইন, যিনি আগামী আগস্টে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, ২০২৩ সালে শৈশবের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দিয়েছিলেন এবং তিনি জার্মানিতে নিজের ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে চান।

 

নতুন চুক্তি নিয়ে কেইন মন্তব্য করেন, ‘অনেক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনার বাকি আছে। আমার বয়স এখন ৩৩। এটি হয়তো আমার ক্যারিয়ারের শেষ চুক্তি হতে যাচ্ছে না, তবে স্বাক্ষর করার জন্য এটি বেশ বড় একটি চুক্তি। ক্লাবকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা আমাকে নিয়ে খুশি, তেমনি আমার নিজেরও সন্তুষ্টির ব্যাপার রয়েছে।

 

তবে কোনো পক্ষেরই কোনো তাড়া বা আতঙ্ক নেই। আমি নিশ্চিত, আমরা এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব যেখানে উভয় পক্ষই খুশি থাকবে।’

চলতি মৌসুমের শেষে কেইনের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। বায়ার্নও বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে এই গোলমেশিনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

গত মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে অসাধারণ ফর্মে ছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

 

বুন্দেসলিগায় মাত্র ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছেন, যা জার্মান শীর্ষ লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে তৃতীয় সর্বোচ্চ। লিগ ও কাপ ডাবল জেতা কেইন ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে গত মৌসুমে মোট ৭৩টি গোল করেছিলেন। এর মধ্যে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার পা থেকে এসেছিল ৬টি গোল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%