০৪:৪৯ পি.এম
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্রামে কারিগরদের দ্বারা তৈরি শীতলপাটি, মৃৎশিল্প, তাঁত, কামার-কুমারের পণ্য এবং রুপার গয়নাসহ বিভিন্ন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার একটি উদ্যোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব পণ্যকে আলিবাবা, অ্যামাজন এবং ইবের মতো আন্তর্জাতিক অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মে উপযুক্ত করে তুলতে উন্নত কাঁচামাল, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড এসডিজি’র সমাপনী দিনে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। একই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সাকীও সরকারের পাঁচ বছরের উন্নয়ন কৌশল এবং এসডিজি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আমির খসরু বলেন, ‘শুধু আর্থিক সহায়তা দিলেই আর হবে না। তাঁদের পণ্যের মান বৃদ্ধিতে তাদের উন্নত কাঁচামাল, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণন সহায়তা করতে হবে। গ্রামের অনেক মানুষের প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই ধরনের কাজ করে আসছে, কিন্তু তারা তাদের তৈরি পণ্যের যথাযথ মূল্য পাচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর আহ্বান: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে
বরিশালের শীতলপাটি কারিগরদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, একজন কারিগর একটি শীতলপাটি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন। কিন্তু ভালো ডিজাইন ও মানোন্নয়নে সেটি ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে।
এভাবে ১০ টাকার পণ্যে মূল্য সংযোজন করে ৩০ টাকায় বিক্রির উপযোগী করা যাবে। এতে কারিগরদের আয় বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদনবৃদ্ধি হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
আমির খসরু গ্রামীণ পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘শুধু দেশের বাজারের মধ্যে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের গ্রামীণ পণ্য পৌছানোর লক্ষ্য রয়েছে।’ আলিবাবা, অ্যামাজন এবং ইবের মতো আন্তর্জাতিক বিপণন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব পণ্যের বিক্রি উপযোগী করা হবে।
থাইল্যান্ডের ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে গ্রাম পর্যায়ের মানুষকে দক্ষতা উন্নয়ন, কাঁচামাল, ডিজাইন এবং বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা হয়। পরে গ্রামের তৈরি পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। বাংলাদেশে এই ধরনের উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার
তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই কাজ সরকার একা করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘গ্রামের কারিগরদের কাছে ডিজাইন, কাঁচামাল, ঋণ এবং বাজারসংযোগ পৌঁছে দিতে বেসরকারি খাত ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে অংশীদার করা হবে।’ সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় শুধু গ্রামীণ কারিগর নয়, থিয়েটার, সংগীত এবং খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান। এসব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কার্যকর হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সাকী বলেছেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়ন শুধু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধ্যতা নয়, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনে প্রকৃত উন্নতি ঘটানো।’ তিনি বলেছেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ারে পৌঁছেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কৌশলপত্র তৈরি করছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবর্তে কর্মসূচি ভিত্তিক গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সফল হলে তা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বর্তমানে ৯০টির বেশি কর্মসূচি আছে, তবে এই সংখ্যা কমিয়ে ১০টির নিচে আনার চেষ্টা চলছে। ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচিকে সর্বজনীন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাসস্থানে বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে সাকী বলেন, জ্বালানি, আর্থিক খাত সংস্কার, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ কমানো, তথ্য প্রযুক্তি এবং পরিবেশ রক্ষাকে উৎপাদনমুখি কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন