০৪:৫৪ পি.এম
সুনামগঞ্জে পারিবারিক কলহের কারণে ঘুমন্ত অবস্থায় ৭ ও ৪ বছরের দুটি শিশু হত্যা করার পর, হাওরের পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কামরুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে এবং পরবর্তীতে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শিশু দুটির নাম হলো— ৭ বছরের মুহাদ্দিস এবং ৪ বছরের তুলনা। তাদের বাড়ি দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামে অবস্থিত এবং কামরুল ইসলাম তাদের পিতা।
থাকা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী এবং শাশুড়ির ঝগড়া-বিবাদে বিরক্ত হয়ে কামরুল গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে চার সন্তানের মধ্যে বড় দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে চলে যান।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের বারান্দায় দুই দিন থাকার পর, রোববার (৯ আগস্ট) রাতে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্টে প্রথমে ছোট মেয়ে তুলনাকে এবং পরে সদর উপজেলার মদনপুর পয়েন্টে বড় ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে দেখার হাওরে ফেলে দেন তাদের বাবা।
তারপর, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জের ‘দেখার হাওরের’ বড়কাপন এলাকা থেকে শিশু তুলনার এবং বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর সংলগ্ন একই হাওর থেকে মুহাদ্দিসের মরদেহ ভেসে উঠলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি সামনে আসে।
লাশ ভেসে ওঠার পর পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে আটক করে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের চার সন্তান রয়েছে। যখন সন্তানদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হতো, তখন তাদের মা তাদের মারধর করতেন। এ নিয়ে পরিবারে শাশুড়ি ও স্ত্রীর সঙ্গে কামরুলের প্রায়ই ঝগড়া ও কলহ সৃষ্টি হতো। এই পারিবারিক কলহের ক্ষোভ থেকেই তিনি নিজের সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সন্তানদের হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন