০৪:০৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"উন্নত পল্লী, উন্নত দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বেলাবো উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও বৃক্ষের চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল কবির নান্নু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাইলাতুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজিজ সারতাজ জায়েদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মুহিবুর রহমান সিদ্দিকী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী খাদিজা আক্তার এবং বেলাবো প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক।
বক্তারা পল্লী উন্নয়নে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তারা দেশের সার্বিক উন্নয়নে পল্লী উন্নয়নের গুরুত্বের ওপরও আলোকপাত করেন।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার দাবি করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া মোল্লা বাড়িতে এক প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লার পরিবারকে সমাজচ্যুত ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বজন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে এই এলাকায়।
ভুক্তভোগী সুমন মোল্লা ও তার পরিবার জানায়, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে তাদেরকে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আসন্ন রোববার (৫ জুলাই) তার স্ত্রী ও সন্তানকে চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হলে, পথ রোধ করে হামলা হতে বাধ্য করা হয়। এই হামলায় প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লা (৪৪) গুরুতর আহত হন।
জানা গেছে, প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লা প্রায় ১৫ বছর আগে প্যারালাসিসে আক্রান্ত হয়ে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। এই অবস্থায় স্ত্রী নিলা বেগম (লাইলি বেগম) ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আরফান মোল্লার সঙ্গে তার সংসার চলে। তাদের আয়ের অন্যতম উৎস হল বাড়ির সামনে থাকা একটি দোকান।
বিরোধের বিষয়ে সুমন মোল্লা বলেন, সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজার সংলগ্ন প্রায় ১৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। জমিটি তার বাবার কেনা, কিন্তু দলিল তার মায়ের নামে হওয়ায় পরে চার ভাই নিজেদের নামে লিখে নেন। এর ফলে তিনি যখন নিজের ন্যায্য অংশ দাবি করেন, তখন তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয় এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু হয়। সমাজচ্যুত করার পর এখন তার দোকানেও যেতে দেওয়া হয় না।
তিনি আরও জানান, এলাকার কেউ ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করলে অথবা কোনো শিক্ষার্থী সেখানে গেলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতা দিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে এবং এ বিরোধের জেরে সুমন মোল্লাকে সমাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এছাড়া তার দোকানে কেউ যেন কেনাকাটা না করে, সে ব্যাপারেও এলাকায় নিষেধাজ্ঞা আছে বলেও অভিযোগ জানান তারা।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ভাইরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ আয়োজন করা হলেও সুমন পক্ষ সালিশে হাজির হয়নি। এরপরেই এলাকাবাসী তাদের বিষয়ে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তাদের বক্তব্য।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর জগদীশ সারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে পুলিশ চার বখাটেকে আটক করেছে। এটি ঘটেছে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে, যখন বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানে বের হয়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন নগরীর কালীবাড়ি রোড এলাকার সোহরাব হোসেন খানের ছেলে হাসান মাহমুদ খান, একই এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল তামিম, শুকুর লাল আচার্যের ছেলে প্রতিম আচার্য ও রতন কুমার দাসের ছেলে হৃদয় দাস। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল যে কয়েকজন যুবক জগদীশ সারস্বত স্কুলের সামনে বসে স্কুলের ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের অশ্লীল ভাষায় উত্ত্যক্ত করছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বিদ্যালয়টির সামনে অভিযান পরিচালনা করি এবং আমরা ওই চারজনকে আটক করি। এ সময় অভিভাবকরা তাদের চিহ্নিত করেন।’
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুনুল ইসলাম জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জগদীশ সারস্বত স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে চারজন উত্ত্যক্তকারীকে আটক করে এবং তাদের পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করেছে। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে, নিজবাড়িতে বসেই স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধানের বীজ বিভিন্ন কোম্পানির নামে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম ফিরোজুর রহমান ফিরোজ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে খবর পেয়ে তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে জরিমানা করা হয়।
ফিরোজুর রহমান ফিরোজ আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম মানিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ব্যক্তি কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার জাবারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে ‘স্টার সিড’, ‘বিসমিল্লাহ সিড’ ও ‘পদ্মা সিড’ নামে আকর্ষণীয় মোড়ক তৈরি করে ধানের বীজ বাজারজাত করতেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সূত্রে জানা গেছে যে, সোমবার দুপুরে জয়পুরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসের বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা উম্মে ছালমা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান। এ সময় ওই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামীয় ধান বীজের প্যাকেট জব্দ করা হয়।
জয়পুরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা উম্মে ছালমা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ধান বীজ উৎপাদন ও মোড়কজাত করছিলেন। বীজ প্রত্যয়ন ছাড়া কিংবা ভুয়া মোড়ক ব্যবহার করে বীজ বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, ‘কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ যাতে ভুয়া বা নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আজ এই ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে জরিমানা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ