১১:৩৩ এম
সাম্প্রতিক পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। সরকারি সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ জনে।
গত ২৪ জুনের ওই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে শুক্রবার থেকে মৃতের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে, এবং অনেকেই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখনও ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
দেশটির রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখানে বহু আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। এই দুই ভূমিকম্প মাত্র ৩৮ সেকেন্ড ব্যবধানে আঘাত হানে। ঘটনার ১০ দিন পরে এখন উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করার কাজ ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিচ্ছেন, যদিও কিছুদিন আগে অল্প কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রথম ৭২ ঘণ্টা ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে ধরা হয়। উদ্ধার অভিযান শেষের দিকে যাচ্ছে—এমন সংকেত হিসেবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের, তাদের অনুসন্ধানী কুকুরের সঙ্গে, পদক প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জনগণের জন্য গভীর শোকের সময়, এখানে অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা রাখছে। অনেক মানুষ সবকিছু হারিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে অভিযান শেষ করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ফায়ার সার্ভিস দল তাদের শেষ অনুসন্ধানের পর কোনো জীবিত চিহ্ন না পাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত করছে। ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার দলগুলোও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকার দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে অনেক পরিবার প্রথম কয়েক ঘণ্টা নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেছে। তবে সরকার বলছে, হাজার হাজার সেনা ও কর্মকর্তাকে উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
লা গুয়াইরায় ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধসে পড়া ভবন ভাঙার কাজ চলছে, পাশাপাশি কিছু পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবক ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনও কাজ করছি, এখনও মরদেহ খুঁজছি। কাজটা সহজ নয়। আমরা দুইটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
-অর্থনৈতিক ক্ষতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি-
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই দুই ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। তেল রপ্তানিনির্ভর দেশটি আগে থেকেই দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।
লা গুয়াইরায় অবস্থিত মাইয়াকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এটি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে মানবিক সহায়তাবাহী ফ্লাইট অবতরণ করতে পারে, তবে বাণিজ্যিক ফ্লাইট এখনো বন্ধ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন