বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০২:১২ এম
বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের মর্যাদাপূর্ণ তালিকার প্রথম স্থানে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে অর্জন করেছে শীর্ষ স্থান। বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এই বিজয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।
জার্মানির হামবুর্গে মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়া ষাণ্মাসিক তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার সিস্টেমের খেতাব চীনের 'লাইনশাইন' অর্জন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের 'এল ক্যাপিটান'কে পেছনে ফেলেছে।
নতুন 'টপ৫০০' তালিকা অনুযায়ী, চীনের শেনঝেন শহরের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে অবস্থিত লাইনশাইন ২.১৯৮ এক্সাফ্লপসের পারফরম্যান্স অর্জন করেছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নের বেশি হিসাব-নিকাশ করতে সক্ষম। এই পারফরম্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটানের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।
২০১৭ সালের 'সানওয়ে তাইহুলাইট'-এর পর এই প্রথম চীনের কোনো সুপারকম্পিউটার সিস্টেম এই তালিকার শীর্ষে উঠেছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এল ক্যাপিটান শীর্ষ স্থানে ছিল, যা ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত।
নতুন তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির 'ফ্রন্টিয়ার' তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে ইলিনয়ের আর্গন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির 'অরোরা' এবং জার্মানির জুলিখ সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের 'জুপিটার' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শীর্ষ ২০-এর তালিকায় যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং সুইজারল্যান্ডের মতো অন্যান্য দেশেরও অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীনের প্রগতির কাহিনী
top500 তালিকার অন্যতম আয়োজক এবং টেনেসি ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের ইমেরিটাস অধ্যাপক জ্যাক ডংগারা বলেন, 'সল্যাবেশনের সর্বাধুনিক চিপের ওপর মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ থাকার পরও লাইনশাইন-এর পূর্বোক্ত পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে চীন উন্নত কম্পিউটিংয়ে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম।'
ডংগারা আল-জাজিরাকে বলেছেন, 'মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে কিছু উন্নত যন্ত্রাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে চীনের হয়তো কিছু সময় লাগবে, কিন্তু এটি তাদের নিজস্ব দেশীয় বিকল্প তৈরি করতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে।'
তিনি বলেন, চীনের শীর্ষস্থান দখলের খবরে তিনি 'পুরোপুরি অবাক হননি'। আসলে তিনি উল্লেখ করলেন, 'দীর্ঘমেয়াদে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো চীনের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে, তবে প্রযুক্তিগতভাবে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য তাদের চেষ্টা ত্বরান্বিত করবে।'
লাইনশাইন কার্যপদ্ধতি
অন্যান্য সুপারকম্পিউটারের তুলনায় লাইনশাইন-এর একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে পুরোপুরি সাধারণ কাজের জন্য তৈরি 'সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট' বা সিপিইউ-এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
সাধারণত, সিপিইউতে প্রসেসিং কোর কম থাকে, যা চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল চালানোর জন্য 'গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট' বা জিপিইউ-এর চেয়ে ধীরগতির হয়।
টপ৫০০ তালিকার তথ্য অনুযায়ী, লাইনশাইনই প্রথম এবং একমাত্র সিস্টেম, যা শুধুমাত্র সিপিইউ ডিজাইন ব্যবহার করে ২ এক্সাফ্লপসের বেশি পারফরম্যান্স অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
১৯৯৩ সালে একটি সম্মেলনের জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানী এরিখ স্ট্রোমায়ার এবং হ্যান্স মেউয়ার সুপারকম্পিউটারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর দুবার এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
'লিনপ্যাক বেঞ্চমার্কের' ভিত্তিতে এই তালিকায় সুপারকম্পিউটারগুলোর সক্ষমতার র্যাংকিং করা হয়। এটি মূলত একটি জটিল লিনিয়ার ইকুয়েশন সমাধান করতে কত সময় লাগে, তা পরিমাপ করে।
২০১৯ সালে তালিকায় প্রায় অর্ধেকই চীনের দখলে ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হবার পরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
র্যাংকিংয়ের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন
টপ৫০০ তালিকা বেশ কয়েক দশক ধরে প্রভাবশালী হলেও কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এআইয়ের আবির্ভাবের পর কম্পিউটিং প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে, তার কারণে র্যাংকিংয়ের গুরুত্ব কিছুটা কমেছে।
মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজনের মতো করপোরেট প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এআইয়ের উন্নতিতে এগিয়ে আছে। অথচ টপ৫০০ তালিকায় সরকারি ও একাডেমিক উদ্যোগে তৈরি সুপারকম্পিউটার স্থান পেয়েছে। এরা স্বেচ্ছায় এই তালিকায় অংশ নিয়েছে।
২০১৫ সালের একটি গবেষণাপত্রে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মন্তব্য করেছিলেন, এল ক্যাপিটান প্রকৃতপক্ষে 'এক্সএআই'-এর কলোসাস সুপারকম্পিউটিং ক্ষমতার মাত্র ২২ শতাংশ অর্জন করতে পেরেছে।
অধ্যাপক ডংগারা বলছেন, এই তালিকা কেবল একটি 'বেঞ্চমার্ক' এর ভিত্তিতে পারফরম্যান্স মাপার জন্য, তাই এটিকে 'প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের সম্পূর্ণ মাপকাঠি' হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, 'বৈজ্ঞানিক প্রয়োগের ক্ষমতা, জ্বালানি সাশ্রয়, সফটওয়্যারের মান, নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবহার সহজতা এবং গবেষক সম্প্রদায়কে সহায়তা করার ক্ষমতাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।'
কম্পিউটিং শিল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'ইন্টারসেক্ট৩৬০ রিসার্চ'-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাডিসন স্নেল জানান, লাইনশাইনের সক্ষমতা নিয়ে তিনি অবাক হননি। কিন্তু চীনা ডেভেলপারদের আবারও এই র্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে লক্ষণীয়।
স্নেল আল জাজিরাকে বলেন, 'বিশ্বের শীর্ষ সুপারকম্পিউটার হিসেবে লাইনশাইনের স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং জাপানের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ দেশগুলো এআইতে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রযুক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বজুড়ে এগিয়ে আছে, তবে ব্যবধানটা খুব একটা বেশি নয়। বিবর্তনের এই দ্রুত গতির কারণে বৈশ্বিক চিত্র খুব তাড়াতাড়ি বদলে যেতে পারে। সুপারকম্পিউটিং এবং এআই-এর ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো "ডিজিটাল সার্বভৌমত্ত্ব"। প্রতিটি অঞ্চলই এখন নিজস্ব সম্পদ এবং সক্ষমতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।'
এআইয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখন তীব্র লড়াইয়ে মেতে রয়েছে। একে অপরের অগ্রগতি ঠেকাতে, ওয়াশিংটন এবং বেইজিং পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
গত এপ্রিল মাসে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রকাশিত '২০২৬ এআই ইনডেক্স রিপোর্ট' অনুযায়ী, এআই মডেল পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবধান 'কার্যত কমিয়ে এনেছে' চীন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে অধিকতর উন্নত এআই মডেল তৈরি করছে, সেখানে পেটেন্ট তৈরি এবং শিল্পক্ষেত্রে রোবট স্থাপনের দিক থেকে চীন অগ্রহণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডাইনোসরের পৃথিবীতে আসার অনেক আগে মহাকাশ থেকে টানা একটি অভার্যুন্দর উল্কা পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল। এবার সেই ঘটনার সঠিক সময় নির্ধারণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত উল্কাপাতের গর্তটি তৈরি হয়েছিল আনুমানিক ৩০০ কোটি বছর আগে। এটি ডাইনোসরের যুগের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি পুরোনো।
গবেষকদের দল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পিলবারা অঞ্চলের নর্থ পোল ডোম এলাকার শিলাখণ্ডের পরীক্ষা করেছেন। এই এলাকাটি বহু বছর ধরেই প্রাচীন উল্কাপাতের স্থান কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস এবং জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা আধুনিক খনিজ বিশ্লেষণ পদ্ধতির ব্যবহার করে সেখানে একটি বিশাল মহাজাগতিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন।
গবেষণায় প্রধান লেখক অধ্যাপক ক্রিস কার্কল্যান্ড বলেন, এই আবিষ্কার উল্কার আঘাতের সময় নিয়ে দীর্ঘকালীন বিতর্কের সমাধান ঘটিয়েছে। তার মতে, আজকের পরিচিত জীবনের বিকাশের অনেক আগে বিশাল গ্রহাণুগুলো পৃথিবীর মহাদেশ গঠন এবং ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি জানিয়েছেন, প্রচণ্ড এই সংঘর্ষের ফলে পাথরের ভেতরে এমন কিছু খনিজের পরিবর্তন ঘটে, যা গবেষকদের কাছে ‘খনিজ ঘড়ি’ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে, জিরকন নামের অত্যন্ত টেকসই ক্ষুদ্র খনিজের গঠন তীব্র তাপে পরিবর্তিত হয়েছিল। সেই পরিবর্তিত জিরকনকে বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগের এই ঘটনার সঠিক সময় নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
গবেষণার ফল নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীরা অ্যাপাটাইট নামের আরেকটি খনিজও পরীক্ষা করেন। প্রচণ্ড আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পাথরের ভেতর দিয়ে গরম তরল প্রবাহিত হওয়ার সময় এই খনিজ তৈরি হয়েছিল। এই স্বাধীন পরীক্ষাতেও একই বয়স পাওয়া যায়, যা গবেষণার ফলাফলকে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য করেছে।
গবেষকদের মতে, নর্থ পোল ডোম বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত উল্কাপাতের গর্ত এবং আর্কিয়ান ইওনের একমাত্র স্বীকৃত উল্কাপাত কেন্দ্র। পৃথিবীর ইতিহাসের এই প্রাথমিক সময়ে প্রথম দিকের মহাদেশগুলো গড়ে উঠছিল।
জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ভূবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক ড. সাইমন জনসন এই গবেষণার ফলাফলকে অসাধারণ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এ ধরনের যৌথ গবেষণা পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘How old is the North Pole Dome impact, Western Australia?’ শীর্ষক এই গবেষণাটি Geology সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল আদায় করেছে সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচ শুরুর ৪৫ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে বা দিক থেকে আসা বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেছেন রুবেন ভারগাস।
ফলে ১-০ ব্যবধানের সাথে এগিয়ে গেছে সুইসরা।
এরপর ৫৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়োহান মানজাম্বি।
দুর্দান্ত এক শট আদায় করেন তিনি।
প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা থাকলেও স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য।
ভ্যানকুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে ছিল সুইসরা।
তবে কানাডার শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেঙে গোল আদায় করতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে, স্বাগতিক কানাডাও বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি।
এদিকে ম্যাচের ৩১ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের জাকা দ্রুত ফ্রি কিক নেওয়ার সময় কানাডার লারিন কাছ থেকে বলটি সরিয়ে দেন।
এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আলোকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে মূল্যবৃদ্ধিসহ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে রাজধানীর বিএমএ ভবনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডরপ) সেমিনারটি আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ করে আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে ড্যাব।
তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে, ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন বলেন, বাজেট প্রস্তাবে সরকার সিগারেটের যৎসামান্য মূল্য বৃদ্ধি করেছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে। অথচ বাজারে বিক্রিত প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেটই এই স্তরের। ফলে ১০ শলাকার প্যাকেটে মাত্র ২ টাকা মূল্য বৃদ্ধি তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ মূল্যস্ফিতি গড়ে ৯ শতাংশের ওপরে।
তিনি বলেন, নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি শলাকার মূল্য দাঁড়ায় ৬.২ টাকা, অথচ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুচরা পর্যায়ে আগে থেকেই প্রতি শলাকা ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতি শলাকায় প্রায় ০.৮ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে, যার পুরোটাই করमুক্ত থেকে যাবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডরপ-এর তামাক প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কর আহরণ সহজের জন্য বাজারে বিদ্যমান সিগারেটের স্তর চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কারণ নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় একটি স্তরের দাম বৃদ্ধি পেলে ভোক্তারা সহজেই অন্য স্তরে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পায়।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ডরপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান, সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তাদের একাদশ প্রকাশ করেছে। কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন নেইমার সুস্থ হয়ে গেছেন, কিন্তু তাকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। নেইমার সম্ভবত নাম্বার টেনের জায়গায় ব্রাজিলের বেঞ্চে স্থান পেয়েছেন।
রাফিনহা ম্যাচে খেলতে পারবেন না, যা আগে থেকেই জানা ছিল। তিনি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে একটি চোট পেয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ডানপ্রান্তে সুযোগ পেয়েছেন রায়ান। বোর্নেমাউথের এই উইঙ্গার গত মৌসুমে ১৬ ম্যাচে ৭ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন।
ম্যাথুস কুনহা মাঝের প্রান্তে এবং ভিনিসিউস বামে খেলবেন। মাঝমাঠের দায়িত্ব পালন করবেন লুকাস পাকুয়েতা, ব্রুনো গুইমারেস ও ক্যাসেমিরো। ব্রাজিলের রক্ষণভাগে দানিলো, মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহাস, ডগলাস সান্তোস উপস্থিত থাকবেন। গোলপোস্টের নিচে তো একজনই রয়েছেন, অ্যালিসন বেকার।
ব্রাজিলের নির্বাচিত একাদশ হল: অ্যালিসন বেকার, দানিলো, মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহাস, ডগলাস সান্তোস, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস, লুকাস পাকুয়েতা, রায়ান, ম্যাথুস কুনহা এবং ভিনিসিউস জুনিয়র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ