প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আলোকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে মূল্যবৃদ্ধিসহ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে রাজধানীর বিএমএ ভবনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডরপ) সেমিনারটি আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ করে আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে ড্যাব।
তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে, ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন বলেন, বাজেট প্রস্তাবে সরকার সিগারেটের যৎসামান্য মূল্য বৃদ্ধি করেছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে। অথচ বাজারে বিক্রিত প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেটই এই স্তরের। ফলে ১০ শলাকার প্যাকেটে মাত্র ২ টাকা মূল্য বৃদ্ধি তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ মূল্যস্ফিতি গড়ে ৯ শতাংশের ওপরে।
তিনি বলেন, নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি শলাকার মূল্য দাঁড়ায় ৬.২ টাকা, অথচ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুচরা পর্যায়ে আগে থেকেই প্রতি শলাকা ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতি শলাকায় প্রায় ০.৮ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে, যার পুরোটাই করमুক্ত থেকে যাবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডরপ-এর তামাক প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কর আহরণ সহজের জন্য বাজারে বিদ্যমান সিগারেটের স্তর চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কারণ নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় একটি স্তরের দাম বৃদ্ধি পেলে ভোক্তারা সহজেই অন্য স্তরে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পায়।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ডরপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান, সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন