ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকায় ৬ রুটে ৮৬১ বাস নিয়ে শুরু হলো ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’


ঢাকায় ৬ রুটে ৮৬১ বাস নিয়ে শুরু হলো ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’

ঢাকায় ৬টি রুট ও একটি সার্কুলার রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু হলো।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, "দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে কাজ করছি। এটি দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। তবে বাস মালিক ও শ্রমিকদের অসহযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।"

আরও পড়ুন: ৪-৭ নভেম্বর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, সারা দেশে স্বল্পচাপ থাকবে

তিনি আরও বলেন, "ঢাকাবাসী একসময় মনে করেছিল, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আগে রাজধানীতে ৯৮টি বাস রুট ছিল। বিভিন্ন ব্যানারে বাস চলাচল করায় চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হতো, ঘটত দুর্ঘটনা। পরে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টিতে আনা হয়। এর মধ্যে আজ ছয়টি রুটে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।"

গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন। চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে ১৩৩টি বাস চালাবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। এছাড়া, ঘাটারচর থেকে ডেমরা এবং ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে বাস চালাবে ফোর স্টার লাইন। অন্যদিকে, ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত বাস পরিচালনা করবে পিএনপি সিটি সার্ভিস।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, "আগে ছয়টি রুটে ১৮টি আলাদা ব্যানারে বাস চলাচল করত। সেগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় আনা হয়েছে। এখন শৃঙ্খলার সঙ্গে বাস চলাচল করবে। এতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা কমবে। বাসচালক ও শ্রমিকেরা বেতনভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করবেন।"

তিনি আরও জানান, ২৫টি সার্কুলার বাস রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটে ছোট আকারের বাস চক্রাকারে চলাচল করবে। প্রতিটি বাস নির্ধারিত রুটে সারাদিন চলবে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে মিনি বাস পাওয়া গেলে বাকি চারটি রুট নিয়েও কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: শাহজালালে ১৬৫ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,৯১৭ যাত্রী

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, "আপাতত ছয়টি রুটে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩২টি রুটের বাসের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা রং ও নম্বর। বাসের সামনের ডিজিটাল প্লেট দেখেই যাত্রীরা বুঝতে পারবেন, কোন বাস কোন রুটে চলাচল করছে।"

পরিবহন মালিকরা জানান, নতুন ব্যবস্থায় চালকদের নির্ধারিত বেতন দেওয়া হবে। ফলে যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রবণতা কমবে।

এর আগে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। তবে অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত সংকটের কারণে লোকসানের মুখে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় উদ্যোগটি।

আরও পড়ুন: লালবাগে দুর্বৃত্তদের হামলায় ২৬ বছর বয়সী যুবক বিপ্লব নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের মান্তা সম্প্রদায় পেলো শেষ ঠিকানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


বরিশালের মান্তা সম্প্রদায় পেলো শেষ ঠিকানা

বরিশাল, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে নৌকায় বসবাসকারী একটি ভাসমান জনগোষ্ঠী হলো মান্তা সম্প্রদায়। এই মান্তা সম্প্রদায়ের নদীই তাদের ঘর, আর নৌকাই তাদের ঠিকানা। জীবিকার তাগিদে যাদের কাটে ভাসমান জীবন—মৃত্যুর পর স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে তাদের পড়তে হতো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।

স্থায়ী কবরস্থান না থাকার কারণে প্রিয়জন হারানোর শোকের সঙ্গে যুক্ত হতো দাফনের জায়গা খোঁজার অসহনীয় দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগ। বরিশালের নদীনির্ভর মান্তা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগ লাঘবে এবার এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একটি স্থায়ী কবরস্থান।

নদীর বুকে জীবন কাটানো মান্তা সম্প্রদায়ের সদস্যরা, মৃত্যুর পরও নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট, চরবাড়িয়া ও আশপাশের নদ-নদীতে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে মান্তা সম্প্রদায়। নৌকাকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এ জনগোষ্ঠীর অনেকেরই স্থায়ী বসতভিটা নেই। প্রতিকূল প্রকৃতি, আর্থিক সংকট ও নানা সামাজিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করেই কাটে তাদের প্রতিদিনের জীবন।

তবে জীবনের সংকটের পাশাপাশি মৃত্যুর পর দাফনের জায়গা না পাওয়ার কষ্ট ছিল আরও নির্মম। স্বজন হারানোর মুহূর্তে যেখানে শেষ বিদায় জানানোর কথা, সেখানে উপযুক্ত কবরস্থানের অভাবে পড়তে হতো অনিশ্চয়তায়। কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাত যে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিও তৈরি হতো।

মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্থায়ী কবরস্থানের অভাব ও শুধু জমির সংকট ছিল না; এটি ছিল মানবিক মর্যাদা, ধর্মীয় রীতি পালন ও স্বজনদের শেষ বিদায় জানানোর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

এক একর জমিতে আশার নতুন ঠিকানা:

বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় কবরস্থান স্থাপনের কাজ চলছে। উপজেলার সিংহেরকাঠী আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন খাসজমিতে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এ কবরস্থানটি।

উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নদীতে বসবাসকারী মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের স্বজনদের দাফনের জন্য পাবেন একটি নির্দিষ্ট স্থান। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মৃত্যুর পর প্রিয়জনকে সম্মানজনকভাবে সমাহিত করার সুযোগ তৈরি হবে তাদের জন্য।

শুধু মান্তা সম্প্রদায় নয়, কবরস্থানটি ছিন্নমূল যেকোনো মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নদীনির্ভর প্রান্তিক জনগণের পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের জন্যও এটি হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।

বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের সরদার জসিম সর্দার ও জাকির হোসেন বাসসকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীতে নৌকায় বসবাস করছি। আমাদের নিজেদের স্থায়ী কোনো বসতভিটা নেই। পরিবারের কেউ মারা গেলে তাকে কোথায় দাফন করব, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো। অনেক সময় দাফনের জন্য অন্যের জমির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। স্থায়ী কবরস্থান না থাকায় আমাদের এ কষ্ট দীর্ঘদিনের।

তারা বলেন, উপজেলা প্রশাসন আমাদের জন্য কবরস্থানের ব্যবস্থা করায় আমরা আনন্দিত। এটি চালু হলে মৃত্যুর পর অন্তত স্বজনদের সম্মানের সঙ্গে দাফন করতে পারব। আমরা চাই, দ্রুত কবরস্থানটির নির্মাণকাজ শেষ করে এটি ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।’

দ্রুত উদ্বোধনের আশা প্রশাসনের:

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বাসসকে বলেন, কবরস্থানটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মান্তা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ছিন্নমূল যেকোনো মানুষও কবরস্থানটি ব্যবহার করতে পারবেন। পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতাও কাম্য।

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে মান্তা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানের পথে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কবরস্থানটি পুরোপুরি চালু হলে এর প্রকৃত সুফল পাবেন সেই মানুষগুলো, যাদের জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে নদীর বুকে, আর মৃত্যুর পর স্বজনদের শেষ আশ্রয়টুকু নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা।

শেষ বিদায়ে মিলবে একটুকরো মাটি:

মান্তা সম্প্রদায়ের জীবন নদীর সঙ্গে বাঁধা। নদীই তাদের জীবিকা, নদীই তাদের বসবাসের পরিসর। কিন্তু নদীর বুকে ভাসমান এ জীবনেও মৃত্যুর পর স্বজনদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কবরস্থানের নিশ্চয়তা থাকা জরুরি।

সিংহেরকাঠীতে প্রায় এক একর জমিতে নির্মাণাধীন কবরস্থানটি চালু হলে সেই নিশ্চয়তার পথ খুলবে। দীর্ঘদিনের দাফন সংকট থেকে স্বস্তি পাবেন নদীনির্ভর প্রান্তিক জনগণের এ মানুষজন। প্রিয়জন হারানোর শোকের মুহূর্তে অন্তত দাফনের জায়গা খোঁজার অসহায়তা পোহাতে হবে না তাদের।

নদীতে যাদের জীবন কাটে, মৃত্যুর পর তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানা হবে একটুকরো মাটি—বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে তেমনই এক মানবিক প্রত্যাশার নাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে নানা আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ফেনীতে নানা আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মানবিক কাজে এগিয়ে আসার প্রত্যয়ে ফেনীতে উদযাপিত হলো ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে শহরের ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি ফয়জুল হক বাপ্পির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক।

সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক আসাদুজ্জামান দারা ও সাধারণ সম্পাদক নাসিম আনোয়ার জাকির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী ইউনিভার্সিটির সাবেক ট্রেজারার প্রফেসর তায়বুল হক, ফেনী সরকারি কলেজের সাবেক

অধ্যক্ষ প্রফেসর মুক্তার হোসেন,ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক, এয়াকুব নবী,
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল এবং জেলা জজ কোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন খান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মনির আহমেদ ভূঁইয়া ও পৃষ্ঠপোষক জালাল উদ্দিন বাবলু।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক এম এ খালেক বলেন, “হতদরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো মানেই মানবতার কাজ করা। সমাজের এই মানবিক কাজগুলো যারা করে, তারাই সমাজকে এগিয়ে নেয়। এই কাজে শুধু একটি সংগঠন নয়, সমাজের সব বিত্তবান ও সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে মানবিক কাজের অংশ হিসেবে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হুইল চেয়ার প্রদান, ১৭ জন অসহায় ব্যক্তিকে ৮০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং একজন নারীকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

পরে সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- কুইক রেসপন্স টিমের সুলতান মাহমুদ জয়, হাসপাতালে অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্য নয়ন চন্দ্র দাস, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জিয়া উদ্দিন, সেইফ রোডের মো. রকি এবং স্বেচ্ছাসেবী পরিবারকে সহায়তাকারী উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক কাফিল মাহমুদ।

অনুষ্ঠান শেষে কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ, সুফল পাবে ৮০০ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


খুলনায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ, সুফল পাবে ৮০০ পরিবার

ময়লা-আবর্জনা আর ফেলনা জিনিস হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং সেখান থেকে আসবে বহুমুখী সম্পদ। বাড়িঘর এবং বাজারের ফেলে দেওয়া বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে মূল্যবান জৈব সার ও মাছের খাবার। ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামে নির্মিত হচ্ছে একটি কমিউনিটিভিত্তিক আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, যা পরিবেশ দূষণের অবসান ঘটিয়ে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব আনতে সহায়তা করবে। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২১ লাখ টাকা, এবং এর সুফল ভোগ করবেন এলাকার ৮০০ পরিবারের প্রায় ৬০০০ মানুষ।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি গত ২১ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্ল্যান্টটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৫টি মডেল গ্রামের মধ্যে ডুমুরিয়ার টিপনা গ্রাম স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় টিপনা গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবারের বসতবাড়ি থেকে গৃহস্থালির বর্জ্য বা হাউজহোল্ড ওয়েস্ট সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তীতে গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক প্ল্যান্ট তৈরি করে সেই বর্জ্য রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাছের লার্ভা বা খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়ক বাই-প্রোডাক্ট তৈরি করে তা বিক্রি করা হবে। বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় পরিবারগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এটি বর্তমানে পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সফলতা সাপেক্ষে বাজার এলাকাগুলোতে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজের অর্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব স্বীকৃত ‘ত্রি-আর’ (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ) নীতি পুরোপুরি অনুসরণ করা হবে। ফলে বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমবে, তেমনি প্রতিটি উপাদানকে উৎপাদন কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িঘর ও বাজার থেকে পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে। এরপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে মানসম্মত জৈব সার।

এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে লার্ভা উৎপাদনের মাধ্যমে মাছের খাবার তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্লাস্টিকসহ অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে আনবে চমৎকার পরিবর্তন। এতে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনি কৃষি ও মৎস্যখাতে সাশ্রয়ী বিকল্প উপাদানের জোগান নিশ্চিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিতে জৈব সার এবং মৎস্য খাতে দেশীয় খাবার ব্যবহারের ফলে চাষিদের উৎপাদন খরচও অনেকাংশে কমে আসবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, আধুনিক এই প্ল্যান্টটি চালুর মাধ্যমে বর্জ্য সম্পদে পরিণত হবে। পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি এলাকার ৬ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, টিপনা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুক্ত হয়েছে আরও কিছু উদ্যোগ। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে গ্রামের ২৪০টি পরিবারে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট। পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ৫০টি ডিপ টিউবওয়েল। নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা এবং উন্নত স্যানিটেশন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনে দিয়েছে স্বস্তি।

এ বিষয়ে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বলেন, সরকারের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্জ্য থেকে সার ও মাছের খাবার উৎপাদনের এই মডেল শুধু টিপনা নয়, পুরো ডুমুরিয়ার জন্য এক বিরাট আশীর্বাদস্বরূপ। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি

মধ্যপ্রাচ্যে ২৬টিরও বেশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ইরানের হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এপি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর দাবি করা ১১৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান শুরুতে মার্কিন ঘাঁটির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করে। এসব ব্যবস্থা অকার্যকর করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, গুদাম, সেনাদের আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি বিমান রাখার হ্যাঙ্গারসহ একাধিক গুদাম ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই দেশের ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে সেনাদের জিমনেসিয়াম, দোকান, খাবারঘর ও গাড়ি রাখার স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।

এছাড়া বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান এবং একাধিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে ১৫টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের হামলায় মার্কিন বাহিনীর আগাম সতর্কতা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বহু বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো সুরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বজায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। র‍্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেনের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে এ ধরনের হামলা মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ শেষে ওই অঞ্চলে আগের মতো সামরিক উপস্থিতি পুনর্গঠন করবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%