বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে ঢাকার একটি আদালত।
আজ ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।
২০২৪ সালের ১৭ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/১২০(বি)/১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণামূলক একটিভ ট্রেডিং, গেম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কৃত্রিমভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম বাড়িয়ে কারসাজি করেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারান। এই পদ্ধতিতে সর্বমোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যা ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত।
এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন। এছাড়া তার নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মো. আবুল খায়ের (হিরু)’র শেয়ারবাজারে কারসাজি করা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লি., ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লি. ও সোনালী পেপারস লি.-এর শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। এতে সাকিব মার্কেট ম্যানুপুলেশনে সরাসরি সহায়তা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে শেয়ারবাজার থেকে আত্মসাৎ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মেঘদল’-এর গিটারিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ শরীফ শোয়েব বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ার কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার খরচ চালাতে মায়ের সঞ্চয়পত্র ভেঙে ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শোয়েব সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত সাত দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গুর পাশাপাশি তার ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘অবস্থা ভয়ানক। জানি না কবে বাসায় যেতে পারবো। দোয়া রাইখেন।’
অসুস্থতার মধ্যেও শোয়েব দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, ২০১১ সালে নিকেতনে মিউজিশিয়ান ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। সময়ের সঙ্গে তার কাজের পরিমাণ ও পরিধিও বেড়েছে। তবে সময়মতো পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রে তার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে তার বকেয়া অর্থ জমতে থাকে।
শোয়েবের দাবি, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞাপনচিত্র, টিভিসি, ওভিসি, ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমার সাউন্ড ও সংগীতের কাজের পারিশ্রমিক মিলিয়ে তার পাওনা অর্থের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কম নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে শিল্পীদের অসহায় অবস্থার কথাও বলেছেন এই গিটারিস্ট। তিনি আক্ষেপ করে লেখেন, ‘কিছুদিন আগে আমার স্টুডিও আপগ্রেড, এখন আমার চিকিৎসা ব্যয়ের খরচ চালাতে হচ্ছে মায়ের জমানো টাকা দিয়ে। কী বীভৎস বাস্তবতা! এই ইন্ডাস্ট্রি তার ট্যালেন্টদের যে জায়গায় রাখে, এই হচ্ছে তার নমুনা।’
বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্টদের শোয়েব শেষবারের মতো সময় দিয়েছেন। তবে তিনি পোস্টে এখনই কারও নাম উল্লেখ করেননি। অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত সময় দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি এই পোস্টে এখনই কাউকে মেনশন করছি না। এই মাসটা সময় দিচ্ছি আপনাদের। ধুলো পড়া ফাইলগুলো বের করে হালনাগাদ করে অক্টোবরের শুরুতে স্টুডিওতে চা খেয়ে যান। আর টাকাগুলো সসম্মানে পরিশোধ করে যান।’
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন শোয়েব। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমার দীর্ঘ লেখা পড়ার পরেও যদি আপনাদের টনক না নড়ে, তাহলে আরকি, নিজেদের ইমেজের যে রঙিন লুঙ্গি সেটা ত্যানা বানিয়ে দিব। খোদার কসম! পারলে সামলায়েন।’
উল্লেখ্য, ‘হাওয়া’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘রইদ’-এর মতো আলোচিত সিনেমার সাউন্ড ও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাশিদ শরীফ শোয়েব। তিনি সংগীতচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও কাজ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিরাইয়ে, সুনামগঞ্জের উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং তরুণ সমাজের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নেতা ও দিরাই উপজেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও একটি কাভার ভ্যান জব্দ করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, থ্রি-পিস ও একটি কাভার ভ্যান জব্দ করা হয়।
জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য ১ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এসব মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের বিস্তার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সজাগ, সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজব ছড়িয়ে গ্রামীণ সড়ক থেকে রাতের আঁধারে ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত জামায়াত নেতা গোলাম কুদ্দুস ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর নদীভাঙন ঠেকানোর দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনের অদূরেই তুলে নেওয়া ইটের স্তূপ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরবেলবানা এলাকায় মধুমতী নদীর তীরে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মানববন্ধনের স্থানটির পাশেই সড়ক থেকে তুলে নেওয়া পুরোনো ইটের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে মানববন্ধনের ছবি ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া গ্রামের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন গ্রামীণ সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙনে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাবে—এমন তথ্য ছড়িয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ ডাবল ইটের সলিং সড়কের ইট উপড়ে ফেলা হয়। পরে এসব ইটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইট ট্রলারযোগে মধুমতী নদীর ওপারে চরবেলবানা এলাকায় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী রবিউল মিয়া, আলামিন মিয়া ও জহুর মোল্যাসহ কয়েকজনের অভিযোগ, ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গোলাম কুদ্দুসের পক্ষ থেকে নদীভাঙনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়। তাদের দাবি, মানববন্ধনের স্থানটির পাশেই তুলে নেওয়া ইটের স্তূপ দেখা গেছে। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে কিছু ইট আগের স্থানে ফেরত দেওয়া হয় বলেও তারা জানান।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার চরবেলবানা এলাকায় মধুমতী নদীসংলগ্ন তৈয়বুর রহমানের বাড়ির সামনে কয়েকটি স্থানে পুরোনো ইটের এলোমেলো স্তূপ দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে গোলাম কুদ্দুস বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজের প্রয়োজনে ইট থাকতেই পারে। তবে ওগুলো কার ইট, সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ