০১:২১ এম
গবেষণা ও সাংবাদিকতার ভাষায় রাশিয়ায় ‘কালো আগস্ট’ বা ‘আগস্টের অভিশাপ’ বলে একটি শব্দ ব্যবহৃত হয়ে আসছে গত কয়েক দশক ধরে। গ্রীষ্মের শেষ সপ্তাহগুলোতে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নাটকীয় সংকটকে বোঝাতেই মূলত শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক ইতিহাস যাচাই করলে দেখা যায়, আগস্ট মাসে রাশিয়ায় সত্যিই বিস্ফোরক ঘটনা ঘটেছে যা প্রত্যাশিত ছিল না।
এই গ্রীষ্মকাল রাশিয়াতে যেন একটি বিষণ্ণ অধ্যায় হিসেবে হাজির হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি সেভাবে চোখে পড়ছে না। বরং, ইউক্রেনের হামলার ফলে তেল শোধনাগার এবং ই-কমার্স গুদামগুলোতে কালো ধোঁয়া উড়ছে। জ্বালানি পাম্পে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং নতুন করে সেনা সমাবেশের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ জনতার মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মনে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি আরেকটি ‘কালো আগস্ট’? ৩৫ বছর আগে এই আগস্টেই মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের আগস্টে এ দেশে এক বড় আকারের আর্থিক সংকট দেখা দেয় এবং ১৯৯৯ সালে চেচেন যুদ্ধ শুরু হয়, যা ভ্লাদিমির পুতিনকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত
পুতিনের জন্য আগস্ট কখনোই খুবটা স্বস্তির ছিল না। ২০০০ সালের আগস্টে সাবমেরিন ‘কুরস্ক’ ডুবে ১১৮ জন নাবিকের মৃত্যু হল এবং ২০০৮ সালে প্রতিবেশীদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দেশটি।
নির্বাসিত ধারাভাষ্যকার ইলিয়া ভারলামভের অভিমত হচ্ছে, অর্থনীতি বর্তমানে বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। জ্বালানি সমস্যার মুখোমুখি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। তবে রাষ্ট্রপ্রধান পুতিন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেছেন যে, হামলার ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না। সরকার দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত গুদাম পুনর্নির্মাণ করবে। কিন্তু সাধারণ জনগণের পকেটে এর প্রভাব যথেষ্ট পড়ছে।
যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হচ্ছে। সেখানে নির্বাচনের দাবি উঠলেও সামরিক আইন প্রক্রিয়ায় তা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবুও দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে, পুতিনের দেশে সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্যমান। বিরোধী রাজনীতিকরা দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাদণ্ড পাচ্ছেন এবং নির্বাচনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারাবন্দী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যুর পর, স্থানীয় সুশীল সমাজ যেন একেবারে নীরব হয়ে পড়েছে। এই ঘটনা কাকতালীয় হলেও সত্য যে, নাভালনিও ২০২০ সালের এক আগস্টেই বিষক্রিয়ার শিকার হয়ে ছিলেন। সব মিলিয়ে, রাশিয়ায় আগস্ট এক কঠিন সময় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: আম্বানির শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন