বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৩৪ পি.এম
বান্দরবান, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, : বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা এবং নবজাতকের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার ১৯ জন শিক্ষার্থীকে দুই সপ্তাহব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে, গর্ভাবস্থার ঝুঁকি ও বিপদ চিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, নবজাতকের পরিচর্যা, বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান, সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ, স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তারা নিজ নিজ পাড়া ও গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগাতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় তিনি প্রশিক্ষণটি সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা, চিকিৎসক, প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাড়াভিত্তিক প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকার মা ও শিশুদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
তারা আরও জানান, পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : সাগরকন্যা কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং সৈকতের পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
সভায় সৈকতের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সেবার মানোন্নয়ন, কার্যকর সৈকত ব্যবস্থাপনা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ, ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল হোসেনসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবলু, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, মহিপুর ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মন্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল হক খান এবং কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন দাসও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সৈকতের পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কুয়াকাটাকে আরো আকর্ষণীয়, পরিবেশবান্ধব এবং পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এর আগে জেলা প্রশাসক কুয়াকাটার সৌন্দর্যবর্ধন ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ সম্প্রসারণে কয়েকটি উদ্যোগের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সড়কে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছ রোপণ, পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য একটি লাইব্রেরি চালু, ডিসি লেকের সৌন্দর্যবর্ধন এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনের শেড উদ্বোধন উল্লেখযোগ্য।
জেলা প্রশাসক বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার বাংলাদেশ পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানাকে ঢাকায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছ।
এ ছাড়া সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার করা হয়েছে। রাজশাহীর বর্তমান পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদকে ঢাকায় পুলিশ অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্ঘটনার ফলে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মাহমুদুল হাসান মুয়াজ (২২) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের সময়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।
মাহমুদুল হাসান মুয়াজ রাজধানীর খিলগাও থানাধীন গোড়ান এলাকার মাসুম আহমদের সন্তান। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
নিহতের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার তার পরীক্ষা থাকায় মাহমুদুল হাসান মুয়াজ নিজ বাসা গোড়ান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে নরসিংদী সরকারি কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রূপগঞ্জের তারাব বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছানোর পর, তিনি একটি চলন্ত ট্রাককে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন এবং ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়েন, ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ট্রাকটিকেও আটক করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিনা ময়নাতদন্তে নিহতের মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই অভ্যুত্থান একটি আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) আয়োজিত ‘জাগ্রত জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. রফিকূল ইসলাম বলেন, হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে এক ভয়ঙ্কর খুনি ও ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন এক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনচেতা মানুষের দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সূচনা ২০২৪ সালে নয়; এর শিকড় আরও অনেক গভীরে। ১/১১-এর পর গণতন্ত্র হরণ এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আওয়ামী লীগের হাতে দেশকে তুলে দেয়ার মধ্য দিয়েই এই আন্দোলনের সূত্রপাত বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, আন্দোলন শেষ হয়েছে ২০২৪ সালে এসে, কিন্তু তার শুরুটা একযুগেরও বেশি আগের।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারী শাসন ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আন্দোলন করেছেন। এ সময়ে বহু নেতাকর্মী নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য মামলার কারণে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
‘তাদের আত্মত্যাগই জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আবু সাঈদ, ওয়াসিম ও মুগ্ধদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি’, যোগ করেন তিনি।
এ সময় দীর্ঘ সময় গুমের শিকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ইলিয়াস আলী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম, ছাত্রনেতা জনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, গুমের শিকার ৬০০-এর বেশি নেতাকর্মীর কথা ভুলে গেলে চলবে না।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৯ জন, গুম হয়েছেন ৬৭৭ জন এবং কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৪৮ জন। এসব ঘটনার অধিকাংশ ভুক্তভোগী বিএনপির নেতাকর্মী বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলায় ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৪৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এত ব্যাপক নির্যাতনের নজির বিরল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ