প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বান্দরবান, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, : বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা এবং নবজাতকের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার ১৯ জন শিক্ষার্থীকে দুই সপ্তাহব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে, গর্ভাবস্থার ঝুঁকি ও বিপদ চিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, নবজাতকের পরিচর্যা, বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান, সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ, স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তারা নিজ নিজ পাড়া ও গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগাতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় তিনি প্রশিক্ষণটি সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা, চিকিৎসক, প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাড়াভিত্তিক প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকার মা ও শিশুদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
তারা আরও জানান, পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন