ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৩ কোটি টাকার সেতুতে কাঠের সিঁড়ি ব্যবহার, লাখো মানুষের ভোগান্তি


১৩ কোটি টাকার সেতুতে কাঠের সিঁড়ি ব্যবহার, লাখো মানুষের ভোগান্তি

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে ব্যবহারের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক নেই। এর ফলে, যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষেরও নদী পার হওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি কাঠের সিঁড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১৩ মিটার। নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে।

কিন্তু সেতুর সঙ্গে সড়কের সংযোগ না থাকায় এটি এখনো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও জনগণ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। বরং সেতুর অবকাঠামো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

সেতুটি চালু না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। জরুরি প্রয়োজনে তাদের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়ক ধরে অনেক দূরের পথ ঘুরে যেতে হয়। এই বিকল্প পথ সময়সাপেক্ষ এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ।

পাহাড় ও বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া এই সড়কের দৈর্ঘ্য ১৭ কিলোমিটার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলাতেও এখানে বনদস্যুদের উৎপাত চলে। যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে মানুষকে জিম্মি করার ঘটনা এখানে নতুন নয়। অনেক সময় যাত্রীদের গভীর বনে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। দস্যুদের গুলিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

এই ঝুঁকির কারণে সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। অর্থাৎ রাতে হঠাৎ কারও অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে এলাকার মানুষের হাতে তেমন কোনো বিকল্পই থাকে না।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতুটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। মানুষ সেতুতে ওঠানামা করছেন কাঠের সিঁড়ি দিয়ে। স্থানীয় কৃষক সাদেকুর রহমান জানান, মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য গত জুলাই মাসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সিঁড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এলাকার উৎপাদিত ফসল এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীদেরও ঝুঁকি নিয়ে এই সিঁড়ি দিয়ে সেতুতে তুলতে হয়।

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সিঁড়িটি ভেঙে গেলে পারাপার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তিন ইউনিয়নের মানুষের সুবিধার জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে সেতু বানালেও তা কোনো কাজে আসছে না।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন শিক্ষার্থীরা। ঈদগড়ের স্কুলশিক্ষার্থী মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, প্রতিদিন দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এই সিঁড়ি দিয়ে সেতু পার হয়ে ঈদগাঁও ও রামু সদরের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যান। বৃষ্টি হলে ভেজা কাঠের সিঁড়ি পার হওয়া বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। তার প্রশ্ন, এত দিনেও কেন সেতুটি চালু হলো না। একটি আনুষ্ঠানিক সংযোগ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিন শিশু-কিশোরদের এভাবে ঝুঁকি নিয়ে পড়তে যেতে হচ্ছে, এটি প্রশাসনের জন্যও ভাবনার বিষয়।

স্থানীয়রা মনে করেন, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। ঈদগড় ও গর্জনিয়ার বাসিন্দা আবুল কালাম ও আবদুর রহিমের মতে, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং ঠিকাদারের অবহেলার কারণে সেতুটি পাঁচ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। ব্যবহার না হওয়ায় সেতুর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে জনগণের করের টাকায় তৈরি একটি সম্পদ অযত্নে ক্ষয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের ডাকাতি কমে আসবে। তখন হাজারো মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, যাতায়াত খরচও অনেক কমবে। অর্থাৎ সেতুটি শুধু যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবেই নয়, এলাকার নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং

সংযোগ সড়ক না হওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয় প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকটি বাধার কথা বলছেন। ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জানান, সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে। এতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ওপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যান। এতে প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, সেতুটি দ্রুত চালুর জন্য তৎপরতা চলছে। তাঁর ভাষ্য, সেতু চালু করা এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় আগের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাকি কাজের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর আশ্বাস, নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

তবে এলাকাবাসীর কাছে এই আশ্বাস নতুন নয়। পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করা মানুষের মনে প্রশ্ন, নতুন দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কত সময় লাগবে। জমি-জটিলতার সমাধান না হলে নতুন ঠিকাদারও একই বাধার মুখে পড়তে পারেন। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দরপত্র আহ্বান যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ

জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আগে নিষ্পত্তি করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে ১৩ কোটি টাকার এই সেতু আরও কিছুদিন কাঠের সিঁড়ির ওপর ভর করেই কোনোরকমে টিকে থাকবে, আর ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হবে হাজারো মানুষকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার প্রবাসী‌দের জন্য বি‌শেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করছে: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


সরকার প্রবাসী‌দের জন্য বি‌শেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করছে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আদালত গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, "আমাদের শ্রম আদালত রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ শ্রম আদালত গঠন করা হয়েছে, শ্রমিক আইন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রবাসীরা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পর যখন পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা ফেরত চাইতে যান, কিংবা তাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়, তখন বছরের পর বছর তারা (প্রবাসীরা) আমাদের আইনজীবীদের পকেটে টাকা দেন, মামলা করতে থাকেন, তাদের জীবন শেষ হয়ে যায় মামলা টেকঅ্যাপ (বিচারক কর্তৃক শুনানির জন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলার কার্যক্রম) করতে গিয়ে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রবাসীদের জন্য আমরা বিশেষ আদালত গঠন করব বিশেষ করে ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে। যে আদালত শুধুমাত্র প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের সম্পদ সহায়তা দিতে পারবে, যেকোনো ধরনের প্রবাসী মামলা এই আদালত দেখবে, বিশেষায়িত আদালত।"

তিনি উল্লেখ করেন, "এই পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি এবং আশা করি এটা আমরা অচিরেই শুরু করতে পারব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে ‘এল ক্লাসিকো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


এবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে ‘এল ক্লাসিকো’

ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের ম্যাচের উন্মাদনা কাটতে না কাটতেই কলকাতায় আবারও একটি বড় চমক সামনে আসছে। শহরের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্বৈরথ ‘এল ক্লাসিকো’। রাজ্য ক্রীড়া দপ্তরের এই বিশাল উদ্যোগে ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৫ নভেম্বর যুবভারতীতে মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। তবে এখানে বর্তমান দলের তারকারা অংশ নেবেন না, বরং শীতের শুরুতে কলকাতার মাঠে প্রদর্শনী ম্যাচে দেখা যাবে দুই ক্লাবের একঝাঁক কিংবদন্তি ফুটবলারকে। এই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেন পর্তুগালের কিংবদন্তি তারকা লুই ফিগো, যিনি অন্যতম মূল আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই হিসেবে পরিচিত এই ‘এল ক্লাসিকো’। রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা ম্যাচের উন্মাদনা শুধু স্পেনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বজুড়ে। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ঐতিহাসিক দ্বৈরথ পেরিয়ে এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও লামিনে ইয়ামালদের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ভারতে এই দুই ক্লাবের বিশাল ভক্তশ্রেণি রয়েছে। এবার তারা ঘরের মাঠেই প্রিয় ক্লাবের সাবেক সুপারস্টারদের চোখের সামনে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতে লিজেন্ডদের ‘এল ক্লাসিকো’ এবারই প্রথম হচ্ছে না। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে নবি মুম্বাইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই দলের সাবেক তারকারা; যেখানে রিয়াল ২-০ গোলের জয় পেয়েছিল। তবে কলকাতার এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে উভয় দলের কোন কোন কিংবদন্তি মাঠে নামবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

সাধারণত রিয়াল মাদ্রিদের লেজেন্ডস স্কোয়াডে লুই ফিগো, ইকের কাসিয়াস, পেপে এবং রবার্তো কার্লোসদের মতো মহাতারকাদের দেখা যায়। অন্যদিকে বার্সেলোনা লেজেন্ডসে রিভালদো, রোনালদিনহো ও কার্লেস পুয়োলদের মতো বিশ্বজয়ী তারকারা রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে তাদের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে ম্যাচটির টিকিটের মূল্য হাতের নাগালেই রাখা হবে বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রজনীকান্ত: নিজেকে এখনও বাস কন্ডাক্টর হিসাবেই দেখি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


রজনীকান্ত: নিজেকে এখনও বাস কন্ডাক্টর হিসাবেই দেখি

দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার রজনীকান্ত অভিনীত এবং নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত ‘জেলার ২’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এই সিনেমার মুক্তির আগে নির্মাতারা একটি বিশেষ ‘সুপার শো’র আয়োজন করেন। ওই অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান অভিনেতা রজনীকান্ত সিনেমার কলাকুশলীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে রজনীকান্তের বিনয়ী স্বভাবের রহস্য জানার চেষ্টা করেন পরিচালক নেলসন দিলীপকুমার। তিনি রজনীকান্তকে প্রশ্ন করেন, তার এই বিনয় কি স্বাভাবিক, নাকি তিনি অন্যদের কথা ভেবে নিজেকে এভাবে ধরে রাখেন? এই প্রশ্নের জবাবে রজনীকান্ত জানান, "দেখুন, আমি তারকা হলেও অভিনয়টা করতে খুব ভালোবাসি। কিন্তু তারচেয়েও বেশি ভালো লাগত, কন্ডাক্টরের কাজ করতে।"

তিনি আরও বলেন, "কারণ পাঁচ বছর বাস কন্ডাক্টরের চাকরি করেছি। আজও সেই কাজের কথা মনে পড়ে। সত্যিই ভীষণ মনে পড়ে। নিজেকে কখনো তারকা বলে ভাবতে পারিনি।"

বর্ষীয়ান অভিনেতা আরও বলেন, "এই তারকাখ্যাতি, যশ ও প্রতিপত্তি— সবই ঠিক আছে। কিন্তু সত্যি বলতে— নিজেকে কন্ডাক্টর হিসেবে ভাবতেই বেশি ভালো লাগে। সে কারণে প্রায়ই বেঙ্গালুরু যাই। কন্ডাক্টরদের নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। আমিও নিজেকে বাস কন্ডাক্টর হিসেবেই দেখি। তাই আমার মতো একজন বাস কন্ডাক্টর আপনার মতো বড় ব্যক্তিত্বের সামনে আর কীভাবেই বা আচরণ করবে?"

রজনীকান্তের এই বক্তব্য শুনে নেলসন দিলীপকুমার হাসতে শুরু করেন। ছবির দলের অন্যান্য সদস্যরাও হাততালি দিয়ে তাকে উৎসাহিত করেন। পরিচালক মন্তব্য করেন, "স্যার, আমি জানতাম আপনি এমনই কিছু একটা বলবেন।"

উল্লেখ্য, বর্ষীয়ান অভিনেতা রজনীকান্ত বেঙ্গালুরুতে এক মারাঠী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তিনি রামকৃষ্ণ মঠে বেদশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখান থেকেই তার মধ্যে আধ্যাত্মিকতার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। মঠের নাটকে অভিনয় করতে করতেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায় তার। পড়াশোনা শেষ করার পর জীবিকার তাগিদে তিনি নানা ধরনের কাজ করেন, যার মধ্যে রয়েছে কুলি থেকে বাস কন্ডাক্টর— কাজের অভিজ্ঞতার তালিকায় রয়েছে অনেক কিছুই। পরবর্তীতে মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করার মাধ্যমে অভিনয়ের জগতে প্রবেশের সুযোগ পান তিনি। পরিচালক কে বালচন্দ্রের নজরে পড়ার পরই বদলে যায় তার জীবনের গতিপথ। ছবিতে অভিনয় করার জন্য তামিল ভাষাও শিখেছিলেন রজনীকান্ত। তার পরের ইতিহাস সবারই জানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর পেছনে জামায়াতের হাত: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ পি.এম


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর পেছনে জামায়াতের হাত: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর অ্যাক্টিভিজম জামায়াতের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

তিনি সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "গতকাল পোস্ট করেছিলাম যে প্রতারক উজ্জ্বল তথা নাম বদলে ফেলা আয়াসকে দিয়ে জামায়াতের পক্ষে অ্যাক্টিভিজম করান জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির।"

তিনি আরও লেখেন, "কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর অ্যাক্টিজমও জামায়াত করিয়েছে। আজকে (সোমবার) অবশ্য চুনকালি লাগানোর পক্ষে বিবৃতি দিয়ে জামায়াত এই দায় নিয়েই নিল। আর এ জন্য নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য আমি জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাই। এখন অপেক্ষায় রইলাম এনসিপির অবস্থান দেখার জন্য।"

রাশেদ খান তার পোস্টে আরো উল্লেখ করেন, "জামায়াতের কাছে মেজর আখতারুজ্জামান যেমন একজন জুলাইযোদ্ধা, ঠিক প্রতারক উজ্জ্বলও একজন জুলাইযোদ্ধা! এভাবে জুলাইযোদ্ধা শব্দটিকে বিতর্কিত করেছে জামায়াত ও মববাজরা।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%