০৭:২১ এম
একুশ শতকের অন্যতম সেরা এবং ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান তার অনন্য জীবনধারা দিয়ে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রতিনিয়ত বিস্মিত ও বিস্মিত করে চলেছেন। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব এবং ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডজয়ী এই প্রতিভাবান পরিচালক প্রকাশ করেছেন তার প্রযুক্তিমুক্ত জীবনযাপনের গোপন কথা।
তিনি বলেছিলেন স্পষ্টভাবে যে, তার নিজস্ব কোনো স্মার্টফোন নেই, এবং তিনি কোনো ইমেইল অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করেন না। প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক যুগে স্মার্টফোন না থাকার কারণে তিনি কেবল একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন বা ‘ডাম্ব ফোন’ ব্যবহার করেন। এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, স্মার্টফোনের ক্ষতিকর আসক্তি ও মনঃসংযোগের ব্যাঘাত থেকে দূরে থাকতেই তার এই সিদ্ধান্ত।
প্রখ্যাত টক শো ‘দ্য টুনাইট শো উইথ জিমি ফ্যালন’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নোলান ডিজিটাল মাধ্যম থেকে নিজেকে দূরে রাখার বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটির একটি বিশেষ অংশ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থাপক জিমি ফ্যালন নোলানের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমার সেটে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। তাও নয়, স্বয়ং নোলানের নিজেরই কোনো স্মার্টফোন নেই এবং তিনি কোনো ইমেইল অ্যাড্রেসও ব্যবহার করেন না—কথাটি কতটা সত্য? উপস্থাপকের এই সরাসরি প্রশ্নের জবাবে, প্রখ্যাত এই পরিচালক হাসিমুখেই স্বীকার করে নেন যে এই তথ্যটি পুরোপুরি সত্য।
আরও পড়ুন: জয়ের বাবার সঙ্গে স্পিকারের পুরোনো ছবি, ভক্তদের মন্তব্য ‘এবার জমি নিশ্চিত’
ফ্যালন তখন অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, কোনো ধরনের ইমেইল বা টেক্সট বার্তা আদান-প্রদান ছাড়াই এত বিশাল বাজেটের সব মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র কীভাবে পরিচালনা করেন তিনি? জবাবে, নোলান তার দৈনন্দিন কাজের এক চমৎকার চিত্র তুলে ধরে বলেন, তার চারপাশে সব সময়েই একদল সহায়তাকারী মানুষ থাকেন, যারা তাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেন। ফলে মানুষ বা সহকর্মীরা যে প্রয়োজনীয় তথ্য বা সংবাদ তার কাছে পৌঁছাতে চান, তা থেকে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বা দূরে রাখা তার জন্য আসলে বেশ কঠিন। অর্থাৎ, ইমেইল না থাকলেও কাজের কোনো তথ্যই তার কাছে পৌঁছাতে আটকায় না।
কথোপকথনের একপর্যায়ে নোলানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কখনো কোনো স্মার্টফোন ব্যবহারের আকর্ষণ বোধ করেন কি না বা স্মার্টফোন কেনার প্রলোভন জাগে কি না। উত্তরে নোলান বলেন, যখন তিনি কোনো কাজে ভ্রমণ করেন বা বাইরে যান, তখন তার কাছে কেবল একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন বা ‘ডাম্ব ফোন’ থাকে এবং এই ব্যবস্থাটিই তার কাছে দুর্দান্ত মনে হয়। তিনি স্পষ্ট স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, যদি তার কাছে একটি স্মার্টফোন থাকত, তবে তিনি এতে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়তেন। এই আসক্তির কারণে জীবনের সেই মূল্যবান সময়গুলো হারিয়ে যেত, যেগুলোর মাধ্যমে তিনি সাধারণত চুপচাপ জানালাপথে বাইরে তাকিয়ে নতুন কোনো সিনেমার ভাবনায় কাটাতে ভালোবাসেন।
ক্রিস্টোফার নোলানের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও কালজয়ী সিনেমা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার নতুন অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’। এই চলচ্চিত্রটি প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের অমর মহাকাব্য ‘ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে, যেখানে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, লুপিটা নিয়ংও, সামান্থা মর্টন, জেনডায়া এবং চার্লিজ থেরন।
নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকার এই আলাদা স্বভাবের কারণে সিনেমার সেটে অনন্য এক সৃজনশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন এই মহান পরিচালক।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন