ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় বাজেটে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও চলচ্চিত্র উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব


জাতীয় বাজেটে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও চলচ্চিত্র উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব

বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি মানসম্পন্ন স্টুডিও তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই প্রস্তাবগুলো বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট উপস্থাপনায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাজেটে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি মানসম্পন্ন স্টুডিও তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকার ক্রমান্বয়ে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সেই লক্ষ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭.২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার এবং পরিচালন ব্যয় চলতি অর্থবছরের ৭২.৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে অপরিহার্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাত ও তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৯.৭৪ শতাংশ। ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৮.৬৬ শতাংশ। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৬.১৩ শতাংশ। সামাজিক খাতের বর্ধিত ও সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ০২ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে। চলতি ২০২৩-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ব্যাপকভাবে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ঋণ পরিশোধ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় অত্যধিক পরিমাণে বেড়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, এতে বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ২.৯ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৪.০৫ শতাংশ হয়েছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়ন করছে বলেও জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত হবে, অর্থ প্রবাহ বাড়বে এবং এর মাল্টিপ্লায়ার প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু ঘটেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু ঘটেছে

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের শগুনিয়া গ্রামে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় রাফিয়া নামের দেড় বছর বয়সী একটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাফিয়া সেই গ্রামের আব্দুল বারিকের কন্যা বলে জানা যায়।

নিহত শিশুর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সকালবেলায় পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে শিশুটি বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে যায়। পরে কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে ওই ডোবার পানি থেকে রাফিয়াকে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মান্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের উত্তর বাদে কনুড়া গ্রামে, বাড়ির পাশে পুকুরে সেচ মেশিন স্থাপন করে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাজমুল হাসান সোহেল (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল ওই গ্রামের আলতু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সোহেল বাড়ির পাশে পুকুরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক সেচ মেশিন স্থাপন করছিলেন। যখন তিনি মেশিনে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে যাচ্ছিলেন, তখন অসাবধানতাবশত একটি ছিদ্রযুক্ত তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

দুর্ঘটনার সময় তার চিৎকার শুনে পাশে থাকা ভাই ফেরদৌস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মেইন সুইচ বন্ধ করেন। এরপর সোহেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক, ডা. ইয়াসির হাবিব, তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলমাকান্দা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার বলেন, 'আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হবে আগামী ৭ বছরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হবে আগামী ৭ বছরে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি এই প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে করেন।

নতুন অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে গণ্য। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১০ হাজার ৫ শত ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও তিনি রাখেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য রেখে আগামী ৭ বছরে বাস্তবায়ন করা হবে।

এই প্রকল্পটি দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত করবে। চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা এই সুবিধার আওতায় আসবে। আমাদের সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগও নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি তথ্য দিয়েছেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এসংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭ দশমিক ২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সমন্বিত ও সার্বিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লবণাক্ততা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ৫ বছরে ২০,০০০ কিলোমিটার “নদী-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন” কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে কত আয় করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


বিশ্বকাপে কত আয় করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো?

ফিফা বিশ্বকাপ কেবল মাঠের উত্তেজনা নয়, আয়োজক দেশগুলোর জন্য এটি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করে। ২০২৬ আসর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। তাই অনেকের দৃষ্টি এখন পুরোদমে এই বিশ্বকাপে আয়োজকদের আসল আয় কত হবে সেটির দিকে।

ফুটবলকে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে চলে আসা ৩২ দলের কাঠামো এবার ভেঙে দিয়েছে ফিফা। ফলে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ হবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। এতে থাকবে ৪৮টি দল, তিনটি স্বাগতিক দেশ এবং ১৬টি ভেন্যু, যেখানে ৩৯ দিনে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

কিন্তু এই সম্প্রসারণকে শুধু খেলার উন্নয়ন হিসেবে দেখলে চিত্রটা পুরোপুরি ধরা পড়ে না। কারণ একই সঙ্গে ম্যাচ, দর্শক এবং সম্প্রচারের পরিসর বাড়িয়ে ফুটবল এখন আরও বড় এক বাণিজ্যিক মঞ্চে পরিণত হচ্ছে।

বর্ধিত টুর্নামেন্ট ফরম্যাটের কারণে ফিফা আশা করছে, বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৮.৯ বিলিয়ন ডলার আয় হবে। এই আয় মূলত আসবে সম্প্রচার স্বত্ব, বিনিয়োগ, টিকিট বিক্রি এবং অতিথি সেবা থেকে।

যুক্তরাষ্ট্র ১১টি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করবে, আর মেক্সিকো ও কানাডা যথাক্রমে ৩টি এবং ২টি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করবে। মেক্সিকো মোট ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে, যার মধ্যে থাকবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচ। এছাড়া সেখানে তিনটি নকআউট পর্বের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

কানাডাও মোট ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে। স্বাগতিক কানাডার প্রথম ম্যাচ হবে ১২ জুন টরন্টোতে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। সেখানে তিনটি নকআউট ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

বাকি ৭৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এর প্রারম্ভ হবে ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দল ও প্যারাগুয়ের ম্যাচ দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে সব ম্যাচ আয়োজন করবে। এর মধ্যে সেমিফাইনাল এবং ফাইনালও থাকবে, যা অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

ফিফার ২০২৩–২৬ বাণিজ্যিক চক্রের প্রাথমিক বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছিল ১১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সংস্থাটি ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে শেষ হওয়া চার বছরের বাণিজ্যিক চক্রে রেকর্ড আয়ের পথে রয়েছে। তারা আশা করছে, এই পুরো সময়ের মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এর মধ্যে প্রায় ৮.৯ বিলিয়ন ডলার একা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্ট থেকেই আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পূর্বাভাস আগের চক্রগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ দিয়ে শেষ হওয়া চক্রের তুলনায় আয় প্রায় ৭২ শতাংশ বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ২০১৫–১৮ সময়ের তুলনায় এটি দ্বিগুণেরও বেশি। আর যেহেতু ফিফা কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে পূর্বাভাসের চেয়ে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় বেশি করেছিল, তাই চূড়ান্ত আয় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুরিখ-ভিত্তিক সংস্থাটি আশা করছে, সম্প্রচার স্বত্ব তাদের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে থাকবে এবং এটি প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অবদান রাখবে। বিনিয়োগ থেকে আয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার, যা নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাড়বে। এর মধ্যে সৌদি আরবের জ্বালানি জায়ান্ট আরামকোর সঙ্গে একটি চুক্তিও রয়েছে।

তবে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা আয় আসবে টিকিট বিক্রি ও অতিথি সেবা থেকে, যা ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে শুধু ৬৪ ম্যাচ থেকে ১০৪ ম্যাচে টুর্নামেন্ট সম্প্রসারণ নয়, বরং টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া এবং সেকেন্ডারি টিকিট বাজারের বৃদ্ধিও ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয় ফিফার পুরো চার বছরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর একটি অংশ সংস্থাটির আর্থিক রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও ব্যবহৃত হবে, যা কাতার বিশ্বকাপের পর ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে ২০২৫ সালের শেষে কমে ২.৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফিফা সাধারণত প্রতিটি চক্রে একটি নির্দিষ্ট উদ্বৃত্ত লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিকে সমর্থন দেয়।

তিন দেশের বিশ্বকাপ অর্থনৈতিক দিক থেকে আগের টুর্নামেন্টগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন একটি মডেল তৈরি করে। ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিন দেশে আয়োজিত হওয়ার কারণে আর্থিক চাপ এককভাবে কোনো একটি দেশের ওপর না পড়ে একাধিক সরকার ও শহরের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এর ফলে নতুন করে বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনও কমে আসে এবং আয়োজকরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপরই বেশি নির্ভর করতে পারেন।

এই বহুদেশীয় ফরম্যাট ফিফার বাণিজ্যিক পরিসরও আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ স্পনসর, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদাররা একসঙ্গে তিনটি বড় ভোক্তা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়।

তবে এই মডেলের সঙ্গে জটিলতাও আছে। দল, দর্শক এবং মিডিয়া সংস্থাগুলোকে সীমান্ত পেরিয়ে ভ্রমণ করতে হয়, বিভিন্ন সময় অঞ্চলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় এবং আগের আসরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।

ফিফার দৃষ্টিতে সুবিধাগুলো স্পষ্ট—আরও বেশি ম্যাচ, বড় দর্শকসংখ্যা এবং বেশি বাণিজ্যিক সুযোগ। কিন্তু স্বাগতিক শহরগুলোর জন্য বিষয়টি কিছুটা জটিল। বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক গতি দিলেও নিরাপত্তা, পরিবহন ও জনসেবা খাতে বড় ব্যয়ও করতে হয়।

চূড়ান্ত অর্থনৈতিক ফলাফল তাই নির্ভর করবে কে তা মূল্যায়ন করছে তার ওপর। ফিফা সবচেয়ে বড় আর্থিক লাভবান প্রতিষ্ঠান হিসেবে উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হোটেল, এয়ারলাইন, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান, স্পনসর এবং অতিথি সেবা ব্যবসাগুলোও লাভবান হবে। কিন্তু সরকার ও স্বাগতিক শহরগুলোর দীর্ঘমেয়াদি লাভ নির্ভর করবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও এটি কতটা স্থায়ী উপকার রেখে যায় তার ওপর।

তিন দেশের এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৮টি ম্যাচ আয়োজন করে সিংহভাগ অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজন করবে ১৩টি করে ম্যাচ। এ আসর চলাকালে প্রায় ৬৫ লাখ পর্যটক আয়োজক শহরগুলোতে ভ্রমণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গড়ে ১২ দিন অবস্থান করা এই দর্শনার্থীরা প্রতিদিন প্রায় ৪১৬ ডলার করে খরচ করবেন—হোটেল, রেস্তোরাঁ ও যাতায়াতে। সব মিলিয়ে তাদের মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই যাবে প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার বিদেশি পর্যটক, যাদের ৬০ শতাংশই প্রথমবারের মতো দেশটি ভ্রমণ করবেন।

কর্মসংস্থানেও বড় প্রভাব পড়বে এই বিশ্বকাপে। আয়োজনের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ লাখ ২৪ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরেই নতুন কাজ পেয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ।

কর হিসেবেও তিন দেশ মিলিয়ে আয় হবে প্রায় ৯৪০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস একাই তাদের ৮টি ম্যাচ থেকে প্রায় ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয়ের আশা করছে, যা ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত ‘সুপার বোল’ ইভেন্টের আয়কেও ছাড়িয়ে যাবে। একইভাবে ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৯টি ম্যাচ থেকে প্রায় ৪০ কোটি ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টায় পর্দা উঠবে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মাধ্যমে পর্দা নামবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%