ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের ভূমিকা


মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের ভূমিকা

 

ফাইল ছবিতে উপরের সারির বাঁ থেকে ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক), সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মুশতারী শফী, তারামন বিবি (বীর প্রতীক) এবং নিচের সারির বাঁ থেকে কাকন বিবি (বীর প্রতীক), সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম।

১. ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক): ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (১৯৪৬–২০২৪) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি ১৯৭১ সালের মার্চের পর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের অধীন মুক্তিবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাদান পরিচালনার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স এবং সহায়ক কর্মীদের তত্ত্বাবধানও করতেন। যুদ্ধকালীন অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে তিনি শত শত আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

যদিও তিনি সরাসরি কোনো যুদ্ধরত বাহিনীর নেতৃত্ব দেননি, তবুও সামরিক চিকিৎসাসেবার কাঠামোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কার্যকর দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নারী কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর নিষ্ঠা ও নেতৃত্ব অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা করেছে এবং মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। স্বাধীনতার পরও তিনি চিকিৎসক হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত হয়ে ছিলেন এবং নারী ক্ষমতায়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অগ্রগণ্য নারী নেত্রী হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

২. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী: সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী (১৯৩৫–২০২২) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরু হওয়ার পর অস্থায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম সংগঠিত করেছিলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয় করেছিলেন, নারীদের সংগঠিত করার কাজ করেছেন এবং রাজনৈতিক কর্মী ও প্রবাসী সরকারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভারতে অবস্থানরত শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের মনোবল অটুট রাখতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেত্রীতে পরিণত করে। স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

৩. বেগম মুশতারী শফী: বেগম মুশতারী শফী (১৯৩৮–২০২১) মুক্তিযুদ্ধের সময় বেসামরিক পর্যায়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। তিনি বেসামরিক সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন, জনমত গড়ে তুলতে সাহায্য করেন এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে তাঁর বাসভবন স্বাধীনতাকামী কর্মী ও প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। লেখালেখি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

যদিও তিনি কোনো সামরিক ইউনিটের নেতৃত্ব দেননি, তার পরেও তাঁর নেতৃত্ব বেসামরিক প্রতিরোধ আন্দোলনকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছিল। স্বাধীনতার পরও তিনি একজন সম্মানিত লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বীকৃতির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন।

৪. তারামন বিবি (বীর প্রতীক): তারামন বিবি (১৯৫৭–২০১৮) গেরিলা যুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান নারী মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হন। ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, শত্রুপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান (রেকি) এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। অল্প বয়সেই তিনি উত্তরাঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে সহায়তা করতে গিয়ে অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। প্রথমদিকে তাঁর অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। তবে পরবর্তীকালে তদন্তে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।

যদিও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন না, তবু যুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজে প্রচলিত নারীর ভূমিকা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এইভাবে তিনি প্রমাণ করে দেন যে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে নারীরা সরাসরি ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। আজ তিনি সাহস, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের এক চিরস্মরণীয় প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।

৫. কাকন বিবি (বীর প্রতীক): কাকন বিবি (১৯৫০–২০২৪) ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রাহক। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেট অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কাকন বিবি পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্য চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর অভিযানে সহায়তা করতেন এবং দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গেরিলা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। তবে তিনি বেঁচে ফিরে আবারও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ চালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

অসীম সাহসিকতা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। যদিও তিনি কোনো সামরিক কমান্ডার ছিলেন না, তথাপি তাঁর অবদান প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অনিয়মিত যুদ্ধে নারীদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর জীবন অসাধারণ প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

৬. সুফিয়া কামাল: বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১–১৯৯৯) ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক নেতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এবং যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব প্রদান করেন। একজন কবি, সমাজসংস্কারক এবং নারী অধিকারকর্মী হিসেবে তাঁর অবদান অসংখ্য বাংলাদেশিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, জনমত গঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধে তাঁর মূল প্রভাব ছিল অসামান্য। স্বাধীনতার পরও তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন এবং বাংলাদেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় জনবুদ্ধিজীবী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছেন।

৭. জাহানারা ইমাম: জাহানারা ইমাম (১৯২৯–১৯৯৪) বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তাঁর পরিবার এবং যুদ্ধকালীন ঘটনাপ্রবাহের অভিজ্ঞতা একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন, যা পরবর্তীতে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামে প্রকাশিত হয়। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ দলিল হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন না, তবে তাঁর লেখনী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে অপরিসীম অবদান রেখেছে। স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে দেশের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন এবং এ আন্দোলনে নেতৃত্বও দেন। ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম বড় অবদান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সোমবার শোক দিবস পালন করবে বিএনপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সোমবার শোক দিবস পালন করবে বিএনপি

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে BNP আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকাসহ সারা দেশে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

আজ রবিবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। আগামীকাল সোমবার সারা দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করা হবে।

এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়সমূহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে কালো ব্যাজ ধারন করবেন।

রিজভী জানান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রথম নামাজে জানাজা বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় বিকাল ৫টায় জানাজা হবে।

প্রয়াত নেতা জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন রিজভী।

এদিকে রিজভী দূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, অধ্যাপক আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা. জাহিদ হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাসহ ৬ বিভাগে অতিভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


ঢাকাসহ ৬ বিভাগে অতিভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগের মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অতিভারি বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর পাশাপাশি, দেশের সব বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসের তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিত অংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে রয়েছে। সেইসাথে, মৌসুমি বায়ুর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বর্তমানে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এর অবস্থান মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।

সারাদেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলেই দেখা যায়, ঢাকাসহ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে, যা ছিল ১৩২ মিলিমিটার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাল কার্ড দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়লেন এম্বোলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


লাল কার্ড দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়লেন এম্বোলো

 

যখন টাইব্রেকারের শঙ্কা আর্জেন্টাইন শিবিরে জেঁকে বসেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রাতা হিসেবে হাজির হলেন হুলিয়ান আলভারেজ। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তার চোখধাঁধানো গোল এবং ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

তবে ম্যাচের আগে নাটকীয়তা খুব কম ছিল না। ম্যাচের ৭২ মিনিটের দিকে, দুই দল ১-১ সমতায় ছিল। আর্জেন্টিনার প্রথমার্ধে করা গোলের জবাবে কিছুক্ষণ আগে সুইজারল্যান্ড একটি গোল করে।

গোল করার পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্স এবং গোলকিপারকে সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা খানিকটা চাপের মধ্যে রেখেছিল সেসময়।

এমন সময় সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে আর্জেন্টিনার লেয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করায় রেফারি হলুদ কার্ড দেখান।

কিন্তু ম্যাচে ওই ট্যাকেল এবং হলুদ কার্ডের পর খেলা শুরু হতে দেরি হচ্ছিল। মাত্র হলুদ কার্ড পাওয়া পারেদেস রেফারির সাথে কথা বলতে দেখা যাচ্ছিল। কিছু পর মিনিটখানেকের মধ্যে ফিল্ড রেফারি মাঠের পাশে থাকা মনিটরে সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে যান।

ফিরে এসে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং পারেদেসের পরিবর্তে ব্রিল এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান।

সুইস ফরোয়ার্ডের সেটি ছিল ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, তাই রেফারিকে স্বাভাবিকভাবেই তার পকেট থেকে লাল কার্ড বের করতে হয়।

এমবোলো লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে যেতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর ১০ জনের দলে সুইজারল্যান্ড আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


প্রাথমিক বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের বৃত্তির জন্য মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।

এই সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা মাহদী আমিন সহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীও উপস্থিত ছিলেন।

এবার মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে প্রাথমিকে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছে এবং ৪৬ হাজার ২৮১ জন সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড করা শুরু হয়েছে। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে আপলোড সম্পূর্ণ শেষ হবে। তখন সকল শিক্ষার্থী ফল জানতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%