১১:১৪ পি.এম
ভারতের সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এ বার রাজপথে নেমেছে। জাতীয় পর্যায়ের ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মকে সামনে রেখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজধানী নয়াদিল্লিতে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
গত শনিবার থেকে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অবস্থান করছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনকারীদের শক্ত অবস্থানের কারণে বিজেপি সরকার ও মোদি প্রশাসন বিপাকে পড়েছে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩০ বছর বয়সী বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে বলেন, যত দিনই লাগুক, আমরা এখানেই থাকব। তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও আন্দোলন চলবে।
আরও পড়ুন: মেলান্দহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪
মাত্র এক মাস আগে গঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রধানমন্ত্রীর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ব্যঙ্গাত্মক রূপ। দলের প্রতীক ‘তেলাপোকা’ বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত পূর্বের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যা অনেকের মতে বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।
ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চলমান প্রশ্নফাঁস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও উচ্চ বেকারত্বের কারণে হতাশ শিক্ষার্থীদের সাথে এই আন্দোলন যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর।
প্রতিদিন শত শত মানুষ পোস্টার, স্লোগান ও দেশাত্মবোধক গান নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক বিক্ষোভকারী দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গোলাপ ফুল উপহার দিচ্ছেন। অনেকে জাতীয় পতাকা ও সংবিধানের কপি হাতে নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
আন্দোলনে প্রতিদিনই থাকা বিভিন্ন প্রতীকী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একদিন বিক্ষোভকারীরা থালা-বাসন বাজিয়ে কোভিড-১৯ মহামারির সময় মোদির আহ্বানের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক ইঙ্গিত দেন। আবার মঙ্গলবার অংশগ্রহণকারীদের ডায়াপার নিয়ে এসে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি লেখার আহ্বান জানানো হয়। অভিজিৎ দীপকের ভাষায়, ভারতে এমন কোনো সরকারি পরীক্ষা নেই যেখানে প্রশ্নফাঁস হয় না। তাই ডায়াপার ছিল প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর প্রতীকী বার্তা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে যোগদান
ভারতের উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরির জন্য অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সীমিত সংখ্যক আসনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় সামান্য নম্বরের ব্যবধান একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগে বিতর্কের মুখে রয়েছে এই পরীক্ষা ব্যবস্থা।
গত মাসে ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয়। এরপর পরীক্ষার চাপ ও অনিশ্চয়তা নিয়ে অভিযোগ ওঠা একাধিক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আন্দোলনকারীরা নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করে শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বি-টিম’ বলে মন্তব্য করেন। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অভিজিৎ দীপ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার পরিবর্তে আমাদের সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, নৈতিক দায় স্বীকার না করে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরিবহনে সামরিক বিমান ব্যবহার এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ
এদিকে আন্দোলনস্থলে প্রতিদিন স্বেচ্ছাসেবীরা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে আসছেন। দিনের বেলায় ২০০ থেকে ৩০০ জন এবং সন্ধ্যার পরে প্রায় ৫০০ জন পর্যন্ত বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান করছেন। রাতে প্রায় ৫০ জন আন্দোলনকারী যন্তর মন্তরেই অবস্থান করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অভিজিৎ দীপ জানান, আন্দোলন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সূত্র: সিএনএন
আরও পড়ুন: ইউরোপে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ রেকর্ড, মৃত্যু শতাধিক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন