০৬:৩২ পি.এম
জবর দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও সিরিয়ার গোলান মালভূমির অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বর্তমানে মিথ্যা ‘ইসরাইলি’ লেবেল ব্যবহার করে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। নতুন একটি তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের তৈরি ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার (১০ জুন) প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যগুলোকে ইইউ নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে ‘ইসরাইল থেকে আসা’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের পরে দখলকৃত অঞ্চলের পণ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কথা।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যেসব পণ্যের লেবেলে ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ অথবা ‘গোলান হাইটস’ লেখা থাকা উচিত, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে শুধু ‘মেইড ইন ইসরাইল’ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের ভুল তথ্য প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
গবেষকরা ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি রফতানি রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন, যা অন্তর্ভুক্ত ছিল ৬ হাজার ৮২৭টি কৃষিপণ্য চালান।
তাদেরের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে পাঠানো কৃষিপণ্যের মধ্যে ১৭ শতাংশেরও বেশি পণ্য এসেছে ইসরাইলি বসতি হতে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর জন্য এই হার প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, এসব পণ্যের আসল উৎস আড়াল করতে বিভিন্ন টেকনিক ব্যবহার করা হয়। যেমন—উৎপাদনস্থলকে ইসরাইলের অভ্যন্তরের এলাকা হিসেবে দেখানো, ইসরাইলের অভ্যন্তরের ঠিকানা ব্যবহার করা, যা আসল উৎপাদনস্থলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং অবৈধ বসতি অঞ্চলের পণ্যকে ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের পণ্যের সঙ্গে মিলিয়ে রফতানি করা।
গবেষকদের মতে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বসতি এলাকার পণ্য ‘সরকারি কাগজপত্রে’ ইসরাইলের অভ্যন্তরের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারা আরও দাবি করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতির দুর্বলতার কারণে এসব পণ্য নিয়মিতভাবে ইউরোপের বাজারে আসছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের ভুল লেবেলিং ইউরোপীয় আইন, বাণিজ্য নীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জৈব পণ্যের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাকে সংকটের মুখে ফেলছে। এছাড়া বলা হয়েছে, বসতি অঞ্চলের কৃষি কার্যক্রম এসব বসতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ভূমি ব্যবহার ও সম্পদ আহরণের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গবেষকরা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের একটি পরামর্শমূলক মতামতের বিষয়েও উল্লেখ করেছেন, যেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—রাষ্ট্রগুলোকে ইসরাইল এবং অধিকৃত অঞ্চল আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে এবং এমন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে যা দখলদারিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন