০১:১৭ পি.এম
নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী আইওএমের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা প্রদানে আইওএমের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন।
আরও পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আহমাদুল্লাহর সমালোচনা ও সতর্কতা
তিনি জিসিএম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আশা প্রকাশ করেন যে, জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এই চুক্তির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত এবং কর্মমুখী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, নৈতিক উপায়ে কর্মী নিয়োগ করা এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নত করা জরুরি। তিনি জানান, এজন্য পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বিশেষভাবে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং এবং কৃষি খাতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব সহজতর করার মাধ্যমে এবং মেধাভিত্তিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিবাসী কর্মী, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানোর এবং সহায়তা সেবা জোরদার করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
সংকটকবলিত দেশগুলো থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনে সাহায্য করার জন্য তিনি আইওএমকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে, নিরাপদে ফেরা, টেকসই পুনরেকত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান রোধে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে, তিনি তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে নিজ দেশে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন ড্যানিয়েলস। এছাড়া, বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনে নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশের ভূমিকারও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।
নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন এগিয়ে নেওয়া, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং দেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে বাংলাদেশ-আইওএম সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
আরও পড়ুন: মসজিদ-মাদরাসা নৈতিকতা-মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
এই সাক্ষাতে আইওএমের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাটো এবং বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ ড্যানিয়েলসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন