বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ এম
কক্সবাজারে টানা ৯ দিনের বর্ষণজনিত বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানি এখন অনেক এলাকায় নেমে গেছে।
কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার মাধ্যমে হাজারো মানুষের বছরের সঞ্চয়, জীবিকার অবলম্বন এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ভেসে গেছে। কোথাও পুকুর-ঘের খালি হয়ে পড়েছে, কোথাও ফসলের মাঠ ডুবে গেছে, বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়েছে এবং সড়ক মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।
অনেক পরিবার এখনো ঘরে ফিরতে পারে নি, আবার কিছু পরিবার ফিরেও দেখছেন কি রয়েছে তাদের। তাদের সামনে বর্তমানে বেঁচে থাকার অংশ হিসেবে রয়েছে শুধু ভাঙা ঘর আর কাদামাটির স্তূপ।
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব বলছে, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের সাতটি খাতে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগে জেলার অন্তত সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণ হারানোর সংখ্যা ৩২ জন উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের হিসেবে, বন্যায় জেলার ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে আরো বলা হয়েছে, বন্যায় জেলার মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলার ১০ উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি কিছু না কিছু প্লাবিত হয়েছে। পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটির বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ অবস্থায়, সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে জেলার মৎস্য খাতে। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, হাজারো পুকুর ও ঘের বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ, চিংড়ি, পোনা এবং পোস্ট লার্ভা (পিএল)। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছচাষিদের অনেকেই এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৭৬৮ জন মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শুধু মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ লাখ ৫৬ হাজার পোনা এবং ২২১ লাখ পিস পোস্ট লার্ভা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক জানিয়েছেন, জেলায় প্রাথমিক হিসাবে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি জানান, এটা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে যাচাই শেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে, বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ৪৪টি স্থানে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে।
দুর্যোগের পরও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৯০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ২৯৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৬৩৫ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ২৩৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কাজ চলছে। তবে এখনো ৫৭ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৫৩০ মেট্রিক টন চাল, ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ৪ হাজার ৮৮৩ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৯৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের প্রয়োজন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
একটি বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব আবু হুসেইন আল-হামিদাভি উল্লেখ করেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে আমরা ইরানি জনগণের পাশে থাকবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি সহজ হবে না এবং এতে তাদেরকে বড় মূল্য দিতে হবে।’
আল-হামিদাভি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অঞ্চলজুড়ে ‘সত্য ও মিথ্যার শক্তির’ মধ্যে নতুন সংঘাতের সূচনা করেছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতের নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরান ও তার জনগণের সঙ্গে থাকবে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প।
কাতাইব হিজবুল্লাহকে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এটি ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, ইরানের চলমান বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমে তেহরান লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে সব সেনা সরিয়ে নেবে। সেনা প্রত্যাহারের ফলে দেশটিতে ২৩ বছরের মার্কিন উপস্থিতির অবসান ঘটছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ওয়াশিংটন সফরে যাওয়া ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান। এ খবরটি প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করে। সাদ্দামের পতন ঘটলেও মার্কিন সেনারা ইরাকে রয়ে গিয়েছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা আইএসবিরোধী অভিযান শেষ করার জন্য ইরাকের সঙ্গে ২০২৪ সালে সই হওয়া চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। চুক্তির সময়কালের মধ্যে ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
এ দিকে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তিনি হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের জানান, আমরা মনে করি না সেখানে (ইরাক) আমাদের সামরিক বাহিনী রাখার আর প্রয়োজন আছে। তিনি ইরাকের সঙ্গে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরাক ছেড়ে আসবে, তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসেও বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমি সরকারকে বলছি, মুজিববাদী সংবিধানের পাহারাদার হবেন না। আপনাদের জনগণের সংবিধানের পাহারাদার হতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এই বক্তব্যগুলো বুধবার রাতে জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডাক্তার আবুল কাশেম ময়দানে আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’য় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন।
এ সময় বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন, সদস্য সচিব ফিরোজ আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন হাদি, তাছাড়া এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সন্ধ্যার পর সরকারি আর.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পদযাত্রাটি সমাবেশস্থলে মিলিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যবহৃত তেল ও গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ রুট লক্ষ্যবস্তু হবে, যদি ম্যারকিন আগ্রাসন চলতে থাকে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্ক করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি ‘হয় সবার জন্য হবে, নয়তো কারও জন্যই হবে না।’
এই মন্তব্যকে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের রুট, তেল-গ্যাস পরিবহন ব্যবস্থা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেবে। যদিও আইআরজিসি নির্দিষ্ট কোনো দেশ, স্থাপনা বা রুটের নাম উল্লেখ করেনি।
তবে এমন হুঁশিয়ারি কার্যকর হলে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান।
আইআরজিসির এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কোনও মিত্র দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ