ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইতালি


মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইতালি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অপমানজনক’ হিসেবে ঘোষণা করে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) তাজানি বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল। তবে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদের কারণে তিনি সফরটি বাতিল করেছেন।

ইতালির সংবাদমাধ্যম লা৭-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন যে, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সাথে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি মেলোনির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে ছবি তুলেছিলেন।

আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান মেলোনি। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্র দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মেলোনি বলেন, ইতালি এবং তিনি কখনোই কারও কাছে অনুরোধ করেন না। একই সাথে, তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর শত্রুদের সম্পর্কে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন করতে ছাড়েননি।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত ব্যবসা, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কথা ছিল তাজানির। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগও ছিল। তবে পরে সেই অনুষ্ঠানটিও বাতিল করা হয়।

এ ঘটনার পর, ট্রাম্প মেলোনির সমালোচনা করেছেন আবারও। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের সময় মিত্র দেশগুলোর মতো ইতালিও যথেষ্ট সহায়তা প্রদান করেনি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী

ট্রাম্প এবং মেলোনির সম্পর্ক অতীতে বিভিন্ন সময় টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। যদিও, মেলোনিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে গণ্য করে এসেছেন। অভিবাসন নীতি ও জাতীয় স্বার্থের মতো বিষয়গুলোতে তাদের মধ্যে মিলও ছিল।

কিন্তু ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতভেদ থাকার কারণে দুই দেশের নেতার মধ্যে নতুন করে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের জন্য এই কৌশলগত নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করা হবে না। সেই সঙ্গে, শান্তি চুক্তির আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণের কাজও শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায়, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজ বিনা খরচে চলাচলের সুযোগ পাবে। এ সময়ের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে ইরান সরকার।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে আগ্রহী জাহাজগুলোকে আগে ‘পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ’–এর কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি পাওয়ার পর নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুসরণ করেই তাদের চলাচল করতে হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর তেহরান গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করা হবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌযানের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখার লক্ষ্যেই এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহু চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন, মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


নেতানিয়াহু চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন, মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি সতর্কবার্তা প্রদান করেছে, যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমান এবং সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু বর্তমানে দেশের ভেতরে প্রবল রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হয়েছেন।

এই চাপের কারণে তিনি লেবাননে চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

কর্মকর্তাদের মতে, প্রকাশিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে, এই পদক্ষেপ নবগঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করবে, যেখানে লেবাননে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্বরাষ্টে বলেছেন, ইসরায়েলের এই অবস্থান আঞ্চলিক উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নেওয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এই মূল্যায়ন এমন একসময়ে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এমন কোনো সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি যাতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে, ইসরায়েলের বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপ সম্পর্কে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই বিশ্লেষণটি এমন একসময়ে হওয়ার কথা, যখন নেতানিয়াহুর সরকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো হামলা না চালানোর জন্য ইসরায়েলকে বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়েছে, যে কারণে ট্রাম্পের চুক্তিটিকে ব্যাহত করতে পারে।

শুক্রবার, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হওয়ার পরে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিমান হামলা চালায়। সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া আলোচনা তারা স্থগিত করেছেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের, তিনিও তার সফর স্থগিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যদি লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেন, তাহলে তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না, বরং এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারেন। লেবানন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সামান্য মতবিরোধ রয়েছে। ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলি নেতাকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি নেতানিয়াহুকে বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহর কোনো সদস্য কোনো ভবনে ঢুকলেই যেন সেটি ধ্বংস করে না ফেলা হয়।’

প্রতিবেদনটির বিষয়ে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে আসন্ন শরতের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে তিনি তার সমর্থকদের কাছে কতটা দৃঢ় অবস্থান দেখাতে পারেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মতে, নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের বোঝাতে চাইছেন যে, তিনি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করবেন না এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরো জোরদার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছেন। একই কারণে সাক্ষাৎকার দেওয়া অন্য কর্মকর্তারাও নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছেন।

একজন বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে ইসরায়েল অসন্তুষ্ট। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার শিকার হলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার যুদ্ধবিরতি বা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারকে রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখতে পারে। একদিকে, একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর হামলা থেকে ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হিজবুল্লাহ হামাসের সঙ্গে মিলে ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে ইসরায়েলে শক্ত জনসমর্থন রয়েছে।

উত্তর ইসরায়েলে হামলার কারণে ঘরছাড়া হওয়া হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে হিজবুল্লাহকে দমন করার দাবি জানিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নিলে ভোটাররা এটিকে পরাজয় হিসেবে দেখবেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েল যদি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা না সরায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নাজুক সমঝোতা ভেঙে পড়তে পারে। এতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারো যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে আরো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক হ্যারিসন ম্যান বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভোটারদের দেখাতে চাইছেন যে তিনি নিরাপত্তা ও যুদ্ধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। চাইলে ওয়াশিংটন অস্ত্র, সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া সীমিত করতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধ চালানো আরো কঠিন করে তুলবে। বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইসরায়েলের ওপর কিছু চাপ দিলেও কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ খুব কমই নিয়েছেন। তবে তার মতে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে ট্রাম্প আপত্তি করলেও নেতানিয়াহু পাল্টা জবাব দেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার আকাশপথের হামলায় ইউক্রেনের খারকিভে এক নিহত, নয়জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


রাশিয়ার আকাশপথের হামলায় ইউক্রেনের খারকিভে এক নিহত, নয়জন আহত

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার আকাশপথের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় মোট নয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে। একই সময় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা আরো বাড়িয়েছে। খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে শহরের একটি আবাসিক এলাকায় 'লক্ষ্য ভিত্তিক আকাশ বোমা' হামলা চালানো হয়।

এই হামলায় একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে একজন নারী আটকা পড়েন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে মেয়র জানিয়েছেন। তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ জানিয়েছেন, হামলাটি খারকিভের খোলদনোহিরস্কি জেলায় হয়েছে। এতে মোট নয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলেও নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলেনিভকা এলাকায় ৭২ বছর বয়সী একজন নারী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই অঞ্চলের কোরাবেলনি জেলাতেও ড্রোন হামলা হয়েছে এবং এতে আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শনিবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সারা রাত ইউক্রেনের ১৮৭টি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এসব ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। তবে বেশিরভাগই মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে। দুই দিন আগেই ইউক্রেন রাশিয়ার মস্কোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায়। ওই হামলায় আগুন লেগে একটি বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মস্কোর একটি প্রধান বিমানবন্দর থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকুন্দিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


পাকুন্দিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক প্রবাসীকে মারধর, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ জুন রবিবার, ভুক্তভোগী প্রবাসী ফিরোজ মিয়া ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন।

কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল মামলাটি গ্রহণ করে পাকুন্দিয়া থানাকে এটিকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই মামলার আসামিরা হলেন পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের মৃত বধু মিয়ার ছেলে বকুল মিয়া, মৃত সোহরাব উদ্দীনের ছেলে লিয়াকন, মোস্তফার স্ত্রী ইতি আক্তার ও সফুর উদ্দীনের মেয়ে নাজমা। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, ফিরোজ মিয়া পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের সরুজ মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে পাকুন্দিয়া বাজারে একটি মুদি দোকান দিয়েছেন। গত ২৬ মে প্রতিবেশী বকুল মিয়ার সঙ্গে দোকানের মালামালের হিসাব নিয়ে ফিরোজ মিয়ার ঝগড়া হয়। এর পরদিন ২৭ মে সকালবেলা বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে বকুল মিয়ার বাড়িতে ফিরোজ মিয়াকে ডেকে নেয়া হয়।

সেখানে আগে থেকেই সব আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরোজ মিয়া ওই বাড়িতে পৌঁছানোর পর বকুল মিয়ার নির্দেশে আসামি লিয়াকন লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ফিরোজকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে ফিরোজ তার নিজ বাড়ির উঠানে গিয়ে পড়ে যান। তখন অন্য আসামিরাও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজের পিছু পিছু তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এ সময় আসামি ইতি আক্তার ও নাজমা শোকেজের তালা ভেঙে বিদেশ থেকে আনা ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, যার বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা, সেইসঙ্গে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ১ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। ফিরোজ মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়, পরে চিকিৎসক তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়, সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠায়।

প্রবাসী ফিরোজ মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়া ছিলাম। দুবাইয়ে থাকাকালীন আমার হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় একটি রিং পড়ানো হয়। ফলে আমি বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে একটি মুদি দোকান দিই। আমার ওপর হামলা করায় পুনরায় হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন আমি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে একজন ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন আছি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। খুব শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%