০৮:৫৫ পি.এম
পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক আন্দোলন সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এর পেছনে পতিত স্বৈরাচার ও নিষিদ্ধ সংগঠনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ভিডিও বার্তায় আবিদ বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প এলাকায় আন্দোলনের নামে যা ঘটছে, তা আর সাধারণ শ্রমিকদের হাতে নেই। পতিত স্বৈরাচারের সহযোগী ও তাদের নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা অগ্নিসন্ত্রাস ও ভাঙচুরের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে দেশবিরোধী রূপ দেওয়ার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসের চাপায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, স্বামী ও সন্তান আহত
তিনি জানান, সরকার দুই দিন আগে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং শীঘ্রই সেখানে থেকে ইতিবাচক মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু পতিত স্বৈরাচারপন্থি কিছু সুবিধাভোগী গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে রেখেছে। মালিকপক্ষের একটি অংশ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করছে এই বলে যে—‘মালিকরা বেতন বাড়াতে চাইলেও সরকার বাধা দিচ্ছে এবং কাজ বন্ধ রাখতেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।’ এ ছাড়া পতিত স্বৈরাচারের অর্থায়নে শ্রমিকদের নগদ টাকা দিয়ে মাঠে রাখা হচ্ছে।
গাজীপুর ও মিরপুরের উদাহরণ তুলে ধরে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, চার থেকে পাঁচটি কারখানার স্বৈরাচারপন্থি মালিক যদি সক্রিয় হয়, তবে সহজেই ১০ থেকে ২০ হাজার শ্রমিককে রাস্তায় নামানো সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশি গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশ থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গাজীপুরে জড়ো করা হয়েছে। একদিকে শ্রমিকদের সামনে রেখে অন্যদিকে পেছনের সারির সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাসে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের মতো নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের তথ্য তুলে ধরে আবিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারত গার্মেন্টস খাতে শতভাগ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এতদিন বাংলাদেশই এককভাবে এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের এই বিপুল বাজার দখল করতে ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি বিগত কয়েক সপ্তাহে কিছু ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার বাংলাদেশে এসে ঘুরে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দেশীয় নৈরাজ্য ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার আমাদের তৈরি পোশাক খাত। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে। বর্তমানে আন্দোলনের নামে মাঠে নেমে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানোর কোনো নৈতিক বা আইনি বৈধতা নেই।
আরও পড়ুন: এক্সপ্রেসওয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে তাগিদ সেতু সচিবের
গণহত্যাকারী কোনো শক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনোই মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ, সরকার ও সব গণতান্ত্রিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে এই গভীর চক্রান্ত রুখে দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন