বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৮ পি.এম
স্পেনের বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে যে, সানচেজ সরকার সেউতার বাসিন্দাদের সংকটের মধ্যে ফেলে রেখেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো অভিবাসী সংকটকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে অন্তত ৭২ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই পরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। অনেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও সমুদ্রসৈকতে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে সেউতায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে এটি সানচেজ সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবি, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। পাশাপাশি স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের পুনর্বণ্টনের দাবিও উঠেছে। বুধবার স্পেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। এসব শহরের অনেকটিতে বিরোধী রক্ষণশীল দল পিপি এবং কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টি সরকার পরিচালনা করছে অথবা দল দুটির উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে।
রাজধানী মাদ্রিদেও বড় একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভে পিপির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো অংশ নেন। ফেইহো অভিযোগ করেন, সেউতাকে কার্যত দখল ও অবরুদ্ধ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে এবং স্পেন সরকার বিষয়টি আগে থেকেই জানত। ভক্স পার্টির নেতা সান্তিয়াগো আবাসকালও সানচেজ সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, সানচেজ মরক্কো সরকারের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। সেউতায়ও বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ‘সেউতা বিক্রির জন্য নয়, সেউতাকে রক্ষা করতে হবে’—এমন স্লোগান দেন।
সেউতার ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক ডেভিড হার্নান্দেজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সরকারের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট ছিল না এবং তা অনেক দেরিতে এসেছে। তার মতে, সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। তিনি বলেন, সেউতার বাসিন্দারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নন এবং তাদের সীমান্তের বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনায় মরক্কোর সীমান্তরক্ষীদের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী ‘সম্পূর্ণ উদাসীনতা’ দেখিয়েছিল। স্পেনের সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সানচেজ সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরো বেড়েছে।
জাতীয় পুলিশ বাহিনীর জাতীয় অভিবাসন ও সীমান্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পেনের জাতীয় আদালতে ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেউতার সীমান্তের কাছে মরক্কোর পুলিশের উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় স্পষ্টভাবে কম ছিল। সীমান্ত পার হওয়া অভিবাসীদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অনেকেই বলেছেন, সীমান্ত পার হওয়ার সময় মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকর কোনো বাধা দেয়নি এবং তাদের আচরণ ছিল নিষ্ক্রিয়। তবে পুলিশের প্রতিবেদনে সরাসরি বলা হয়নি যে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে সেউতায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পেছনে মরক্কো সরকার বা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীই ছিল।
এর কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জোর দিয়ে বলেছিলেন, সেউতায় অভিবাসীদের প্রবেশের ঘটনায় মরক্কোকে দায়ী করা ঠিক হবে না। সানচেজের মতে, মানবপাচারকারী চক্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার জন্য উৎসাহিত হয়েছেন। তবে মরক্কোও এ ঘটনায় নিজেদের কোনো ভূমিকার কথা অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনা তারা আয়োজন করেনি এবং এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেউতায় অভিবাসীদের ঢলের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্ত পার হওয়া নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্পেনের তথ্য যাচাইকারী ওয়েবসাইট মালদিতা।
ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের ঘটনা শুরুর আগেই মরক্কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এসব বার্তায় মরক্কো ও সেউতার মধ্যকার সীমান্তের বেড়াকে নিরাপদ এবং সহজে পার হওয়া সম্ভব বলে দেখানো হয়েছিল। জুনে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর এসব বার্তা আরও ছড়িয়ে পড়ে বলে জানানো হয়েছে। সেউতার মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বেড়া এড়িয়ে সাঁতরে সেউতায় যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১০০ জন মারা গেছেন। এদিকে সেউতা ও পাশের আরেক স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে মরক্কো।
এই দুই শহরকে ঘিরে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক টানাপড়েন বিদ্যমান। ফলে সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে সেউতায় কয়েক হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন। তাদের একটি অংশ অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে থাকলেও অনেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের চাপ, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে সানচেজ সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাঠের সবুজ গালিচায় ফুটবল পায়ে জাদু দেখান তিনি। ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের যৌথ ব্রিটিশ রেকর্ড ট্রান্সফার ফি নিয়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে পাড়ি জমানো ২৫ বছর বয়সী এনজো ফার্নান্দেজ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
কিন্তু ফুটবল আঙিনার চোখধাঁধানো আলোর বাইরেও তার জীবনটা যেন এক উত্তাল নাট্যমঞ্চের মতো! লন্ডনের পরিচিত কোলাহল ছেড়ে পরিবার নিয়ে ম্যানচেস্টারে নোঙর ফেলার এই মাহেন্দ্রক্ষণে আবারও আলোচনায় এসেছে ফুটবল এবং প্রেমের মেলবন্ধনে গড়া তার বর্ণিল ব্যক্তিগত জীবন।
এনজোর জীবনের এই প্রেম-কাহিনির প্রধান চরিত্র হলেন তার শৈশবের প্রেমিকা, রূপসী ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্টিনা সার্ভান্তেস। ২০১৮ সালে বুয়েনস এইরেসের সাধারণ কিশোর-কিশোরী হিসেবে শুরু হয়েছিল তাদের প্রণয়। জীবনের শুরুতে তাদের মধ্যে ছিল না কোনো চাকচিক্য।
উরকুইজার ছোট্ট এক কক্ষে লড়াই করেছেন দুজন। এনজো তখনো রিভার প্লেট থেকে কোনো বেতন পাননি, ভ্যালেন্টিনা কল সেন্টারে ও এম্পানাদার দোকানে কাজ করতেন। মেয়ের জন্য পুরনো কাপড় কিনতে হতো ফেসবুক মার্কেটপ্লেস থেকে, এবং বাসে চেপে যাতায়াত করতেন কাজের জায়গায়।
সেই অনিশ্চিত দিনগুলো পেরিয়ে বেনফিকা হয়ে চেলসি—এনজোর বিশ্বজয়ী তারকা হয়ে ওঠার পথে সব সময় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন ভ্যালেন্টিনা।
কিন্তু খ্যাতির আলো যত উজ্জ্বল হয়েছে, প্রেমের পথ ততই জটিল রূপ নিয়েছে।
তবে সব সুন্দরেরই শেষ আছে। সোনার সংসারে প্রথম বড় ঝড় ওঠে ২০২৪ সালের নভেম্বরে। এনজো হঠাৎ করে ভ্যালেন্টিনাকে জানিয়ে দেন—তিনি একাকী বাঁচতে চান, ছোটবেলায় মিস করা ‘ব্যাচেলর জীবন’ উপভোগ করতে চান! আকস্মিক এই বিচ্ছেদে ভেঙে পড়েছিলেন ভ্যালেন্টিনা। কিন্তু নাটকীয়তা তখনো বাকি ছিল।
বিচ্ছেদের মাত্র তিন মাস পরেই ২০২৫ সালের শুরুতে লন্ডনের রাস্তায় হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা যায় এই দম্পতিকে। গুঞ্জন ওঠে, ভ্যালেন্টিনার রূপে মুগ্ধ হয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডেরই এক সতীর্থ তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন! সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য তারকাদের আগ্রহ আর সতীর্থ ফুটবলারের চোখ ধাঁধানো উপস্থিতির খবর পেয়েই নাকি ‘লন্ডন ব্যাকট্র্যাক’ করেন এনজো। প্রেমিকাকে হাতছাড়া না করার তাড়নায় তিনি দ্রুত সম্পর্কে ফেরেন।
সম্পর্ক জোড়া লাগলেও স্বস্তি মেলেনি। এবার নাটকে আগমন আর্জেন্টিনার আলোচিত মডেল ও উপস্থাপিকা ওয়ান্দা নারার। ২০২৫ সালের শেষভাগে এক রিয়্যালিটি শো-তে ভ্যালেন্টিনা প্রতিযোগী এবং ওয়ান্দা ছিলেন সঞ্চালক। শুটিং সেটেই তাদের দুজনের শীতল সম্পর্ক সবার চোখে পড়ে।
ফরাসি ও আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওয়ান্দা নারা এনজোর ইনবক্সে বার্তা পাঠিয়েছিলেন—‘তোমাকে দেখলাম, ইচ্ছে হলে নক দিয়ো।’ তবে চালাক এনজো নাকি উত্তর না দিয়ে সেই বার্তা সরাসরি দেখিয়ে দেন ভ্যালেন্টিনাকে! যদিও পরবর্তীতে ভ্যালেন্টিনা এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে মিডিয়ার সামনে শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন।
সব ঝোড়ো হাওয়া পেরিয়ে, ভাঙাগড়ার চোরাবালি পেরিয়ে আবারও এক ছাদের নিচে এনজো-ভ্যালেন্টিনা দম্পতি। অলিভিয়া ও বেঞ্জামিন নামের দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ম্যানচেস্টারের নতুন সকালে এখন নতুন এক জীবনের স্বপ্ন বুনছেন দুজনে। মাঠের সবুজ ঘাসে যেমন এনজোর পাস নিখুঁত, ম্যানচেস্টারের আকাশের নিচে তাদের এই নাটকীয় প্রেমের গতিপথ কতটা মসৃণ থাকবে—তা সময়ই বলে দেবে!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট। একইসাথে, তিনি এই দম্পতির রাজপরিবারের প্রতি আচরণের সমালোচনা করেছেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এতে খুশি। আমি তাদের ভক্ত ছিলাম না। আমার মনে হয়েছে, তারা রাজপরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।’
কিছুটা রসিকতার সুরে ট্রাম্প বলেন,
তিনি আরও বলেন, যদি তিনি রাজা হতেন, তাহলে হ্যারি ও মেগানকে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার অনুমতি দিতেন না।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ‘হয়তো আমি একটু আলাদা। আমি তাদের ফিরিয়ে নিতাম না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি হ্যারি ও মেগানের ভক্ত নই এবং রাজপরিবারের প্রতি তাদের আচরণ আমার কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক মনে হয়েছে।’
মেগানের আচরণের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন, প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি মেগান ভীষণ অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার আচরণ পছন্দ করিনি। আমার মনে হয়েছে, তিনি রানি ও রাজা চার্লসের প্রতি ভীষণ অসম্মানজনক ছিলেন।’
প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল আগস্টে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। যুক্তরাজ্যে ফিরে তারা তাদের সন্তানদের ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, এমন একটি বাড়িতে বসবাস করবেন।
হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলেও প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফিরছেন না। বর্তমানে তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসায় ভবিষ্যতে তারা আবারও রাজপরিবারের কোনো দায়িত্বে ফিরতে পারেন, এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যে ফেরার পর এ বিষয়ে তার প্রথম মন্তব্য। রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছাড়ার প্রায় ছয় বছর পর তারা যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন। দায়িত্ব ছাড়ার পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে বসবাস করছিলেন।
রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের আচরণ নিয়ে এর আগে ট্রাম্প সমালোচনা করেছেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারির অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রক্ষণশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশন অভিযোগ করেছিল, অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে হ্যারি অবৈধ মাদক ব্যবহারের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকতে পারেন অথবা তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি হ্যারির অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক বিচারক রায় দেন, অন্য যেকোনো ব্যক্তির মতো হ্যারিও তার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার রাখেন।
হ্যারিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, এ নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। তিনি বলেছিলেন, ৪০ বছর বয়সী হ্যারির এমনিতেই স্ত্রী মেগানকে নিয়ে যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে। মেগান সম্পর্কে ট্রাম্প তখনও নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
যুক্তরাজ্যে ফিরে হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য না হয়ে আগের মতোই বেসরকারি ব্যক্তি হিসেবে থাকবেন। তাদের নিজেদের ইচ্ছার সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনার কথাও ঘোষণা করা হয়নি।
হ্যারি এর আগে বলেছিলেন, পুলিশের নিরাপত্তা ছাড়া যুক্তরাজ্যে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ফিরে আসাকে তিনি নিরাপদ মনে করবেন না। এই পুলিশি নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য তিনি কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াইও করেছেন।
এদিকে হ্যারি ও মেগান ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটো এবং পর্তুগালে থাকা তাদের বাড়িগুলোও রেখে দিয়েছেন। মেগান তার লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘অ্যাজ এভার’-এর কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ভালো বন্ধু মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দুইবার যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি তার আগ্রহের পেছনে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি তার শ্রদ্ধার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।
ট্রাম্প রানি এলিজাবেথের সঙ্গে দুইবার দেখা করেছিলেন। তবে রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার আগে মেগান মার্কেল ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘নারীবিদ্বেষী’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে হ্যারি ও মেগানের একটি ভিডিও বার্তা নিয়েও আলোচনা হয়। ওই ভিডিওতে তারা মার্কিন ভোটারদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অনলাইনের নেতিবাচকতা প্রত্যাখ্যান’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
যদিও তারা সরাসরি কোনো প্রার্থীকে সমর্থনের কথা বলেননি, ওই সময় তাদের বক্তব্যকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। মেগান ওই নির্বাচনকে তার জীবনের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান মন্তব্য করেছেন, ‘সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই কেবল টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।' তিনি একই সঙ্গে নারীর নেতৃত্বকে শান্তি বিনির্মাণে এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘শান্তির সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মসূচির উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম’-এ বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নারীর নেতৃত্ব জোরদারে তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নারীর পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিশোরী ও তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে বিনিয়োগের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বাড়ানোর বিষয়টিতে। সংঘাত প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা, কমিউনিটির সহনশীলতা, সামাজিক সংহতি ও শান্তি বিনির্মাণে নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে টেকসই ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। এমনকি নারীরা প্রায়ই তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত থাকেন।
তিনি শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নারীর নেতৃত্ব জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের পাশাপাশি তৃণমূলসহ দেশের নাগরিক সমাজে মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ