বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:১৭ এম
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আপনার দলের লোকজন আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছে না।
তিনি বুধবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
অলি আহমদ মন্তব্য করেন, আমি বারবার বলেছি, ষড়যন্ত্রকারীরা আপনার চারপাশেই অবস্থান করছে। আপনার দলের ভেতরে যারা দালাল রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করুন। আমাদের কাছ থেকে আপনার কোনো বিপদ নেই, বিপদ আপনার নিজের ঘরের দালালদের কাছ থেকে আসবে।
তিনি আরো বলেছেন, ‘বিগত কয়েক মাস ধরে আমি বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি বিভেদ সৃষ্টি না করতে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না, যেখান থেকে আপনাদের পতন শুরু হবে। গতকাল দেশের তিনটি জায়গায় যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটিই প্রমাণ করে আপনার দলের ভেতরেই এমন লোক রয়েছে, যারা আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না।’
এলডিপি সভাপতি বিএনপির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করেছিলেন। তাহলে কি বেগম জিয়া রাজাকার ছিলেন? বিএনপি কি রাজাকার ছিল?’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। আবার ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভায় জামায়াতের নেতারা ছিলেন। আমি কিন্তু সেই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলাম না। তাহলে সেটিকে কি রাজাকারের মন্ত্রিসভা বলা হবে?’
কর্নেল অলি বলেন, ‘আমি জামায়াতে যোগদান করিনি। আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাই, বিদেশি প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এতে কারও অস্বস্তি হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জৌনে একটি ভবনের ভেতরে ঘটিত বিস্ফোরণের ফলে বেশ কয়েকজন ইসরাইলি সৈন্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বুধবার লেবননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্ফোরক ভর্তি ভবনে একটি আইইডি বিস্ফোরণের ফলে অন্তত দুজন ইসরাইলি সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিছু সৈন্যের অবস্থা গুরুতর। দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী আগ্রাসী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
একটি হামলায় আহত তৃতীয় এক সৈন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য ইসরাইলি মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে, এবং তার জীবন রক্ষা করার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার চলছিল বলে জানা গেছে।
এর আগে, ইসরাইলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় যে, দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ ফলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহতসহ একাধিক ব্যক্তিকে দক্ষিণ লেবনন থেকে ইসরাইলের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তিনটি অ্যাম্বুলেন্স সহ একটি হেলিকপ্টার অধিকৃত হাইফার রামবাম হাসপাতালে পৌঁছেছে।
নিহত এবং আহত সৈন্যরা ৫৫তম ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, শিবির যদি পরবর্তীতে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে তবে গতকালের মতো পরিণতি হতে পারে। বুধবার তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই কথা বলেন।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা রাজনীতি করতে চাই অত্যন্ত সহনশীলভাবে। আবারও জানিয়ে দিচ্ছি, যদি ছাত্রশিবির কোনোভাবেই উশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা করে, আমরা এক বিন্দু পরিমাণও ছাড় দেব না।
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। সেখানে একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন করা হয়েছে এবং রাতভর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছাত্রদল সভাপতি আরও বলেন, এটি শুধু শিবিরের ব্যাপার নয়, জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও এই ঘটনার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। অস্ত্র নিয়ে হামলাকে বীরত্ব হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা দেশের রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় তিনি অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা শিয়ালের হাতে মুরগি তুলে দেওয়ার মতো ভুল করেছি।’
বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় সৈয়দ রেজাউল করীম এ কথা বলেন।
সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘আমরা বারবার জীবন দিয়েছি, পঙ্গুত্ব বরণ করেছি, আমাদের সন্তানেরা এতিম হয়েছে, নারীরা বিধবা হয়েছে। এগুলো জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ত্যাগ করেছি, তা পূরণ হয় নাই। কারণ আমরা শৃগালের হাতে মুরগি তুলে দেওয়ার মতো ভুল করেছি।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করা বোকামি। মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য ইসলামই একমাত্র সমাধান। বৈষম্য রোধ করতে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সংখ্যালঘুদের শান্তি নিশ্চিত করতে ইসলামই একমাত্র পরীক্ষিত পদ্ধতি।’
চরমোনাই পীর বলেন, ‘জুলাই যে সুযোগ তৈরি করেছিল, তা কাজে লাগাতে আমরা ইসলামের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা করেছিলাম। এই সমঝোতা যখন সম্ভাবনাময় হয়ে উঠল তখন স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে আদর্শ ছেড়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। তারা বাংলাদেশে ইসলামের সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। একই সাথে তারা দেশের ও জুলাইয়ের প্রত্যাশাও নষ্ট করেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত জুলাই ৩০ রাত আনুমান ১০.৪৫ ঘটিকায় পুলিশ সুপার নওগাঁ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানতে পারেন যে, জনৈক সর্ণ ব্যাবসায়ী সুভাষ পালের নিকট থেকে কিছু স্বর্ণ অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা মাইক্রোবাস ব্যবহার করে নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে তার গতিরোধ করে ছিনতাই করে। বিষয়টি জানার সাথে সাথেই পুলিশ সুপার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ উভয়কে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই সাথে শহরে প্রত্যেকটা গাড়ি তল্লাশি করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ সংক্রান্তে নওগাঁ সদর থানায় একটা মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ জনাব হাসিবের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। জেলা পুলিশের সদ্য লাগানো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কানেকটেড সিসি ক্যামেরা সমূহ ব্যাপকভাবে তদন্ত কাজে সহায়তা করে। তথ্য প্রযুক্তি এবং ডাটা বিশ্লেষণ করে ছিনতাই এ ব্যবহৃত গাড়িটি সনাক্ত করা হয়। একই সাথে বিভিন্ন জেলার এবং টোল প্লাজার তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়।
পরবর্তীতে ০৩ /আগস্ট থেকে টানা অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের সহায়তায় যশোর থেকে ছিনতাই চক্রের অন্যতম সদস্য গাড়ি চালক মো জামাল হোসেন ফুলন, কোতোয়ালি, যশোর কে গ্রেফতার করা হয় এবং অপর অভিযানে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়। জামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জান জানা যায় চারজনের একটি চক্র এই কাজে জড়িত। এই চক্রটি কালো মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে অনুসরণ করে।
সুভাষ পাল যখন ঢাকা কল্যাণপুর থেকে নওগাঁ, শ্যামলী পরিবহনে রওনা হয় তখন থেকেই ছিনতাইকারী চক্র শ্যামলী গাড়িটিকে অনুসরণ করে। ছিনতাইকারী চক্রের কালো মাইক্রোবাস শ্যামলী গাড়িটিকে অনুসরণ করে বগুড়া হয় নওগাঁ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অতঃপর ভিকটিম ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে নামার পর তাজের মোড়ে বাদীর হাতের ব্যাগের মধ্যে আনুমানিক ১৪ ভরি সোনা ছিনতাই করে।
ঘটনার পর পরই পুলিশ যখন ব্যাপকভাবে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় তল্লাশি শুরু করে তখন ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে চলে যায় । এ সংক্রান্তে আজ গ্রেফতারকৃত জামাল হোসেন ফুলন আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। অপর আসামি গ্রেফতার এবং স্বর্ণ উদ্ধারে জেলা পুলিশের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ