প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে—তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
ড. শামীমা সুলতানা নেত্রকোনার পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রয়াত প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর বাবা পূর্বধলা ও ধোবাউড়া আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ড. শামীমা সুলতানা। মধ্যযুগীয় ও আধুনিক বাংলা সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, চৌতিশা এবং ছোটগল্প নিয়ে তাঁর গবেষণা রয়েছে। বাংলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাঁকে বিভাগীয় কার্যালয়ের দেয়াল থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এ ঘটনার পর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রতিবাদী ভূমিকার মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ড. শামীমা সুলতানার পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগকে তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পিএসসির অন্যতম দায়িত্ব সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে চাকরিপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার। নতুন দায়িত্বে ড. শামীমা সুলতানা এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন