০৮:৩৩ পি.এম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলছেন, ওয়াশিংটনের মাধ্যমে মুক্ত করা হলে ইরানের জব্দকৃত তহবিল ব্যবহার করে দেশটির উচিত মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা। তথ্যমতে, এই পদক্ষেপ একদিকে ইরানের জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরণ করবে, অন্যদিকে মার্কিন কৃষকেরাও লাভবান হবেন।
সোমবার (২২ জুন) দেয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স জানান, এ ধারণাটি এসেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের কাছ থেকে। তিনি এটিকে ‘খুব ভালো এবং ট্রাম্প-ধাঁচের একটি চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে ইরান এখনো এ ধরনের শর্ত মেনে নিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
আরও পড়ুন: ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে ইরানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সবশেষ আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে ফেরার আগে ভ্যান্স বলেন, এটি একটি খুবই আকর্ষণীয় সমাধান। যদি কখনো ইরানের সম্পদ মুক্ত করা হয়, তাহলে সেই অর্থ ইরানি জনগণের খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন কৃষকদের সমৃদ্ধ করতে ব্যবহৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্পদ (ইরানের) মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় আমাদের অনুমোদন আছে। কাতারও সেই প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেবে। এরপর সেই অর্থ ব্যবহার করা হবে মার্কিন সয়াবিন, ভুট্টা ও গম কেনার জন্য, যা ইরানি জনগণের উপকারে আসবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ রয়েছে। এসব সম্পদের বড় অংশই তেল বিক্রির আয়, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে আটকে রাখা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাত বন্ধে হওয়া একটি সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামনে হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হলে জব্দ ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে।
আরও পড়ুন: রিজভী: গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ
বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী। কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত সার তৈরির জন্যও এসব জ্বালানি অপরিহার্য। প্রণালীটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা মার্কিন কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃষি খাতে আয় কমে যাওয়া এবং দেউলিয়া হওয়ার হার বৃদ্ধি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা এবং বেইজিংয়ের কঠোর আমদানি নীতির কারণে মার্কিন কৃষিখাত আরও চাপে পড়েছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। কিন্তু শুল্কযুদ্ধের পর দেশটি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে বেশি আমদানি শুরু করায় মার্কিন কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। এর ফলে অনেক কৃষককে লোকসানে ফসল বিক্রি করতে হয়েছে অথবা অতিরিক্ত খরচে সংরক্ষণ করতে হয়েছে।
যদিও সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দু’বার বৈঠক হয়েছে এবং হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চীন আগামী কৃষি মৌসুমে ২ কোটি ৫০ লাখ টন মার্কিন সয়াবিন কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বুকিং হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ টন। এছাড়া কৃষি বিভাগের এক প্রতিবেদনে ১ কোটি ৩৭ লাখ বুশেল সয়াবিন ‘অজ্ঞাত গন্তব্যে’ বিক্রির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এর কিছু অংশ চীনের জন্য হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন কৃষকরা এ বছর বেশি সয়াবিন এবং কম ভুট্টা চাষের পরিকল্পনা করছেন বলে সরকারি তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নতুন বাজার খুঁজছে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এ সপ্তাহে ভারত সফর করছেন সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে। তবে ভারতে কৃষি একটি সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হওয়ায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন