ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাবেদা ফি নিয়ে বিরোধের জেরে কুড়িগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হামলা, নকলনবিশ গুরুতর আহত


জাবেদা ফি নিয়ে বিরোধের জেরে কুড়িগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হামলা, নকলনবিশ গুরুতর আহত

‎কুড়িগ্রাম জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাবেদা ফি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নকলনবিশ মো. মমিনুল ইসলাম (পিতা: আবুল কাশেম) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে প্রথমে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
‎
‎রোববার (২ আগস্ট) জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে
‎
‎অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি মেরাজ, জীবন ও জাহিদুল ইসলাম নকলনবিস মমিনুল ইসলামের ওপর হামলা চালান।এতে গুরুতর আহত হন মমিনুল ইসলাম।
‎
‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জাবেদা ফি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নকলনবিশদের দাবি অনুযায়ী ফি নির্ধারণ নিয়ে মতবিরোধ হয়।মাত্র ১০০ টাকার জেরে  তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
‎
‎হামলায় মমিনুল ইসলামের হাতে হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
‎
‎এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন,জাবেদা ফি নিয়ে একটি দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি আমরা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করছিলাম। এরই মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। যারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযানে সন্ত্রাসী চক্রে বড় আঘাত; ৫গ্রেফতার, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযানে সন্ত্রাসী চক্রে বড় আঘাত; ৫গ্রেফতার, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ধারাবাহিক গোয়েন্দা ও আভিযানিক অভিযানে পৃথক তিনটি অভিযানে আলোচিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি ও একটি বড় ছোরা।

জেলা ডিবি পুলিশ মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার দুই আসামি দিদার ও আফসারকে গ্রেফতার করে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করে।

জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

এছাড়া হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে এবং তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এলজি ও বড় ছোরা উদ্ধার করে।

সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বোমা নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বোমা নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী

দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের একটি বেসামরিক ভবনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দ্বারা শক্তিশালী একটি বোমা আঘাত হেনেছে, এমন দাবি করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি শুক্রবার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা করা ফুটেজ এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতের হামলার ফলে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই হামলায় এক দম্পতি এবং তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়। তবে পরিবারের অপর দুই সন্তানকে বেঁচে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণের মতে, হামলায় সম্ভবত ২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের একটি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় বোমাগুলির মধ্যে একটি।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট গর্তের আকৃতি এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে এটি মার্ক ৮৪ বোমা হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার সময় এবং স্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।

দ্য জেরুজালেম পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ইরানে পরিচালিত হামলার একটি প্রসার আগের রাতে হওয়া হামলার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তিনি হামলাগুলোকে ব্যাপক এবং উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলার কথা উল্লেখ করেছেন।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার ফলে আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ গর্তের কেন্দ্র থেকে ২০০ ফুটেরও বেশি দূরে ছিটকে পড়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তদন্তে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পর ইরানও কোনো সামরিক হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের অভিযোগের তদন্ত করছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তায় কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তারা এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবস্থান ফাঁসের শঙ্কায় রেকর্ড করা বার্তাও দিচ্ছেন না মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


অবস্থান ফাঁসের শঙ্কায় রেকর্ড করা বার্তাও দিচ্ছেন না মোজতবা খামেনি

অডিওর মাধ্যমে অবস্থান ফাঁস হতে পারে, সেজন্য মোজতবা খামেনি রেকর্ড করা বার্তা দিচ্ছেন না, এমন রিপোর্ট দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানের দৈনিক আল-মাশহারি উল্লেখ করেছে যে, অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রবিবার পত্রিকাটি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, খামেনির কোনো অডিও বার্তা এখন প্রকাশিত হচ্ছে না, এই কারণেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, একটি অডিও রেকর্ডিং থেকেই অন্তত পাঁচটি ভিন্ন উপায়ে বক্তার অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব।

প্রথমত, কক্ষের নিজস্ব শব্দগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় বক্তা কী ধরনের কক্ষে কথা বলছিলেন।

প্রতিটি স্থানের আলাদা আলাদা অ্যাকুস্টিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিশ্লেষণ করে বক্তার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এছাড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের বৈদ্যুতিক সংকেতও বিশ্লেষণ করা যায়। এটি রেকর্ডিংটি কখন করা হয়েছে এবং এটি কোন বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় ছিল, তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, প্রতিটি মাইক্রোফোন এবং রেকর্ডিং যন্ত্র অডিওতে আলাদা প্রযুক্তিগত ছাপ ফেলে। উদাহরণ হিসেবে, মোবাইল ফোনের মাইক্রোফোন সাধারণত নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দকে দুর্বল করে এবং স্বল্পমূল্যের যন্ত্রাংশ বিশেষ ধরনের বিকৃতি সৃষ্টি করে।

এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে ব্যবহৃত যন্ত্র সম্পর্কে ভিত্তি করা সম্ভব।

এছাড়া, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, জেনারেটর, কুলিং সিস্টেম কিংবা আশপাশের অন্যান্য যন্ত্রপাতির শব্দ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রেকর্ডিংয়ের সম্ভাব্য স্থান শনাক্ত করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবশেষে, পত্রিকাটির দাবি করা হয়েছে যে, কণ্ঠস্বরের অনুরণন বিশ্লেষণ করে বক্তার শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন, শব্দের মধ্যে বিরতি, শারীরিক অবস্থা, হৃদস্পন্দন এবং মানসিক চাপের মাত্রা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শান্তি প্রচেষ্টার ঘোষণার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, একদিনে প্রাণ গেল ১৯ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


শান্তি প্রচেষ্টার ঘোষণার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, একদিনে প্রাণ গেল ১৯ জনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শান্তি উদ্যোগের ঘোষণা দিলেও গাজায় থামেনি ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। স্থানীয় সময় রোববার (০২ আগস্ট) ভোর থেকে অবরুদ্ধ উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলায় নির্বিচারে অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশুও।

পশ্চিম গাজা সিটির আল-সৌসি টাওয়ারের একটি আবাসিক ভবনে চালানো বিমান হামলায় নিহত হন ৩৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার ২৯ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আযযাম। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র।

হামলার ফলে অনেকেই আহতও হয়েছেন। খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-কারারা এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় আল-হামস পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। তারা হলেন ৩৮ বছর বয়সী মাহমুদ আল-হামস, তার ৩৭ বছরের স্ত্রী ফাতিমা এবং তাদের কন্যাসন্তান। এ ঘটনাটিও নিশ্চিত করেছেন নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার কাছে নিজ বাড়িতে হামলার ফলে নিহত হয় ৬৮ বছর বয়সী কামু আবু মুয়াইলিক এবং তার ৫৯ বছরের স্ত্রী হুদা। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় মারা যান দুই ভাই। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরো একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

বিভিন্ন স্থানে হামলার ফলে আহতের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে হামলায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। গাজা সিটির পশ্চিম এলাকায় রেমাল নামক এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। এছাড়া গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে হামলায় আরো চারজনের প্রাণহানি ঘটে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ভোর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধের গুদামে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ জানান, চিকিৎসা সামগ্রী ধ্বংস করে ‘ওষুধ এবং রোগকেই যুদ্ধের অস্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছেন, হামলায় দুটি স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরো দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজার বিভিন্ন এলাকায় নিচু দিয়ে উড়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এ হামলাগুলোর আগে বাসিন্দাদের কোনো সতর্কতা বা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

বেশিরভাগ হামলার লক্ষ্য ছিল আবাসিক ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট এবং সাধারণ মানুষের সমাবেশস্থল। ইসরায়েলের দাবি, এসব স্থানে হামাস বা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। গত শনিবারও গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হন। শুক্রবারও পৃথক হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা বোর্ড অব পিস এবং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স শুক্রবার জানিয়েছে, হামাস যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের একটি বিস্তারিত রূপরেখা গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ প্রস্তাব নিয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং মানবিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধের কারণে যুদ্ধবিরতি কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ছে।

তাদের মতে, এটি লেবানন ও গাজায় আগের যুদ্ধবিরতিগুলোর মতোই—যেগুলো কাগজে থাকলেও বাস্তবে কার্যকর হয়নি। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে না। তাদের দাবি, হামাস ভবিষ্যতে আবারও সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে।

এছাড়াও ইসরায়েল চায়, প্রয়োজনে গাজার ওপর সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা থাকুক। কাতার ও তুরস্কের তদারকির ভূমিকা এবং হামাসের জব্দ করা অস্ত্র ধ্বংস করা হবে নাকি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত থাকবে-এসব বিষয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, আলোচনার সময় হামলা বন্ধ রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তার দাবি, হামাস নিরস্ত্রীকরণে আন্তরিক নয়। প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া উচিত বলে তিনি মতামত দিয়েছেন।

হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতেই ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে। সংগঠনটির দাবি, রোববার সকালে হামলায় ১৮ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং বহু পারিবারিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টিদাতা দেশগুলোর কাছে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।

গাজার জন্য বোর্ড অব পিস-এর প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারীরা ‘দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%