শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৪ এম
বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে টানা শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় কর্তৃপক্ষ পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ‘কাজ নাই, বেতন নাই’ নীতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক নোটিশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বন্ধ ঘোষিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ভার্সাটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড এবং ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।
কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে বেআইনি ধর্মঘট পালন, কাজে যোগ না দেওয়া এবং কর্মস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দক্ষিণখানের চালাবন এলাকায় অবস্থিত নাইস অ্যাপারেলসের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু শ্রমিক কারখানার মূল ফটকে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং অন্য শ্রমিকদের কাজে যোগদানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, ওলিও অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ জানায়, শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর এবং সমঝোতার চেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া কারখানাগুলোর অন্যান্য কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সময় জানানো হবে।
এর আগে ১২ অক্টোবর (সোমবার) থেকে ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার দাবি জানানোর পরও সমাধান না হওয়ায় সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী, বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কোনও কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা বন্ধকালীন সময়ের মজুরি পাবেন না। তবে যেসব শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেননি, তাঁদের মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার সুযোগ এই ধারায় নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে আইনের অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটার কারণে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীকে ঢাকায় এসে ফিরে যেতে হয়েছে।
এখন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন, যাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর সময় পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। যদি রাতের বেলায় ঘুমানোর প্রয়োজন হয়, তবে তিনি নিজের দপ্তরে ঘুমাবেন।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শুক্রবার অনুষ্ঠেয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ অব্যাহত ছিল। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের জন্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছেন।
গত শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াসহ সারা দেশে একযোগে লালন স্মরণানুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে। সাঁইজির দর্শন, গান ও মানবতাবোধকে শ্রদ্ধা জানাতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, লালন একাডেমি এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে তিন দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন এবং দেশের সব বিভাগীয় শহরে বড় পরিসরে নানা কর্মসূচি পালিত হবে।
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন মাজার প্রাঙ্গণ ও আঁখড়াবাড়িতে ১৭ অক্টোবর ১ কার্তিক থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এই তিন দিনের আয়োজনে থাকছে সাধুদের নিজস্ব রীতিনীতি অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান, লালন মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা, গভীর রাত অবধি লালন গানের পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লালন মেলা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, বাউল ও ভক্তরা আঁখড়াবাড়িতে সমবেত হতে শুরু করেছেন। সাধুদের নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় বাল্যসেবা, রবিবার সকালে রাখাল সেবা এবং দুপুরে পুণ্যসেবা অনুষ্ঠিত হবে। সাধু-ভক্তদের মতে, এই দিনে সাঁইজি দেহত্যাগ করেছিলেন বিধায় দিনটি তাঁদের কাছে গভীর বেদনার হলেও সাধু সঙ্গ ও ভাবের আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে তাঁরা পরম ভক্তিভরে এই দিবস পালন করেন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তোহিদ বিন-হাসান জানান, লালন মেলা ও তিরোধান দিবসকে ঘিরে লাখো দর্শনার্থীর সমাগম নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে মাজার ও মেলা প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে কুষ্টিয়ার পাশাপাশি রাজধানীতেও থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশেষ লালন স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন গবেষক অধ্যাপক আহমেদ শাকিল হাসমী। আলোচনা সভা শেষে সেখানে দেশের প্রথিতযশা লালনশিল্পী, শিল্পকলা একাডেমি এবং জাসাসের শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে লালনগীতি। এছাড়া সারা দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনের ওপর বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে স্পষ্ট করে জানায় যে, হিন্দু ধর্মের অনগ্রসর বা তফসিলি সম্প্রদায় থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অনগ্রসর শ্রেণী' হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তটি মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখে দেওয়া হয়েছে, যা তামিলনাড়ু সরকারের একটি আদেশ বাতিল করে।
সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ, বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের সমন্বয়ে গঠিত, মাদ্রাজ হাইকোর্টের ২৫ জুনের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির সামাজিক বা কাস্ট স্টেটাস (জাতিগত অবস্থান) নতুন ধর্মে প্রবেশের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হতে পারে না।
শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, “পূর্ববর্তী সামাজিক ব্যবস্থায় ভোগ করা অনগ্রসরতা কেবল ধর্মান্তরের কারণেই নতুন ধর্মে অনগ্রসর শ্রেণীর মর্যাদা পাওয়ার অধিকার তৈরি করে না।” আদালত আরও জানায়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই তামিলনাড়ুর তালিকাভুক্ত সাতটি অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়া যায় না। কোনো প্রশাসনিক আদেশ বা সার্টিফিকেট দিয়ে সংরক্ষণের সাংবিধানিক এবং আইনি শর্ত অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
মামলাটির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের ২০২৪ সালের ৯ মার্চ জারি করা একটি নির্দেশিকা। তামিলনাড়ু ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস কমিশনের সুপারিশে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছিল—হিন্দু অনগ্রসর শ্রেণী, অতি অনগ্রসর শ্রেণী বা তফসিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তিরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হলে তারা সাতটি নির্দিষ্ট অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের একটির অংশ হিসেবে শংসাপত্র পাবেন।
রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কেউ তার পছন্দের ধর্ম পালন করতে পারেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে যাতে তারা অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধাদি হারিয়ে না ফেলেন, তা নিশ্চিত করতেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে জানায় যে, রাজ্য সরকারের এই আদেশটি নির্দিষ্ট মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে কোনো বাস্তব সামাজিক বা আইনি সংযোগ তৈরি না করেই সংরক্ষণের কৃত্রিম পথ খুলে দিয়েছিল। বেঞ্চ জানায়, অনুচ্ছেদ ১৬(৪) অনুযায়ী শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার আগের সামাজিক অনগ্রসরতাকে পুঁজি করে সুবিধা দাবি করা যাবে না।
সংবিধানের (তফসিলি জাতি) আদেশের অনুচ্ছেদ ৩-এর উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারীদের বর্তমান কাঠামোয় ‘তফসিলি জাতি’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। আদালত আরও স্পষ্ট করে, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি যদি পরবর্তীতে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরেও আসেন (পুনর্ধর্মান্তর), তবুও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পুরনো জাতিগত সুবিধা ফিরে পাবেন না। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দেখতে হবে যে, তার আগের সামাজিক পরিচয় আসলেই পুনরুজ্জীবিত হয়েছে কি না এবং তিনি সব আইনি শর্ত পূরণ করছেন কি না।
মামলার সূচনা যেভাবে
এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল 'সমীর আহমেদ' নামের এক ব্যক্তির আবেদনকে কেন্দ্র করে। জন্মসূত্রে হিন্দু (পূর্বনাম পরমাসিবম) এই ব্যক্তি ২০১৫ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নাম পরিবর্তনের পর তিনি অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধা পেতে নিজেকে মুসলিম লেব্বাই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কমিউনিটি সার্টিফিকেটের আবেদন করেন।
স্থানীয় তহশিলদার তার আবেদন বাতিল করলে সমীর আহমেদ তামিলনাড়ু সরকারের ২০২৪ সালের নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। মাদ্রাজ হাইকোর্ট তার সেই আবেদন খারিজ করে এবং সরকারের আদেশটি বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারের আর্জি খারিজ করে হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অনলাইন বিজ্ঞাপনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর গোপনে নজরদারি এবং তাদের ডিভাইসে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার ইনস্টল করার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কানাডার সাইবার ওয়্যারডগ গ্রুপ ‘সিটিজেন ল্যাব’ এবং নিউইয়র্কভিত্তিক অ্যাডভারটাইজিং সিকিউরিটি ফার্ম ‘কনফিয়্যান্ট’-এর পৃথক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি ডিজিটাল অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি ‘ডিসকভার-টেক’ (Discover-Tech) অনলাইন বিজ্ঞাপনের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে এই তথ্য চুরির কার্যক্রম পরিচালনা করত। ফোন বা ইয়ারবাডের মতো সাধারণ পণ্যের বিজ্ঞাপনের আড়ালে এই ভুয়া নেটওয়ার্কটি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছিল। ব্যবহারকারীরা যখন ওই সমস্ত সাইট বা অ্যাপ ভিজিট করতেন, তখন ডিসকভার-টেক তাদের শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম হতো। এমনকি অনেক সময় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতো।
গবেষকদের মতে, ডিসকভার-টেকের এই গুপ্তচরবৃত্তি সেবাটি ইজরায়েলের কুখ্যাত স্পাইওয়্যার কোম্পানি ‘ক্যানডিরু’ (Candiru)-সহ অন্যান্য নজরদারি সংস্থাকে গুগল, কোমাস্ট এবং রাশিয়ার ইয়ানডেক্স-এর মতো বৃহৎ বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার করে দিত। ক্যানডিরুর স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে আড়ি পাতা হতো। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে সরকারের সমালোচকদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে ক্যানডিরুকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওলফি ক্রিস্টল এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “বর্তমান অনলাইন বিজ্ঞাপনের সামগ্রিক কাঠামোই রাষ্ট্র, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য একটি চরম পদ্ধতিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি।”
তবে অভিযুক্ত ডিসকভার-টেক বা এর প্রধান নির্বাহী দেকেল বনির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ