প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে স্পষ্ট করে জানায় যে, হিন্দু ধর্মের অনগ্রসর বা তফসিলি সম্প্রদায় থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অনগ্রসর শ্রেণী' হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তটি মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখে দেওয়া হয়েছে, যা তামিলনাড়ু সরকারের একটি আদেশ বাতিল করে।
সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ, বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের সমন্বয়ে গঠিত, মাদ্রাজ হাইকোর্টের ২৫ জুনের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির সামাজিক বা কাস্ট স্টেটাস (জাতিগত অবস্থান) নতুন ধর্মে প্রবেশের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হতে পারে না।
শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, “পূর্ববর্তী সামাজিক ব্যবস্থায় ভোগ করা অনগ্রসরতা কেবল ধর্মান্তরের কারণেই নতুন ধর্মে অনগ্রসর শ্রেণীর মর্যাদা পাওয়ার অধিকার তৈরি করে না।” আদালত আরও জানায়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই তামিলনাড়ুর তালিকাভুক্ত সাতটি অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়া যায় না। কোনো প্রশাসনিক আদেশ বা সার্টিফিকেট দিয়ে সংরক্ষণের সাংবিধানিক এবং আইনি শর্ত অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
মামলাটির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের ২০২৪ সালের ৯ মার্চ জারি করা একটি নির্দেশিকা। তামিলনাড়ু ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস কমিশনের সুপারিশে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছিল—হিন্দু অনগ্রসর শ্রেণী, অতি অনগ্রসর শ্রেণী বা তফসিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তিরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হলে তারা সাতটি নির্দিষ্ট অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের একটির অংশ হিসেবে শংসাপত্র পাবেন।
রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কেউ তার পছন্দের ধর্ম পালন করতে পারেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে যাতে তারা অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধাদি হারিয়ে না ফেলেন, তা নিশ্চিত করতেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে জানায় যে, রাজ্য সরকারের এই আদেশটি নির্দিষ্ট মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে কোনো বাস্তব সামাজিক বা আইনি সংযোগ তৈরি না করেই সংরক্ষণের কৃত্রিম পথ খুলে দিয়েছিল। বেঞ্চ জানায়, অনুচ্ছেদ ১৬(৪) অনুযায়ী শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার আগের সামাজিক অনগ্রসরতাকে পুঁজি করে সুবিধা দাবি করা যাবে না।
সংবিধানের (তফসিলি জাতি) আদেশের অনুচ্ছেদ ৩-এর উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারীদের বর্তমান কাঠামোয় ‘তফসিলি জাতি’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। আদালত আরও স্পষ্ট করে, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি যদি পরবর্তীতে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরেও আসেন (পুনর্ধর্মান্তর), তবুও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পুরনো জাতিগত সুবিধা ফিরে পাবেন না। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দেখতে হবে যে, তার আগের সামাজিক পরিচয় আসলেই পুনরুজ্জীবিত হয়েছে কি না এবং তিনি সব আইনি শর্ত পূরণ করছেন কি না।
মামলার সূচনা যেভাবে
এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল 'সমীর আহমেদ' নামের এক ব্যক্তির আবেদনকে কেন্দ্র করে। জন্মসূত্রে হিন্দু (পূর্বনাম পরমাসিবম) এই ব্যক্তি ২০১৫ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নাম পরিবর্তনের পর তিনি অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধা পেতে নিজেকে মুসলিম লেব্বাই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কমিউনিটি সার্টিফিকেটের আবেদন করেন।
স্থানীয় তহশিলদার তার আবেদন বাতিল করলে সমীর আহমেদ তামিলনাড়ু সরকারের ২০২৪ সালের নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। মাদ্রাজ হাইকোর্ট তার সেই আবেদন খারিজ করে এবং সরকারের আদেশটি বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারের আর্জি খারিজ করে হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন