শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৫ এম
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে স্পষ্ট করে জানায় যে, হিন্দু ধর্মের অনগ্রসর বা তফসিলি সম্প্রদায় থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অনগ্রসর শ্রেণী' হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তটি মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখে দেওয়া হয়েছে, যা তামিলনাড়ু সরকারের একটি আদেশ বাতিল করে।
সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ, বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের সমন্বয়ে গঠিত, মাদ্রাজ হাইকোর্টের ২৫ জুনের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির সামাজিক বা কাস্ট স্টেটাস (জাতিগত অবস্থান) নতুন ধর্মে প্রবেশের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হতে পারে না।
শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, “পূর্ববর্তী সামাজিক ব্যবস্থায় ভোগ করা অনগ্রসরতা কেবল ধর্মান্তরের কারণেই নতুন ধর্মে অনগ্রসর শ্রেণীর মর্যাদা পাওয়ার অধিকার তৈরি করে না।” আদালত আরও জানায়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই তামিলনাড়ুর তালিকাভুক্ত সাতটি অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়া যায় না। কোনো প্রশাসনিক আদেশ বা সার্টিফিকেট দিয়ে সংরক্ষণের সাংবিধানিক এবং আইনি শর্ত অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
মামলাটির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের ২০২৪ সালের ৯ মার্চ জারি করা একটি নির্দেশিকা। তামিলনাড়ু ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস কমিশনের সুপারিশে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছিল—হিন্দু অনগ্রসর শ্রেণী, অতি অনগ্রসর শ্রেণী বা তফসিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তিরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হলে তারা সাতটি নির্দিষ্ট অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের একটির অংশ হিসেবে শংসাপত্র পাবেন।
রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কেউ তার পছন্দের ধর্ম পালন করতে পারেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে যাতে তারা অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধাদি হারিয়ে না ফেলেন, তা নিশ্চিত করতেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে জানায় যে, রাজ্য সরকারের এই আদেশটি নির্দিষ্ট মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে কোনো বাস্তব সামাজিক বা আইনি সংযোগ তৈরি না করেই সংরক্ষণের কৃত্রিম পথ খুলে দিয়েছিল। বেঞ্চ জানায়, অনুচ্ছেদ ১৬(৪) অনুযায়ী শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার আগের সামাজিক অনগ্রসরতাকে পুঁজি করে সুবিধা দাবি করা যাবে না।
সংবিধানের (তফসিলি জাতি) আদেশের অনুচ্ছেদ ৩-এর উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারীদের বর্তমান কাঠামোয় ‘তফসিলি জাতি’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। আদালত আরও স্পষ্ট করে, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি যদি পরবর্তীতে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরেও আসেন (পুনর্ধর্মান্তর), তবুও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পুরনো জাতিগত সুবিধা ফিরে পাবেন না। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দেখতে হবে যে, তার আগের সামাজিক পরিচয় আসলেই পুনরুজ্জীবিত হয়েছে কি না এবং তিনি সব আইনি শর্ত পূরণ করছেন কি না।
মামলার সূচনা যেভাবে
এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল 'সমীর আহমেদ' নামের এক ব্যক্তির আবেদনকে কেন্দ্র করে। জন্মসূত্রে হিন্দু (পূর্বনাম পরমাসিবম) এই ব্যক্তি ২০১৫ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নাম পরিবর্তনের পর তিনি অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধা পেতে নিজেকে মুসলিম লেব্বাই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কমিউনিটি সার্টিফিকেটের আবেদন করেন।
স্থানীয় তহশিলদার তার আবেদন বাতিল করলে সমীর আহমেদ তামিলনাড়ু সরকারের ২০২৪ সালের নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। মাদ্রাজ হাইকোর্ট তার সেই আবেদন খারিজ করে এবং সরকারের আদেশটি বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারের আর্জি খারিজ করে হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অনলাইন বিজ্ঞাপনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর গোপনে নজরদারি এবং তাদের ডিভাইসে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার ইনস্টল করার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কানাডার সাইবার ওয়্যারডগ গ্রুপ ‘সিটিজেন ল্যাব’ এবং নিউইয়র্কভিত্তিক অ্যাডভারটাইজিং সিকিউরিটি ফার্ম ‘কনফিয়্যান্ট’-এর পৃথক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি ডিজিটাল অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি ‘ডিসকভার-টেক’ (Discover-Tech) অনলাইন বিজ্ঞাপনের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে এই তথ্য চুরির কার্যক্রম পরিচালনা করত। ফোন বা ইয়ারবাডের মতো সাধারণ পণ্যের বিজ্ঞাপনের আড়ালে এই ভুয়া নেটওয়ার্কটি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছিল। ব্যবহারকারীরা যখন ওই সমস্ত সাইট বা অ্যাপ ভিজিট করতেন, তখন ডিসকভার-টেক তাদের শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম হতো। এমনকি অনেক সময় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতো।
গবেষকদের মতে, ডিসকভার-টেকের এই গুপ্তচরবৃত্তি সেবাটি ইজরায়েলের কুখ্যাত স্পাইওয়্যার কোম্পানি ‘ক্যানডিরু’ (Candiru)-সহ অন্যান্য নজরদারি সংস্থাকে গুগল, কোমাস্ট এবং রাশিয়ার ইয়ানডেক্স-এর মতো বৃহৎ বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার করে দিত। ক্যানডিরুর স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে আড়ি পাতা হতো। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে সরকারের সমালোচকদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে ক্যানডিরুকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওলফি ক্রিস্টল এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “বর্তমান অনলাইন বিজ্ঞাপনের সামগ্রিক কাঠামোই রাষ্ট্র, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য একটি চরম পদ্ধতিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি।”
তবে অভিযুক্ত ডিসকভার-টেক বা এর প্রধান নির্বাহী দেকেল বনির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় দুবৃত্তদের গুলিতে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাঁর নাম লুৎফরুজ্জামান ফকির (আলীফ)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতের আনুমানিক ৮.০০ ঘটিকার সময় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে গুলি পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।
নিহত লুৎফরুজ্জামান আলীফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীফ ফকির ‘রূপসী বাংলা’ টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি ‘‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন বলেও জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে লুৎফুজ্জামান ফকির তেলুঞ্জিয়া এলাকার রবিন সাংমার দোকানে তাঁর রেখে যাওয়া মুঠোফোন নিতে যান। এ সময় দুই যুবক এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানের মালিক রবিন রাংসা বলেন, ঘটনার আগে দুই ব্যক্তি তাঁর দোকানে এসে সিগারেট কিনেছিলেন। তাঁদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। এর আগে আলিফ ফকির তার দোকানে একটি মোবাইল ফোন রেখে গিয়েছিলেন। পরে ওই মোবাইল ফোন নিতে ওই দোকানে যান আলিফ ফকির। এরপর ওই দুই ব্যক্তি সিগারেট নিয়ে আলীফ ফকিরের পিছু নেন। এর পরপরই তিনি তিনটি গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে ভয়ে দোকান থেকে বাড়ির ভেতরে চলে যান।
নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সরকার জানান, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন। এ সময় তাঁর স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এমন খবর শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। খবর পেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে রংপুরের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে এই নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এছাড়া, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি প্রদান করে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ