০৩:১০ এম
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বনবিভাগের কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই তিনটি সরকারি রাস্তার ২৩৭টি ইউক্যালিপটাস ও আম গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। স্থানীয় এক মহিলাদল নেত্রীর বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব সরকারি গাছ বিক্রি করে দেওয়ার একটি ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামানিকপাড়া রাস্তায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০০৫ সালে ইউক্যালিপটাস ও আম গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। হঠাৎ করেই গাছগুলো বিক্রির ব্যবস্থা শুরু করে ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।
এফডব্লিউএডি নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে বিক্রির জন্য ১২০টি ইউক্যালিপটাস এবং ১১৭টি আম গাছ চিহ্নিত করে। তবে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, গাছের সংখ্যা ৪০০ এর বেশি হবে। গত ৬ জুলাই, গাছগুলো নিলাম দেওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ওই বেসরকারি সংস্থার চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা দলের সহসভাপতি আসমা ইসলাম। সেই নিলাম ডাকে প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডলও ছিলেন। তবে বনবিভাগের অনুমোদন না থাকায় গাছ ব্যবসায়ীরা ডাকে অস্বীকৃতি জানালে ওই নিলাম কার্যক্রম ভেস্তে যায়।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা
এ অবস্থায় বিএনপি নেত্রী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবারও নিলাম ডাকের আয়োজন করেন। গতকাল রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে দ্বারিয়াপুর স্কুল সংলগ্ন মোড়ে নতুন করে নিলাম ডাক হয়েছে। নিলামে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী। ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো ডাক দিয়ে নেন দ্বারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা গাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। নিলাম ডাক কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান খান, প্রধান শিক্ষক সদেরুল ইসলামসহ গ্রামপুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নিলাম ডাকের পরদিন সোমবার (১৩ জুলাই) ডাককারী আব্দুস সামাদ বেশকিছু শ্রমিক নিয়োগ করে গাছগুলো কাটা শুরু করেন। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে এভাবে গাছগুলো কাটা হচ্ছে এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
উপজেলা মহিলাদলের সহ-সভাপতি এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম জানান, তারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সকল নীতিমালা মেনেই গাছগুলোর টেন্ডার প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবগত করা হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান মন্তব্য করেন, মোবাইলফোনের মাধ্যমে এ নিয়ে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তথ্য নিতে হলে অফিসে আসতে হবে বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার দপ্তরে এ ধরণের কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকারি রাস্তার গাছ কেউ কেটে নিতে পারেন না।’
আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী জানান, ওইসব রাস্তার গাছ টেন্ডার মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদনের জন্য এ দপ্তরে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে, কয়েকদিন পূর্বে একটি অবগত কপি পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন