প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দুশ্চিন্তার হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে লালমনিরহাটে তিস্তাতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের উজানে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার রাতে ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর ৫২ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
গত মাসের শেষের দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল, তবে এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পানি আবারও বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার শঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।
তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে পড়েছে, ফলে চরাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানি বন্দি হয়ে পড়া মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে সাপ এবং বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবেরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘বিকেল থেকে পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় সবদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।’
ঘোড়ামারা চরের বাসিন্দা জহুরুল জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে পানি বাড়া-কমার মধ্যে থাকলেও সোমবার পানির পরিমাণ হঠাৎ বাড়ে। ফলে চরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানির তীব্র চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত বলে দাবি করেন তারা।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই তিস্তায় পানিপ্রবাহ বাড়তে শুরু করে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার এবং রাত ৯টায় ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সর্বাধিক সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন