বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৩৮ এম
বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য এক নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
এই ঘোষণা তিনি বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে ‘বাংলাদেশে অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কমাতে চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ রোডম্যাপ’ শীর্ষক একটি প্রস্তুতিমূলক সভায় করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিশ্বে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এর সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, সরকার, বেসরকারি সংস্থা, প্রাইভেট সেক্টর এবং দেশি-বিদেশি সংস্থার সমন্বয়ে দেশের নাগরিকদের জন্য শহর থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’ গড়ে তোলা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই একটি ‘ন্যাশনাল স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ‘স্পেক্স ২০৩০’ ইনিশিয়াটা।
চক্ষু সেবার ক্ষেত্রে তিনটি অতি জরুরি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ ছানিজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করে আছেন।
এই জনগণের কাছে দ্রুত অস্ত্রোপচার সেবা পৌঁছানো আমাদের অগ্রাধিকার। দ্বিতীয়ত, গ্রামে-গঞ্জে চশমার অভাবে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে এবং মধ্যবয়সী কর্মক্ষম মানুষের উৎপাদনশীলতা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে।
আমরা সব বয়সী মানুষের জন্য বিনামূল্যে ও সহজে চশমা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাই।
সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো কামরুজ্জামান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম ক্বাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ড. ওয়াতিন আলম, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা আর্ক ফাউন্ডেশনের পরিচালক রোমানা হক, রিসার্চ এসোসিয়েট বদরুদ্দীন সাইফি এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহবুব উল কাদিরসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এবং আইএনজিও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মানসিক হতাশাগ্রস্ত ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগে ধানখেতের পোঁকা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশক সেবন করে নিপেন্দ্র সরকার (৬৩) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাসিরনগর থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত নিপেন্দ্র সরকার উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত চান মোহন সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মানসিক হতাশা ও দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবার অগোচরে ধানখেতের পোকা নিধনের কীটনাশক পান করেন নিপেন্দ্র সরকার। পরে স্বজনরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকায় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ছেলে হৃদয় সরকার জানান, তার বাবা প্রায় সাত বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিভিন্ন চিকিৎসক ও কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করানো হলেও তিনি সুস্থ হননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণেই তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের ধারণা।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কীটনাশক পান করার ঘটনায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সরকার দুর্গত মানুষের পাশে আছে। বন্যায় অনেকের বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গেছে। সেগুলো পুনঃনির্মাণের কাজ করতে আমরা চাই।
বুধবার বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভরাখালী এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেসকল কৃষকের বীজ নষ্ট হয়ে গেছে, তাদেরকে বীজ ও চারা দিয়ে আমরা সহযোগিতা করব। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো মেরামতের চেষ্টা করব।
এ সময় মন্ত্রী বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ভরাখালী এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
অন্যান্য উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বর্ষণের কারণে, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় কক্সবাজারে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন।
এদিকে, পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ এবং চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে।
চকরিয়ার দুর্গম বমু বিলছড়ি, বড়ইতলী, বিবিরখীল ও হারবাং, পেকুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এখনো অনেক পরিবার খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তবে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টিসহ মোট ৮৮টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। এসব টিম, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলোআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে জেলার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার ওআরএস, ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন, ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন, ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার, শিশুদের বন্যার পানিতে চলাচল থেকে বিরত রাখার, বিশুদ্ধ পানি পান করার এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মাঝে বুধবার জাতীয় সংসদে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল-২০২৬' পাস হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিলুপ্ত হয়ে একটি সমন্বিত 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ' গঠনের পথ খুলেছে।
বিলটি জরুরি ভিত্তিতে সংসদে উত্থাপন করা ও পাস করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা জোরালো আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের দেওয়া হয়নি।
নতুন এই আইন অনুযায়ী বিদ্যমান তিনটি কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত হয়ে তাদের কার্যক্রম একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ, দ্রুত ও সমন্বিতভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূলত দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি তাৎক্ষণিক বিবেচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা উল্লেখ করেন, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিলটি উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তাদের দেওয়া হয়নি। যথোপযুক্ত পর্যালোচনা ও আলোচনার সুযোগ না দিয়েই কেন সরকার বিলটি দ্রুত পাস করতে চাইছে, সেই প্রশ্নও তাঁরা তোলেন।
পাস হওয়া এই বিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০; বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬; এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ রহিত ও সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে—অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা; লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে সেবার মান ও সময়সীমা নির্ধারণ এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রদান করা।
এ ছাড়া বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়্যালটি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান (টেকনিক্যাল নো-হাউ) ফি, কারিগরি সহায়তা ফি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি পরিশোধ করতে চাইলে, ওই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ যে পরিমাণ রয়্যালটি বা ফি নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সেই পরিমাণ অর্থই পরিশোধ করতে হবে।
বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান বলেন, গত ৯ জুলাই মন্ত্রিসভা বিলটির অনুমোদন দিলেও সংসদে উত্থাপনের আগে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তিন দিনের নোটিশসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংসদ সদস্যদের দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, 'বিলটির মাধ্যমে চারটি বিদ্যমান আইন রহিত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইন ও রহিত হতে যাওয়া আইনগুলোর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে কোনো তুলনামূলক বিবরণ সংসদ সদস্যদের দেওয়া হয়নি।'
অতিরিক্ত, বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে না। তিনি বিলটি পাসের আগে পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'বিলটিতে কী ধরনের ভুল বা ঘাটতি থাকতে পারে কিংবা এত তাড়াহুড়ার কারণ কী, আমরা বুঝতে পারছি না। এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত আছে কি না, সেটিও আমরা জানি না।'
সংসদ সদস্যদের এই আপত্তির উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাদের বিরোধিতা না করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এটি পাসে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ থেকে সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বিলগুলো সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়ে আসছে। তবে বর্তমান বিলের মাধ্যমে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে না।
মন্ত্রী বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে পৃথক আইনের আওতায় গঠিত কয়েকটি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে যে ওভারল্যাপ বা কাজের পুনরাবৃত্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করে বিনিয়োগকারীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতেই এগুলোকে একীভূত করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ' একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে। তুলনামূলক বিবরণীর প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো আইনগত কাঠামো নয়; বরং বিদ্যমান কয়েকটি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার একটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ মাত্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ