ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের সংকট, সেবা ব্যাহত


মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের সংকট, সেবা ব্যাহত

কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুপাশে সারি সারি দেবদারু ও বাহারি ফুল গাছের মাঝখান দিয়ে পাকা সরু রাস্তা ধরে সামনে এগোলে চোখে পড়ে ফলদ ও বনজ বৃক্ষের উদ্যান। চারদিকে বহুতল ভবন, পশ্চিমে বাঁধানো ঘাটসহ বিশাল পুকুর ও মসজিদ এবং উত্তরে সারিবদ্ধ আবাসিক ভবন রয়েছে।

প্রথম দর্শনে যে কারও মনে হতে পারে এটি কোনো বিনোদনকেন্দ্র বা মনোরম রিসোর্ট। তবে প্রধান ফটকের বামে ঝোলানো জরুরি বিভাগের সাইনবোর্ড ও রোগীদের ভিড় দেখলেই সেই ভুল ভেঙে যাবে। এখানে হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কথা বলা হচ্ছে।

গত পাঁচ বছরে এই হাসপাতালের বাহ্যিক চিত্রের পরিবর্তন ঘটেছে। অত্যন্ত নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তবে পরিবেশের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটলেও বর্তমানে চরম জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসকেরা।

আরও পড়ুন: পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. শাফির প্রচেষ্টায় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পর ২০২২ সালে প্রথমবার এই হাওরাঞ্চলে বিনা মূল্যে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার (সিজার) চালু করা হয়। কিন্তু স্থায়ী অ্যানাস্থেসিয়া ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ (শল্য চিকিৎসক) না থাকায় বর্তমানে নিয়মিত এই সিজারিয়ান কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১২ জন কর্মরত আছেন। অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মরিয়ম আক্তার এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলা সদরে প্রেষণে কর্মরত রয়েছেন এবং নেই কোনো গাইনোকোলজিস্টও। একইভাবে ৩১ জন নার্স ও বয়ের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৬ জন (যার মধ্যে ৩ জন প্রেষণে)। মাঠপর্যায়ে ২০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন (যার মধ্যে ২ জন সাময়িক বরখাস্ত)। এছাড়া একমাত্র স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

এত সমস্যার মধ্যেও হাসপাতালটির নতুন ভবনের নিচতলায় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং দ্বিতীয় তলায় শিশুদের উপযোগী নান্দনিক ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ গড়ে তোলা হয়েছে। নানা রঙের খেলনা, পুতুল, দাবা বোর্ড ও রঙিন কাগজের ফুলের ব্যবহারে সাজানো মনমুগ্ধকর এই সেবাকেন্দ্রগুলো স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পাশাপাশি বর্তমান এই কর্মকর্তার যোগদানের পর রোগীদের সুবিধার্থে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও জিন এক্সপার্ট ল্যাবরেটরিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কারিগরি টেকনিশিয়ান না থাকায় নিয়মিত এগুলোর সুফল মিলছে না।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ জন আসামী গ্রেফতার

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অপ্রতুলতার মধ্যেও প্রতি মাসে গড়ে চার থেকে পাঁচটি সিজার, পাঁচ শতাধিক ভর্তি রোগী, ১ হাজার জরুরি রোগী এবং প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ বহির্বিভাগে সেবা নিচ্ছে। প্রায় সোয়া লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই জনপদে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট না থাকায় বিপুল পরিমাণ রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হাঁপিয়ে উঠছেন চিকিৎসকেরা। তাই শূন্য পদগুলোতে দ্রুত পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা ঘাগড়া ইউনিয়নের আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, কম টাকায় ভালো চিকিৎসার আশায় এখানে আসি।’ কাটখাল ইউনিয়নের হোসেন আলী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ এত সুন্দর হতে পারে, তা অন্য কোথাও দেখিনি। টাকা ছাড়াও হাসপাতালে সিজার হয়, তা আমরা জানতাম না। সরকার যদি প্রয়োজনীয় জনবলের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমাদের আর চিকিৎসার জন্য শহরে দৌড়াতে হতো না।’

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল শাফি বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করছি। জনবলসহ নানা সংকট সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিতে সচেষ্ট। সংকট কাটলে হাওরবাসীকে আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে কর্মকর্তাদের কিছুটা অনীহা রয়েছে। তবে এই সংকট থাকবে না, কারণ ইতিমধ্যে সরকার স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। দ্রুত প্রসূতি সেবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট পদায়ন করা হবে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম জামায়াতে আমির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশিত হলো: ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


আজকের মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশিত হলো: ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রবাসে অবস্থান করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজকের (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) মুদ্রার বিনিময় হার উপস্থাপন করা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের

তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশের মুদ্রা বাজারে ডলার কেনার জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৩.৬৫ টাকা। বিক্রির জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৩.৭৫ টাকা। গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৩ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে কেনার মূল্য ১৩৮ টাকা ৫১ পয়সা এবং বিক্রির মূল্য ১৩৮ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

১৩৮.৬৪

৯৬.৬৮

৩২.৯৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল, বিধায়কদের বাড়িতে লুটপাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল, বিধায়কদের বাড়িতে লুটপাট

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীরা একটি সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা এনএইচপিসির অফিস ও একটি পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় রাজ্যের দুই বিধায়ক এবং বিজেপি সভাপতির বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাটে সংঘটিত এই সহিংসতায় ৪০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন উপপুলিশ সুপারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আসামের ডিব্রুগড়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে একজন বিক্ষোভকারীও আহত হন। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া সহিংসতা শনিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের (এসইউএমপি) বিরোধিতায় শুক্রবার ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধের ডাক দিয়েছিল আদি বানে কেবাং ইউনাইটেডসহ কয়েকটি সংগঠন। বিকেল ৫টায় বন্ধ শেষ হওয়ার পরও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। পরে ‘জেন জি’ নামে পরিচিত একটি যুবগোষ্ঠী পাসিঘাট-বোলেং মহাসড়ক অবরোধ করে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২০০ থেকে ৩০০ জনের কয়েকটি দল পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত নয়টি পুলিশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত নিরাপত্তাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য যাওয়া একটি হাসপাতালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহিংসতার সময় পাসিঘাটের বিধায়ক ওনি পাংইয়াং এবং নিনং এরিংয়ের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি কালিং মোয়ংয়ের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। আদি বানে কেবাংয়ের অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন এলাকায় জনসমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রশাসনের নির্দেশে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সহিংসতা ও সম্পত্তির ক্ষতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানানো সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধা ও নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের উত্তর দেওয়া যেতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিকে চাপের মুখে ফেলায় যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


সৌদিকে চাপের মুখে ফেলায় যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ব তেলবাজারে সৌদি আরবের প্রভাব কমে আসার আশঙ্কা—এই সব কারণে রিয়াদ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য বিকল্প অংশীদার খুঁজে বের করার তাগিদ বেড়েছে, তবে এতে নতুন নির্ভরশীলতা তৈরির ঝুঁকিও রয়েছে।

সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে দীর্ঘদিনের একটি দ্বন্দ্ব আবার সামনে এসেছে। দেশটি এমন একটি ইয়েমেন চায়, যা আরব উপদ্বীপে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকানোর জন্য দুর্বল থাকবে, আবার সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথেষ্ট স্থিতিশীলও থাকবে। কিন্তু হুথি বিদ্রোহীরা এই সমীকরণকে উল্টে দিয়েছে।

বহু বছরের যুদ্ধে বিপর্যস্ত ও বিভক্ত ইয়েমেন এখন এমন এক শক্তির ঘাঁটি হয়ে উঠেছে, যেখান থেকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা সম্ভব। একই সঙ্গে বিশ্ব তেলবাজারে বিভাজন বাড়ছে এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থার শর্তও বদলে যাচ্ছে।

ভিন্ন ভিন্ন কারণে তৈরি হওয়া এসব পরিবর্তন সৌদি আরবকে একটি প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে—নিজের ক্ষমতার প্রধান উপকরণগুলো যখন দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠছে, তখন দেশটি কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে?

ইরানের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলার কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের মতো মিত্রের ক্ষেত্রে আরো সূক্ষ্ম কৌশল কার্যকর হতে পারে: দেশটিকে আঞ্চলিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো শক্তিশালী, প্রভাব বিস্তারের মতো সম্পদশালী এবং বাজারকে আশ্বস্ত করার মতো স্থিতিশীল রাখা—তবে একই সঙ্গে এমনভাবে সীমাবদ্ধ রাখা, যাতে তার প্রত্যাখ্যানেরও মূল্য দিতে হয়।

যুদ্ধের স্মৃতি ও সৌদি-ইয়েমেন দ্বন্দ্বের শিকড় দেশটির প্রতিষ্ঠাকাল পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৩৪ সালের যুদ্ধ, তায়েফ চুক্তি এবং আসির, জিজান ও নাজরান অঞ্চল নিয়ে বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ২০০০ সালে সীমান্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হলেও অতীতের ক্ষত পুরোপুরি মুছে যায়নি।

দশকের পর দশক ইয়েমেনের রাজনৈতিক, গোত্রীয় ও ধর্মীয় ভারসাম্যের ওপর সৌদি আরবের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা উল্টো সেই প্রতিরোধকেই শক্তিশালী করেছে, যেটি রিয়াদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল। হুথি আন্দোলনের জন্মভূমি সাদায় ঐতিহাসিকভাবে জায়েদি শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌদি সমর্থিত সালাফি মতাদর্শের বিস্তার বিরোধকে আরও গভীর পরিচয়গত মাত্রা দেয়।

১৯৯০-এর দশকে জায়েদি পুনর্জাগরণ এবং পরে সানার বিরুদ্ধে যুদ্ধ এসব প্রতিরোধ আন্দোলনকে সামরিক রূপ দেয়। ইরান দীর্ঘদিনের এই বিভাজনকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়ে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে হুথিদের নিজস্ব রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও রয়েছে।

২০১৫ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এতে অতীতের ক্ষোভ আরও গভীর হয় এবং হুথিরা সমর্থক সংগ্রহের শক্তিশালী ভিত্তি পায়।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচিত রোডম্যাপ সাময়িকভাবে সংঘাতের গতি কমিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ে রিয়াদ নেতৃত্বাধীন জোটের সানা বিমানবন্দরে হামলার পর সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।

যুদ্ধবিরতি ভাঙার কারণ শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধও জড়িয়ে গেছে। হুথিদের দৃষ্টিতে সৌদি আরবকে আঘাত করার অর্থ উপদ্বীপে ওয়াশিংটনের প্রধান অংশীদারকে তার কথিত অবস্থানের জন্য মূল্য দিতে বাধ্য করা।

রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকোর স্থাপনা এবং বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার ফলে ঐতিহাসিক এই বিরোধ সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার কেন্দ্রেই আঘাত হানছে।

‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার ভিত্তি হলো স্থিতিশীলতা। বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন, বিমান চলাচল এবং অর্থনীতিতে বহুমুখীকরণ—সবকিছুর জন্যই নিরাপদ পরিবেশ জরুরি। সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ বস্তুগত ক্ষতি সামাল দিতে পারলেও দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা দূর করা অনেক কঠিন।

ঝুঁকি এখন দেশটির জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথগুলোকেও ঘিরে ফেলছে। ইরাক থেকে পরিচালিত হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের চাপ সৌদি স্বার্থকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

এর ফলে সৌদি আরবের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত মূল্য বাড়ছে। সৌদি আরবের তেল সরবরাহ যত অনিশ্চিত হচ্ছে, মার্কিন তেল ও গ্যাসের গুরুত্ব তত বাড়ছে।

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, কিন্তু যুদ্ধ বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা চলছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তার প্রধান মিত্রের নিরাপত্তা থেকে আলাদা করেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা করতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার মুখে সৌদি আরব যখন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়েছিল, তখন ওয়াশিংটন তাতে রাজি হয়নি। বরং নিজেদের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় হুথিদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেছিল।

মাসকাটে হওয়া সমঝোতার পরিণতিতে সৌদি জাহাজগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও অভিন্ন শত্রুর মুখোমুখি হওয়া দুই মিত্রের নিরাপত্তাস্বার্থকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক করে দেয় না।

এই প্রেক্ষাপটে ‘মক্কা চুক্তি’কে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের মতো পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এই চুক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

চুক্তির ভাষা শক্তিশালী মনে হলেও বাস্তবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। প্রথম পরীক্ষাতেই এই অস্পষ্টতা সামনে এসেছে। পাকিস্তান নিন্দা ও মধ্যস্থতার ওপর জোর দিয়েছে, আর তুরস্ক কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চেয়েছে।

তবে হামলা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব অবস্থানও বদলাচ্ছে। নিবন্ধ অনুযায়ী, চুক্তিটি সক্রিয় করা হয়েছে এবং নীতিগতভাবে প্রতিরক্ষামূলক সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। তবে তুরস্কের অংশগ্রহণের জন্য তখনো দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদন বাকি ছিল।

এই পরিস্থিতির আরেকটি দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে অনীহা আঞ্চলিক নিরাপত্তার আরও বৈচিত্র্যময় কাঠামো গড়ে ওঠার পথ তৈরি করছে।

ফ্রান্স ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে, যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা বাড়াচ্ছে, তুরস্ক অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পাকিস্তান একই সঙ্গে রিয়াদের সঙ্গে মিত্রতা ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা এবং ২০২৩ সালে রিয়াদ-তেহরান সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে ভূমিকা রাখা চীন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। চীন সরাসরি নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তেল কেনে, বিনিয়োগ করে এবং শর্ত আরোপ না করে মধ্যস্থতা করে।

সৌদি আরবের ওপর চাপ দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে নির্ভরশীল নিরাপত্তাব্যবস্থা থেকে সরে আসতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে একাধিক দেশের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা গ্রহণ করলেই প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন অর্জিত হবে না। এতে পুরোনো নির্ভরশীলতার জায়গায় নতুন নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমলে দর-কষাকষির ক্ষমতাও কমবে। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা যখন শর্তসাপেক্ষ হয়ে উঠছে, তখন সৌদি আরব তার ঐতিহাসিক প্রভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে—বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা।

সৌদি আরবের ক্ষমতা শুধু নিজের উৎপাদিত তেলের ওপর নির্ভর করেনি। অন্য উৎপাদকদের তেল মাটির নিচে রেখে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত করানোর ক্ষমতাও দেশটির প্রভাবের বড় উৎস ছিল।

অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) এবং পরে ওপেক প্লাস এই সমন্বিত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণকে মূল্য নির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের উপকরণে পরিণত করে। কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থায় ফাটল দেখা যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় উৎপাদক দেশটি সম্মিলিত উৎপাদন সীমাবদ্ধতার বাইরে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। তেল উৎপাদনের কোটা নিয়ে রিয়াদের সঙ্গে আবুধাবির মতপার্থক্যও এর মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হচ্ছে।

ইরাকও উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরো স্বাধীনতা চাইছে। তবে দেশটির তেল আয়ের সঙ্গে এমন একটি আর্থিক কাঠামো জড়িত, যার ওপর ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদন কোটা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সৌদি আরবকে শুধু ইরাকের সঙ্গে নয়, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও হিসাব মেলাতে হবে।

সৌদি আরবের হাতে অবশ্য উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের দাম কমিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপে ফেলার পুরোনো কৌশল এখনো রয়েছে। ২০২০ সালে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে রাশিয়াকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে মূল্যযুদ্ধ শুরু করলে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনাও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কারণ কম তেলের দাম প্রতিদ্বন্দ্বীদের পাশাপাশি সৌদি আরবের সরকারি রাজস্বকেও আঘাত করবে।

ভেনেজুয়েলাও দীর্ঘমেয়াদে এই সমীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটি রাতারাতি সৌদি আরবের তেলশক্তির বিকল্প হয়ে উঠবে না। দেশটির অতিভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলনে বহু বছরের বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং এর বাজারমূল্য অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর চাহিদার ওপর নির্ভরশীল।

তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেন্দ্রিক জ্বালানি সম্পর্কের আওতায় আনার চেষ্টা সৌদি আরবের দর-কষাকষির ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চাপ সৌদি আরবের দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে আসার আরেকটি ক্ষেত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নটি সৌদি আরবের জন্য শুধু কূটনৈতিক অবস্থানের বিষয় নয়। এটি দেশটির নিজস্ব জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের দাবির সঙ্গেও জড়িত।

তাই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে সরে আসার রাজনৈতিক মূল্য সৌদি নেতৃত্বের জন্য অনেক বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করছে বলে নিবন্ধে বলা হয়েছে। এমন সময়ে এই চাপ বাড়ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও প্রযুক্তির কৌশলগত মূল্য সৌদি আরবের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফলে রিয়াদের সামনে দ্বিমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রত্যাখ্যান করার খরচ বাড়ছে, আবার শর্ত মেনে ছাড় দেওয়ার রাজনৈতিক মূল্যও বেড়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনমত ও ইতিহাসের স্মৃতি ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির বিষয়টি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তোলার প্রবণতা কীভাবে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হতে পারে, লেখক সে দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।

চাপের ফল হতে পারে উল্টো

সৌদি আরবের ওপর বিভিন্ন দিক থেকে চাপ বাড়লেও এর ফল যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলবে, তা নিশ্চিত নয়।

প্রচলিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা যখন শর্তসাপেক্ষ হয়ে উঠছে, তখন সৌদি আরব আরও বেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিজের সমর্থনের ভিত্তি বিস্তৃত করতে চাইছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় নতুন শক্তিগুলোর ভূমিকা বাড়তে পারে।

ওয়াশিংটন হয়তো এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কিছু কূটনৈতিক ছাড় আদায় করতে পারবে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন এক আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসের গতি বাড়তে পারে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

সৌদি আরবকে চাপের মুখে ফেলে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত মূল্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, আজকের কূটনৈতিক জয় ভবিষ্যতে কৌশলগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আতালায়ার ডটকম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাস্তায় মিলল দেশি কড়ি কাইট্টা, উদ্ধার করে জলাশয়ে অবমুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


রাস্তায় মিলল দেশি কড়ি কাইট্টা, উদ্ধার করে জলাশয়ে অবমুক্ত

শেরপুর সদর উপজেলার কানাশাখোলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশি কড়ি কাইট্টা, যা পরে জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম রাজুর কন্যা আয়েশা সিদ্দিকা রিশা তাদের বাড়ির পথে এটি দেখতে পান এবং উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পরে সাংবাদিক রাজু বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শেরপুরের ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনিকে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে দেশি কড়ি কাইট্টাটিকে জলাশয়ে অবমুক্ত করেন।

শেরপুরের ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, উদ্ধার হওয়া দেশি কড়ি কাইট্টার ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান রুফড টার্টল। এটি বাটাগুর নামেও পরিচিত। তারা জলচর এবং কখনও কখনও ভাসমান গাছের গুঁড়ির উপর রোদ পোহায়। এরা দিবাচর এবং ধীরগতিসম্পন্ন। এরা সর্বভুক; জলজ উদ্ভিদ যেমন- কচুরিপানা, আগাছা এবং প্রাণী, যেমন- কাঁকড়া, শামুক ইত্যাদি খায়। এদের আবাসস্থল হলো প্রচুর গাছ গাছড়াপূর্ণ স্থির বা ধীরে প্রবহমান পানির জলাভূমি। আগে সচরাচর দৃশ্যমান হলেও বর্তমানে এদের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%