০২:৪১ পি.এম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম এবং বহুমুখী রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নিয়ে অধিক বস্তুনিষ্ঠ এবং উচ্চমানের গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘ইতিহাসের প্রতি যে অবিচার এবং কৃপণতা সংঘটিত হয়েছে, সেই অবিচার দূর করার লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার পুরো জীবন, তাঁর চিন্তাভাবনা এবং কাজ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তব্য প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না জানবেন কৃষকরা: প্রধানমন্ত্রী
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিরূপে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, প্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহের লেখা বই ছাড়া শহীদ জিয়াকে নিয়ে তেমন কোনো তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণালব্ধ কাজ চোখে পড়ে না।
তিনি উল্লেখ করেন, এই মহান নেতার অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বড় ধরনের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া তাঁর শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রতিটি মৌলিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সফলতার সূচনা করেছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব মনে করিয়ে দেন, শহীদ জিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের মানুষের নিজস্ব এবং স্বতন্ত্র ভৌগোলিক পরিচয় তথা আইডেন্টিটি বা সত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
শহীদ জিয়ার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, ৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে এক সুতায় গেঁথে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এ ছাড়া তিনি মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন। একটি ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
৭৪-এর মানবসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটকে সামনে এনে মির্জা ফখরুল বলেন, তখনকার আন্তর্জাতিক মহলে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শহীদ জিয়া তাঁর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে টেনে তুলেছিলেন। তিনি দেশের আনাচে-কানাচে পায়ে হেঁটে, কৃষকদের কাছে গিয়ে মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪
নিজ অভিজ্ঞতার স্মৃতি স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দিনাজপুর সফরের সময় প্রেসিডেন্ট জিয়া আকস্মিকভাবে গাড়ি থামিয়ে এক অতি সাধারণ এবং দরিদ্র মায়ের কুটিরে ঢুকে পানি পান করেছিলেন।
রাষ্ট্রনায়ক হয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন একাত্মতা প্রকাশের ফলেই শাহাদাতের পর লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়েছিল, কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।
তৎকালীন ‘টাইম ম্যাগাজিন’ও তাদের প্রতিবেদনে শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তার এই অভূতপূর্ব এবং আবেগঘন চিত্রটি তুলে ধরেছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও সুগারকেন ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়নে জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।
আরও পড়ুন: মিসরে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, ৩৪ জন আহত
এছাড়া তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমী করার লক্ষ্যে ‘হিজবুল বাহার’ জাহাজে করে বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ ঘুরিয়ে দেখানোর অনন্য উদ্যোগ তিনিই নিয়েছিলেন।
বিগত শাসনামলে গণমাধ্যমের একাংশের চাটুকারিতার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মিডিয়া এখন করপোরেট বা বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। বিগত রেজিমের চাটুকারিতা থেকে মুক্ত হয়ে মুক্ত সাংবাদিকতা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সাংবাদিকদের যে লড়াই, তাতে বর্তমান সরকার ও দেশপ্রেমিক জনগণের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।
এ সময় বক্তারা শহীদ জিয়ার রাষ্ট্রদর্শন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং দেশগঠনে তাঁর অবদানের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নারীদের উদ্যোগেই হচ্ছে দুর্গাপূজা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন