মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
০৪:৩০ পি.এম
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী পদে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ।
সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সেতুবন্ধন গড়ে তোলার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বক্তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীপেন দেওয়ানের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। তাঁর নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল হয়েছে। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্বার্থে তাঁকে পুনরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তারা।
রাঙামাটি শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এস এম মঈন উদ্দিন মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং রেজাউর রশিদ পাপ্পুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য বাঞ্চিতা চাকমা, জুম অ্যাস্থেটিক কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমা, রাঙামাটি জেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সুজিত দেওয়ান, সমাজসেবক আমির মোহাম্মদ ছাবের, অ্যাডভোকেট রাজীব চাকমা, নারী নেত্রী রাবেয়া সুলতানা, গৌরিকা চাকমা, মংসুই প্রু মারমা, অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, লুমা লুসাই এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি মো. মইন উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবি জানান। এ সময় তারা আশা প্রকাশ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃতীয় দফায় আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এনিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬৫জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশওি স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা ভাংচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।
ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভূরঘাটা-কালকিনি সড়কের লাল ব্রীজ এলাকার পূর্ব ঢালের ভাঙন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই শুরু হয়েছে মেরামত কাজ। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
সম্প্রতি সড়কটির ভয়াবহ ভাঙন ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তালাশ বিডি-তে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভাঙন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং স্থায়ী সমাধানের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামত কার্যক্রম শুরু করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লাল ব্রীজ সংলগ্ন পূর্ব ঢালের ধসে পড়া অংশে মাটি ভরাট ও সংস্কার কাজ চলছে। শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি দ্রুত সচল ও নিরাপদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সড়ক দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন। ভাঙনের কারণে সড়কের প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিত। সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও কেউ গুরুত্ব দেয়নি। তালাশ বিডিতে সংবাদ প্রকাশের পরপরই কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। তবে শুধু সাময়িক মেরামত নয়, স্থায়ী সমাধান চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে যেন একই স্থানে বারবার ভাঙনের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি ব্যবহার করে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকিরও আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে ভূরঘাটা-কালকিনি সড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অদ্য ইং ০৭/০৬/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬:৩০ ঘটিকায় পত্নীতলা থানাধীন পাটিচরা ইউনিয়নের কাশিপুর সবরিতলা গ্রামের কাচাঁ রাস্তার উপর থেকে আসামি মোঃ এমরান হোসেন (২৪), পিতা- রহিম উদ্দিন মন্ডল, সাং- কাশিপুর মধ্যপারা, থানা- পত্নীতলা, জেলা-নওগাঁ কে আটক পূর্বক তার হেফাজত হতে ১৪০ পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার মূলে জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় মাদক আইনে নিয়মিত মামলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশনে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার লক্ষণখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসেন ফরহাদ (১৬)কে পঞ্চবটী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পঞ্চবটী এলাকার জুয়েল মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ওসি সাঈদ আহমেদ আরও জানান, ভৈরব রেলওয়ে জংশনে সংঘটিত সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং রেল চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুন ভৈরব রেলওয়ে জংশন এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে রেলস্টেশন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় রেলওয়ে স্থাপনায় ভাঙচুর, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং ট্রেন চলাচলে দীর্ঘ সময় বিঘ্ন ঘটে। ঘটনায় রেলওয়ে থানার একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এ ঘটনায় রেলওয়ে থানার পক্ষ থেকে দেড় শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ