সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: মোহাম্মদ নূর
বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:৫০ পি.এম
সুনামগঞ্জের দিরাই থানার পুলিশ একটি বিশেষ অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ০৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২:১০ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিরাই থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল দিরাই বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন এসআই ইসমাইল, এএসআই দিবস, এএসআই মোতালেব এবং তাদের সঙ্গে অন্যান্য ফোর্স।
অভিযানকালে পুলিশের সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি চালিয়ে দুটি নীল রঙের প্যাকেটে রাখা মোট ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো:
১. ফুল মিয়া (৫০), পিতা- মৃত শুকুর আলী, সাং- শ্যামারচর বাজার, থানা- দিরাই, জেলা- সুনামগঞ্জ।
২. আক্তার হোসেন (৪৫), পিতা- ওয়ারিছ আলী, সাং- আটগাঁও, থানা- শাল্লা, জেলা- সুনামগঞ্জ।
উদ্ধারকৃত আলামতসহ আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রেরণ করা হবে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে। মাদক নির্মূলে দিরাই থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ঐতিহাসিক বাগদেবীর মূর্তি ভারতে ফেরানোর উদ্যোগ এখন নতুন গতি পেয়েছে। এতদিন বিষয়টি মূলত আদালত ও স্থানীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
ভারত সরকার আশা করছে, ভোপালে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মদল ও সংস্কৃতিমন্ত্রীদের বৈঠকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সেই আলোচনায় ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা বাগদেবীর মূর্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। চার দিনের এই বৈঠকে ঔপনিবেশিক আমলে চুরি, পাচার বা বিদেশে নিয়ে যাওয়া মূর্তি, ভাস্কর্য ও অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হবে। তবে মধ্যপ্রদেশের মানুষের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, এটি আবেগেরও বিষয়।
বহু বছর ধরে তাদের দাবি, ধারের ভোজশালা চত্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত বাগদেবীর মূর্তিটি ব্রিটিশ জাদুঘর থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সচিব বিবেক আগারওয়াল জানান, মধ্যপ্রদেশ সরকারের অনুরোধ পাওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই মধ্যপ্রদেশ সরকার বাগদেবীর মূর্তি ফিরিয়ে আনার আবেদন জানায়। এরপর থেকে ভারত সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে এবং ব্রিটিশ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাজ্যে ভারতের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। গত ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালা-কামাল মৌলা চত্বর নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। রায়ে আদালত বিরোধপূর্ণ ওই স্থানকে দেবী সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেন। সেইসাথে ২০০৩ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) সেই ব্যবস্থা বাতিল করেন, যা মুসলিমদের সেখানে শুক্রবারের নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল। তাছাড়া আদালত সরকারকে ব্রিটিশ জাদুঘর থেকে বাগদেবীর মূর্তি ফিরিয়ে আনার আবেদনগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
সাদা মার্বেলে তৈরি বাগদেবীর এই মূর্তিটি পরমার যুগের বলে মনে করা হয়। মূর্তির গায়ে থাকা একটি শিলালিপিতে একাদশ শতকের ধারের সঙ্গে এর সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। মূর্তিটির উচ্চতা প্রায় ১ দশমিক ২৮ মিটার এবং ওজন প্রায় ২৫০ কিলোগ্রাম। ব্রিটিশ জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, মেজর জেনারেল উইলিয়াম কিনকেইডের কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে ১৯০৯ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরের সংগ্রহে যুক্ত হয়।
৫ ও ৬ আগস্ট ভোপালে ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মদলের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর ৬ ও ৭ আগস্ট হবে ব্রিকস সাংস্কৃতিক উৎসব এবং ৭ ও ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সংস্কৃতিমন্ত্রীদের বৈঠক। ব্রিকসের ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে ১০টি দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন। শুধু সৌদি আরব এতে অংশ নিচ্ছে না। ভারত এই বৈঠকে বিদেশে থাকা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশে ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের কথাও তুলে ধরবে। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর থেকে বিদেশ থেকে ৬৫৩টি প্রাচীন নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে উদ্ধার করা হয়েছিল মাত্র ১৩টি নিদর্শন। অর্থাৎ বর্তমানে ফেরত আনা মোট প্রাচীন নিদর্শনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৬টি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও চোল ও বিজয়নগর যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য ভারতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বাদশ শতকের সোমাস্কন্দ মূর্তি এবং ষোড়শ শতকের সন্ত সুন্দরার ও পারাবাইয়ের মূর্তি। তাছাড়া চোল যুগের বিখ্যাত শিব নটরাজ মূর্তিটিও যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শনী শেষ হলে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও তামিলনাড়ুর তিনটি প্রাচীন নিদর্শন ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি পাথরের নন্দী, ভদ্রকালীর প্রতিকৃতি খোদাই করা একটি ধাতব ত্রিশূল এবং ছয় মাথাবিশিষ্ট একটি পাথরের কার্তিকেয় মূর্তি। ভারত সরকার বলছে, বিদেশে থাকা দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সেই লক্ষ্যেই ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণা, ৬ আগস্ট, ২০২৬: ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোণা আদর্শ শিশু বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নেত্রকোণা জেলা শাখার উদ্যোগে এবং বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ করে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করেন নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. আনোয়ারুল হক এমপি বলেন, ‘গাছ আমাদের অক্সিজেন, ছায়া ও জীবনের নিরাপত্তা দেয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে শৈশব থেকেই গাছ লাগানো ও নিয়মিত পরিচর্যার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও নেত্রকোণা পৌরসভার প্রশাসক মুন মুন জাহান লিজার সভাপতিত্বে এবং বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম রেজাউল হক মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. নুরুজ্জামান নুরু।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোণা আদর্শ শিশু বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মুশফিকুর রহমান খান ও বাপা নেত্রকোণা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ছোটন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ইমরান খান চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রিপন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট কে আর খান পাঠান সাহের, জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন খান রনি, জেলা বিএনপি’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ এস এম মুসা, পৌর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেরুল আলম রাজু ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন, তারেক জিয়া পরিষদ নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি মীর্জা আজিজুর রহমান হাবলু এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরীসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে গড়াই নদীর শৈলকুপা অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কিছু বছরে উপজেলার সারুটিয়া ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের প্রায় ৫টি গ্রামের কয়েকশ' বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে প্রমত্তা গড়াইয়ের শৈলকুপা অংশের দক্ষিণ পাড়ে নতুন তিনটি জায়গায় ভাঙন শুরু হয়েছে।
সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুড়িয়া গ্রামের কয়েকশ' বিঘা ফসলি জমি গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে বুরুড়িয়া গ্রামের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াপদা) এসব জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে। নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই তাদের বসত ভিটা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্য এলাকায়।
এছাড়া নদীর তীরে মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, বন্দেখালী ও কাশিনাথপুর ঘাট এলাকায় নতুন করে গড়াই নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গড়াই নদীর পানি বাড়ার কারণে নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। স্রোতের কারণে উলুবাড়িয়া গ্রামের নদী ঘেঁষা কয়েকটি জায়গায় প্রায় শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ফসলি জমি হারিয়ে স্থানীয়রা এখন তাদের বসতভিটার ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাফিজুর রহমান বাসস’কে বলেছেন, "আমাদের এলাকার নদী পাড়ের সব ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙন চলছে। আগে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলে এমন ভাঙন হতো না। এখন নতুন সরকার এসেছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত ভাঙন রোধে সরকার পদক্ষেপ নেয়।"
আলম খান নামে অন্য এক কৃষক বলেছেন, "আমাদের বসতি ভিটা ছাড়া আর কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। সব গড়াই নদী গিলে খেয়েছে। যদি বসত ভিটাও নদীতে চলে যায়, তাহলে আমরা যাবো কোথায়?"
উলুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন আলম জানিয়েছেন, "গত ১০ বছরে গড়াই নদীর ভাঙন এতোটা বেড়েছে, যে বুরুড়িয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রামের মৌজার অনেক জমি এখন নদীর বিপরীত পাড়ে চলে গেছে। নদী আগে যেখানে ছিল, তার থেকে ভাঙতে ভাঙতে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে সরে এসেছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হোসনে বাসস’কে বলেছেন, "উলুবাড়িয়া গ্রামের নদী পাড়ের অনেক বাসিন্দা ভাঙন আতঙ্কে বাড়ি ঘর ফেলে অন্য এলাকায় চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কয়েকটি জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। আমরা দিন রাত আতঙ্কে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।"
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) তথ্য অনুযায়ী, শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বরুড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের উলুবাড়িয়া, মাজদিয়া, বন্দেখালী ও কাশিনাথপুর ঘাট এলাকায় অন্তত সাড়ে ৫ কিলোমিটার নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাড়ে ৫ কিলোমিটার নদীপাড়ের ৫টি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। এসব পয়েন্টে বেশ কয়েক বছর ধরেই জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনের তোড়ে অন্তত ৬শ’ একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াপদা) ঝিনাইদের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বাসস’কে বলেছেন, "গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়াই নদীতে ভাঙন চলে আসছে। শৈলকূপার কয়েকটি গ্রামের মৌজাভুক্ত জমি এরই মধ্যে নদীর গর্ভে চলে গেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এমনটা ঘটেছে।"
তিনি আরও বলেছেন, "ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী প্রকল্প প্রণয়ন এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ শুরুর অনুমোদন পেয়েছি। সম্ভাব্যতা যাচাইও শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, আগামী শীত মৌসুমে আমরা ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বা টেকসই ব্লকের বাঁধ বসানোর কাজ শুরু করতে পারব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণভোটের রায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ ৫ আগস্ট (বুধবার) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাঁঠালিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা সদরে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি কাঁঠালিয়ার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এতে জামায়াতে ইসলামী কাঁঠালিয়া উপজেলা শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশ নেন।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ তাঁদের দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ