প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহ, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে গড়াই নদীর শৈলকুপা অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কিছু বছরে উপজেলার সারুটিয়া ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের প্রায় ৫টি গ্রামের কয়েকশ' বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে প্রমত্তা গড়াইয়ের শৈলকুপা অংশের দক্ষিণ পাড়ে নতুন তিনটি জায়গায় ভাঙন শুরু হয়েছে।
সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুড়িয়া গ্রামের কয়েকশ' বিঘা ফসলি জমি গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে বুরুড়িয়া গ্রামের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াপদা) এসব জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে। নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই তাদের বসত ভিটা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্য এলাকায়।
এছাড়া নদীর তীরে মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, বন্দেখালী ও কাশিনাথপুর ঘাট এলাকায় নতুন করে গড়াই নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গড়াই নদীর পানি বাড়ার কারণে নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। স্রোতের কারণে উলুবাড়িয়া গ্রামের নদী ঘেঁষা কয়েকটি জায়গায় প্রায় শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ফসলি জমি হারিয়ে স্থানীয়রা এখন তাদের বসতভিটার ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাফিজুর রহমান বাসস’কে বলেছেন, "আমাদের এলাকার নদী পাড়ের সব ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙন চলছে। আগে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলে এমন ভাঙন হতো না। এখন নতুন সরকার এসেছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত ভাঙন রোধে সরকার পদক্ষেপ নেয়।"
আলম খান নামে অন্য এক কৃষক বলেছেন, "আমাদের বসতি ভিটা ছাড়া আর কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। সব গড়াই নদী গিলে খেয়েছে। যদি বসত ভিটাও নদীতে চলে যায়, তাহলে আমরা যাবো কোথায়?"
উলুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন আলম জানিয়েছেন, "গত ১০ বছরে গড়াই নদীর ভাঙন এতোটা বেড়েছে, যে বুরুড়িয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রামের মৌজার অনেক জমি এখন নদীর বিপরীত পাড়ে চলে গেছে। নদী আগে যেখানে ছিল, তার থেকে ভাঙতে ভাঙতে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে সরে এসেছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হোসনে বাসস’কে বলেছেন, "উলুবাড়িয়া গ্রামের নদী পাড়ের অনেক বাসিন্দা ভাঙন আতঙ্কে বাড়ি ঘর ফেলে অন্য এলাকায় চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কয়েকটি জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। আমরা দিন রাত আতঙ্কে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।"
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) তথ্য অনুযায়ী, শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বরুড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের উলুবাড়িয়া, মাজদিয়া, বন্দেখালী ও কাশিনাথপুর ঘাট এলাকায় অন্তত সাড়ে ৫ কিলোমিটার নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাড়ে ৫ কিলোমিটার নদীপাড়ের ৫টি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। এসব পয়েন্টে বেশ কয়েক বছর ধরেই জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনের তোড়ে অন্তত ৬শ’ একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াপদা) ঝিনাইদের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বাসস’কে বলেছেন, "গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়াই নদীতে ভাঙন চলে আসছে। শৈলকূপার কয়েকটি গ্রামের মৌজাভুক্ত জমি এরই মধ্যে নদীর গর্ভে চলে গেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এমনটা ঘটেছে।"
তিনি আরও বলেছেন, "ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী প্রকল্প প্রণয়ন এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ শুরুর অনুমোদন পেয়েছি। সম্ভাব্যতা যাচাইও শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, আগামী শীত মৌসুমে আমরা ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বা টেকসই ব্লকের বাঁধ বসানোর কাজ শুরু করতে পারব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন