প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতি এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় গ্রহণ করেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন বাহিনী ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো একটি বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।
এর উত্তরস্বরূপ, তেহরান উপসাগরীয় তিনটি দেশে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। ইরান ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থেকে পিছিয়ে গেলেন, ঠিক তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই হামলা ও পালটা হামলার ঘটনা ঘটছে।
এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের বিশেষ সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানাচ্ছে, নতুন করে মার্কিন অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে ইরানের তেল এবং গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। তারা মার্কিন মিত্রদের পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি করেছে।
আইআরজিসি তাদের বক্তব্যে জানায়, ‘এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানি হবে সবার জন্য উন্মুক্ত, নইলে কারো জন্যও থাকবে না।’
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, মার্কিন এই অবরোধের সিদ্ধান্ত গত মাসে শান্তি আলোচনার অন্তর্বর্তীকালীন ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ চুক্তিকে ভেঙে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে’— ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মার্কিন হামলা এবং ইরানের পালটা আঘাতের মধ্যে সংঘাতের পঞ্চম দিনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলবর্তী এবং প্রণালির নিকটবর্তী ডজন খানেক সামরিক ঘাঁটিতে হামলার খবর দিয়েছে। কিন্তু ইরানি গণমাধ্যমগুলো বন্দর নগরী আব্বাস, কিশ দ্বীপ এবং বন্দর ইমাম খোমেনিতে বিশাল বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন হামলার পর immediately বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েত ও জর্ডান তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোর দাবি করে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানাচ্ছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘাঁটিতে এবং বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন স্থাপনায় সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে।
অতিরিক্তভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, যদি তেহরান আলোচনায় বসতে না চায় তাহলে আগামী সপ্তাহে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইরান ক্রমাগত সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করেছে, যার ফলস্বরূপ অন্তত ১২ জন বেসামরিক ক্রু আহত, নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ওমান উপকূলে একটি নরওয়েজিয়ান ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং কুয়েতের একটি নৌযান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, গত এক সপ্তাহে মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলে কোনো হামলা চালালে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দিমোনা শহর থেকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে কেউ পার পেয়ে যাবে—সেই দিন শেষ হয়ে গেছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া ’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন