মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৩ পি.এম
অফিসকক্ষের ছাদের ওপর একটি টিনের ছাপরা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ঠাসাঠাসি করে বসে পাঠ নিচ্ছে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের কারণে তাদের হাঁসফাঁস অবস্থা হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি এলে ভিজতে হচ্ছে তাদের। অথচ ২০ লাখ টাকায় নির্মিত নতুন ভবনের সব শ্রেণিকক্ষ দোকানঘর হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুনাত ফাজিল মাদরাসার।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০১৩ সালে মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতিষ্ঠানটি ফজুমিয়ারহাট এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে ২৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহায়তায় ২০ লাখ টাকায় ছয় শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ওই ছয়টি শ্রেণিকক্ষসহ মোট ৯টি কক্ষ মাসিক তিন হাজার টাকা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে তিন বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া ওঠে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুরনো বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে ছাদে ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে তিন ক্লাসের পাঠদান চলছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ক, খ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদান চলছে ছাদে ছাপড়ার নিচে। তিন ক্লাসের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পাঠ নিচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, রোদের তীব্রতায় ছাদে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ক্লাস বন্ধ করে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। নইলে ভিজতে হয়। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকার অভিভাবক ও বিশিষ্টজনদের না জানিয়ে গোপনে নিজের পছন্দের লোক নিয়ে গভর্নিং বডি গঠন করেছেন অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোছাইন। তিনি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষও ভাড়া দিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভাড়া ও মাদরাসার অভ্যন্তরীণ আয়ের কোনো টাকাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বা মাদরাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অভিভাবকরা বলছেন, ছাদে রোদের তাপে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ নেওয়া কঠিন। আবার বৃষ্টি হলে টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। এতে দিনদিন শিক্ষার মান খারাপ হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের পাবলিক পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক না হওয়ায় অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে প্রতিষ্ঠানটি ডুবে যাচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও গভর্নিং বডির সভাপতির তদারকি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান দিনদিন খারাপ হচ্ছে।
অভিভাবক মো. আবদুর রব ও আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদরাসার নিজস্ব ভবনের শ্রেণিকক্ষ দোকান হিসেবে ভাড়া দিয়ে অধ্যক্ষ ওই টাকা কোন খাতে ব্যয় করছেন, তার কোনো হিসাব দিচ্ছেন না।
তাদের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অথচ নিজস্ব ভবন থাকার পরও শিক্ষার্থীদের ছাদে ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোছাইন বলেন, ‘এটা ঠিক যে, শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছাদের ওপর আরেক তলা করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। সেটা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।’ নতুন ভবনের ৯টি কক্ষ ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে লক্ষ্মীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘সরেজমিন গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা দেওয়া হবে।’
মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি জানতাম না। আপনার কাছে শুনলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্যারিস সেন্ট জার্মেইর মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি চোট থেকে সেরে উঠেছেন এবং মাঠে ফিরতে প্রস্তুত। এটি পিএসজি শিবিরের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অলিম্পিক ডি মার্শেইর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে প্রথম থেকে একাদশে দেখা যেতে পারে এই তারকা রাইট-ব্যাককে।
গত সপ্তাহে ব্রেস্টের বিপক্ষে লিগ ১-এর ম্যাচে খেলার সময় ৩৯তম মিনিটে তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অলিম্পিক ডি মার্শেইর বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সতর্কতামূলকভাবে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের তথ্য অনুযায়ী, হাকিমি ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং আগামী সপ্তাহে নঁতের বিপক্ষে লিগ ওয়ানের ২৬তম রাউন্ডের ম্যাচে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত।
তবে পিএসজি গত সোমবার জানিয়েছে, তার ডান উরুতে কেবল সামান্য টান লেগেছে। আগামী দুই দিন চিকিৎসা নেবেন হাকিমি।
ফরাসি লিগে পিএসজি মার্সেইয়ের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। মার্সেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নতুন খেলোয়াড় চুক্তিবদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
'ল্য ক্লাসিক' নামে পরিচিত পিএসজি এবং মার্সেইয়ের মধ্যকার ম্যাচটি ১৯৯০-এর দশকে খ্যাতি অর্জন করে। রুডি ভোলার এবং জর্জ উইয়ারের মতো তারকাদের আগমনে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হয়। ১৯৯৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা প্রথম ফরাসি দল মার্সেই, ২০১১ সালে কাতারি বিনিয়োগকারীদের দ্বারা পিএসজি অধিগ্রহণের পর থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তবে মাঠের ভেতরে ও বাইরে, উভয় ক্ষেত্রেই এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো বিদ্যমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ফ্রান্স বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু।" সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের স্পিকারের কার্যালয়ে ফ্রান্সের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে স্পিকার এসব কথা বলেন। সাক্ষাতে ফরাসি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সংসদীয় ককাস ও মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক গন্তব্য।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস গঠিত হলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো ত্বরান্বিত হবে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের কূপ অনুসন্ধান ও খননে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ফরাসি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এ সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, "বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয় এবং তারা কখনো স্বৈরাচারী শাসনের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেনি। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকার সমুন্নত রেখেছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ফ্রান্সের নাগরিক ও বুদ্ধিজীবী আন্দ্রে মারলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা স্মরণ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সাক্ষাৎকালে ফরাসি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্পিকারসহ বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির সাজেকে বাবা শান্তি লাল চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে সোহেল চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই ঘটনায় নিহতের ভাতিজা আলোময় চাকমাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, কারাগারে আটক আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এমন পশুবৃত্তসুলভ ও নির্মম হত্যাকান্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।
আসামি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল মন্তব্য করেন, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা বিজ্ঞ আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তীতে পলাতক রয়েছেন। এই হত্যাকান্ডে নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনও সম্পৃক্ততা নেই। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত শান্তি লাল চাকমার হত্যাকাণ্ডে দুইজনকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তি লাল চাকমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওজন কমানোর লক্ষ্যে চীনের তরুণদের মধ্যে একটি নতুন খাদ্যাভ্যাস দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তারা কম ক্যালরির খাবার খাওয়ার পরিবর্তে এমন খাবার বেছে নিচ্ছেন, যেগুলো শক্ত এবং খেতে দীর্ঘ সময় ধরে চিবাতে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের খাবারের ছবি ও নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন অনেক তরুণ। তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শুকনো গরুর মাংস, হিমায়িত রুটি এবং এমনকি শিশুদের দাঁত ওঠার সময় খাওয়ানো হয় এমন বিস্কুটও।
এসব খাবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো সহজে চিবানো যায় না। খেতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে চিবাতে হয়। খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের ধারণা, দীর্ঘ সময় চিবানোর ফলে মুখ ব্যস্ত থাকে এবং মস্তিষ্কে পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হয়। ফলে বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যেতে পারে। তাই তাদের কাছে খাবারের স্বাদ বা ক্যালরির পরিমাণের চেয়ে খাবার কতটা শক্ত এবং কতক্ষণ চিবাতে হয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকের বিশ্বাস, খাবার যত শক্ত হবে এবং যত বেশি সময় চিবাতে হবে, তত বেশি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ইগেশিয়াংমুজিংলি’ নামে পরিচিত। তিনি ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ডাংশেন নামের এক ধরনের শিকড় চিবিয়ে খান। চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ডাংশেনকে প্লীহা ও ফুসফুসের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। ওই নারী সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানিয়েছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও খাবারের ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা তার জন্য কঠিন। তাই তিনি এমন খাবার খোঁজেন, যা দীর্ঘ সময় ধরে চিবিয়ে খাওয়া যায়। এতে কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, ডাংশেনের স্বাদ হালকা মিষ্টি। মাংসের স্বাদের প্রচলিত খাবারের তুলনায় এই স্বাদ তার বেশি পছন্দ। মাঝে মাঝে তিনি কোনো বাড়তি উপাদান ছাড়া শুকনো গরুর মাংস এবং চিনি ছাড়া চুইংগামও খান।
চিবিয়ে খাওয়ার এই নতুন প্রবণতার কারণে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শক্ত খাবার নিয়েও তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝৌশান শহরের তৈরি একটি শক্ত কেক সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন। খাবারটি এতটাই শক্ত যে এটি ‘ইটের মতো শক্ত’ বলে পরিচিত। সূর্যের আলোতে শুকানো আঠালো চাল দিয়ে এই কেক তৈরি করা হয়। প্রাচীনকালে দীর্ঘদিন খাবার সংরক্ষণের জন্য এটি ব্যবহার করা হতো। সামরিক অভিযান কিংবা সমুদ্রে মাছ ধরার সময় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়- এমন খাবার হিসেবে এটি রাখা হতো। এখন নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই খাবার আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। চিবিয়ে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে রয়েছে গুয়াংডংয়ের ভাজা চালের বিস্কুট এবং শানডংয়ের প্যানকেক।
ওজন কমানোর চেষ্টা করা এসব তরুণের কাছে খাবারে কত ক্যালরি আছে, সেটি আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং অল্প পরিমাণ খাবার দীর্ঘ সময় ধরে চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেউ কেউ এতটাই দীর্ঘ সময় চিবাতে চান যে মানুষের খাবার নয়, কুকুরের জন্য তৈরি চিবানোর কাঠির প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় উদ্বেগ কমাতে তিনি কুকুরের জন্য তৈরি চিবানোর কাঠি ব্যবহার করেন। তার দাবি, একটি কাঠি চিবাতেই কখনো কখনো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। তিনি আরো দাবি করেছেন, এটি মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
চীনের তরুণদের মধ্যে চিবিয়ে খাওয়ার খাবার বেছে নেওয়া ওজন কমানোর একমাত্র কৌশল নয়। অনেকে সাধারণ খাবারের মধ্যেও কম গ্লাইসেমিক সূচকের খাবার বেছে নিচ্ছেন। এসব খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে। কেউ কেউ ‘মানুষের খাবার’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতিও অনুসরণ করছেন। এতে মূলত মাংস ও সবজি ছোট ছোট টুকরো করে হিমায়িত করে রাখা হয়। চরমভাবে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার কঠোর ডায়েটের তুলনায় এসব পদ্ধতিকে অনেকে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন। তবে কোনো একটি খাবার বেশি সময় ধরে চিবালেই যে ওজন কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোট খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়েও বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, খাবার ভালোভাবে চিবালে মানসিক চাপ কমতে পারে। চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতিতেও খাবার ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে খাবার হজমে কিছুটা সুবিধা হতে পারে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ