ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হিলিতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ মাসে আটক ৪৫২ জন


হিলিতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ মাসে আটক ৪৫২ জন

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যেখানে শুধুমাত্র মাদক বহনকারী বা সেবনকারী নয়, বরং এর নেপথ্যে থাকা সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতেও চলছে নজরদারি। স্থানীয় সচেতন মহল এর বিরুদ্ধে পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তাদের দাবি যে এমন অভিযান যেন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকে।

হাকিমপুর থানা সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযানগুলোতে মদ্যপায়ী ২৪২ জনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে, এবং মাদক সেবনের দায়ে ২১০ জনকে আটক করাও হয়েছে। ফলে, সর্বমোট ৪৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখে চলেছে বলেও জানানো হয়েছে।

হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান মন্তব্য করেছেন যে, হাকিমপুর উপজেলা একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার অনেক বেশি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এই নীতির প্রেক্ষিতে হাকিমপুর থানা পুলিশ যে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তার জন্য তারা সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশকে সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ

সাধারণ সম্পাদক ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেছেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদকসেবীদের চিহ্নিত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটি ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হিলির মাদক প্রবণতা আরও কমে আসবে এবং মাদক সেবীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। তিনি প্রশাসনের ছবিেই পুলিশকে সমর্থন জানিয়েছেন।

হাকিমপুর উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেছেন, মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের পক্ষে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে যাতে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সন্তানদের বাঁচানো যায়। তিনি সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

হাকিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল ইমরান বলেছেন, পুলিশের কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের নিয়মিত অভিযান ও তৎপরতা এলাকায় যুবসমাজের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পূর্বে সহজে মাদক পাওয়া যেত, তবে এখন পরিস্থিতির অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে। তবে সমাজ থেকে মাদকের নির্মূলের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে এখানে মাদকের সহজলভ্যতা রয়েছে। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে এবং সব সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে মাদকবিরোধী সচেতনতা প্রচারে সহায়তার আহ্বান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা

হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ্ বলেছেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে পুলিশের সঙ্গে সচেতন সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর ফলে মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থার মূল হোতাদের শনাক্ত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএসইর বাজার মূলধন হারাল ৩০০ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১২ এম


ডিএসইর বাজার মূলধন হারাল ৩০০ কোটি টাকা

সূচকের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে। এতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমে গেছে ২৯৯ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। সপ্তাহ ব্যবধানে, ডিএসইর বাজার মূলধন কমে গেছে শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বা ২৯৯ কোটি টাকা। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মূলধন ছিল ৭ লাখ ৯ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা।

চলতি সপ্তাহে ডিএসইতে একটি বাদে বেড়েছে সব কয়টি সূচকের মান। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২২.৯৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সাথে, ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তবে ডিএসইএস সূচক কমেছে ৩.৫৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ।

ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। সপ্তাহজুড়ে এই বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৯৮৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৭২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ২৬০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১৮৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ১৮১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে, ডিএসইতে ৩৮৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬২টি কোম্পানির, কমেছে ২০৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিকে, সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ০.৪৯ শতাংশ ও ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৮০৩.৪৭ পয়েন্টে ও ৯৬২৭.৭৪ পয়েন্টে। এছাড়া, সিএসই-৩০ সূচক ১.১৮ শতাংশ ও সিএসআই ০.২৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৪০৯৭.৫৮ পয়েন্টে ও ৮৭৭.৮৬ পয়েন্টে। আর সিএসই-৫০ সূচক বেড়েছে ০.৩৯ শতাংশ, যা অবস্থান করছে ১১২৪.২০ পয়েন্টে।

চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২০২ কোটি ১ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১২১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩২৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৫টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির কোম্পানির শেয়ার দর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, ভরিতে কতটা কমলো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৪ এম


দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, ভরিতে কতটা কমলো?

টানা ৩ দফা বাড়ানোর পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এ তথ্য জানিয়ে বাজুস একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে, গত ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছে।

স্বর্ণের দাম কমানোর পরও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬২ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে দাম ৩২ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ৩০ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোনের অপমানের প্রতিশোধ নিতে ২২ বছর পর খুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


বোনের অপমানের প্রতিশোধ নিতে ২২ বছর পর খুন

ঘটনাটি সিনেমার মতোই। গত ১৬ জুলাই উত্তর-পশ্চিম দিল্লির কাঞ্জাওয়ালা এলাকায় চান্দপুর মাজরা রোডের কাছে একটি স্কোর্পিও গাড়ি একটি স্কুটারকে চাপা দেয়।

এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান স্কুটারের আরোহী, মাজরার ডাবাস গ্রামের বাসিন্দা দীপক ডাবাস (৪৫)। প্রথম দিকে সবাই এটি সড়ক দুর্ঘটনা বলেই ভেবেছিল।

এখন আমরা একটু পেছনে ফিরে যাই। এটি ২২ থেকে ২৭ বছর আগে ঘটে। ১৬ জুলাই নিহত দীপক ডাবাস একই গ্রামের এক নারীর প্রতি হেনস্থা করেছিলেন। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীর চাচাতো ভাই রাজপাল দীপককে বেদম মারধর করেন। রাজপালের মারধরের পর দীপক চুপ করে বসে থাকেননি। সুযোগ পেয়ে তিনিও রাজপালের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন।

এই ঘটনার পর থেকে মাজরা ডাবাস গ্রামের এই দুই পরিবারে তীব্র বৈরিতা সৃষ্টি হয়।

সেই নারীর ভাই পবন, যিনি ওরফে জগড়াল ডাবাস, তিনি বোনের অপমান কখনো ভুলতে পারেননি। তিনি ২২ থেকে ২৭ বছর ধরে প্রতিশোধের আগুন পুষে রেখেছিলেন। সেই দহনেই দীপকের প্রাণ যায়। পবন ডাবাস দীপককে হত্যা করার জন্য খুনী ভাড়া করেন।

দীপককে হত্যায় পবন মরিয়া হয়ে অন্তত তিনবার দীপককে হত্যা করার চেষ্টা করেন। ১৬ জুলাইয়ের গাড়ি দিয়ে ধাক্কার ঘটনা ছিল তৃতীয় ও সফল চেষ্টা।

১৬ জুলাই কাঞ্জাওয়ালা থানায় একটি পিসিআর কল আসে যে, একটি মাঠের মধ্যে এসইউভি গাড়ির পাশে এক ব্যক্তি মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীপকের মরদেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে তার স্কুটার পড়ে ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় এটিকে দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ জানতে পারে, ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, ২ জুলাই দীপক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। তখন পুলিশের সন্দেহ বৃদ্ধি পায়।

তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করা হয় যাতে দেখা যায়, দুই দুর্ঘটনায় কোনো যোগসূত্র আছে কিনা। তদন্ত শেষে পুলিশ সন্দেহে পৌঁছায় যে, ২ জুলাইয়ের দুর্ঘটনাটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। বরং পুলিশ ধারণা করছে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দীপককে হত্যার চেষ্টা করেছিল এবং ১৬ জুলাইয়ের সংঘর্ষটি ছিল তাঁদের দ্বিতীয় ও সফল প্রচেষ্টা। তবে এখন জানা যাচ্ছে, গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার দ্বিতীয় চেষ্টা হলেও এর আগে গুলি করেও দীপককে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অর্থাৎ হত্যাকারীরা আসলে তৃতীয় চেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ জুলাই মাজরা ডাবাসের কাছে প্রেম পেয়াউ রোডে যখন দীপক স্কুটার চালাচ্ছিলেন, তখন একটি সাদা রঙের হুন্ডাই আই১০ গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা হিসাবে দেখা হয়েছিল। সেবার দীপক প্রাণে বেঁচে যান।

দীপকের মৃত্যুর পরদিন, ১৭ জুলাই পুলিশ ৩০ বছর বয়সী সাগর ওরফে কালাকে গ্রেফতার করে। সাগর জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যা ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত প্রকাশ করে এবং দীপককে হত্যার উদ্দেশ্যে ২ জুলাই ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি দিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলায় ব্যবহৃত হুন্ডাই আই১০ গাড়িটি পরে অতুল ওরফে মন্টি (৩০) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। গাড়িটি উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীরা প্রথম হামলার চেষ্টার একটি বস্তুগত যোগসূত্র পান এবং এটি তাঁদের পুরো পরিকল্পনাটি সাজাতে সাহায্য করে।

তদন্ত করতে নেমে চমকে যায় পুলিশ। বেরিয়ে আসে ২২ থেকে ২৭ বছরের পুরোনো এক প্রতিশোধের গল্প। দীপককে হত্যা করার মূল পরিকল্পনাকারী সেই গ্রামের বাসিন্দা পবন ওরফে জগড়াল ডাবাস (৪৫)। বোনের অপমানের বদলা নিতে দীপককে হত্যার জন্য তিনি খুনীদের ভাড়া করেছিলেন। গত বুধবার পুলিশ পবনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাচেষ্টা ও হত্যায় ব্যবহৃত গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ বেড, কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ বেড, কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আগামীকাল শনিবার আরও ৫০০ শয্যার নতুন একটি ভবন চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান ওইদিন সকাল ১০টায় নতুন ভবনটির শুভ উদ্বোধন করবেন, বলার জন্য আশা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও শেষ হয়ে রয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে মোট শয্যার সংখ্যা বেড়ে এক হাজারে দাঁড়াবে। এর ফলে হাসপাতালটি দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসাবে পরিণত হতে পারবে।

সাইট ভিজিটে দেখা যায়, নতুন ভবনটি ১৫ তলা বিশিষ্ট। এর নিচের তিনতলা বেজমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বেজমেন্টে পার্কিং এরিয়া সহ সার্ভিস সেকশনও রয়েছে। উপরের ১২ তলায় রয়েছে ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিটের ব্যবস্থা। এখানে ৪০টি আইসিইউ বেড, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড ও ১১২টি কেবিন অবস্থান করছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করার পর জানা গেছে, এখানে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকের রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এর পরেই রয়েছে দুর্ঘটনার ফলে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগী।

অন্য রোগীদের মধ্যে পার্কিনসন্স ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী, হাইড্রোকেফালাসসহ নিউরোলজিক্যাল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা সেবা গ্রহণ করেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসা এই হাসপাতালে পাওয়া যায়।

হাসপাতালটির নতুন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, এটি ১৫তলা বিশিষ্ট নিনস ইউনিট-২ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম)। এটি দেশের কোনো সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রথমবারের মত সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট, যা সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জন্য ব্যবস্থাপনা করবে। এখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) সুবিধা পাবেন রোগীরা। চারটি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি রয়েছে। এই আধুনিক ওটিতে অস্ত্রোপচার হওয়া রোগীদের ইনফেকশন ঝুঁকি নেই।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, সাধারণভাবে পঙ্গু ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের পরিবহন করতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ থাকে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য নতুন ভবনে রোগী স্থানান্তরের সুযোগ সুবিধা রয়েছে, যেমন এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে যাওয়ার জন্য একটি থেকে তিনতলা পর্যন্ত চলন্ত সিঁড়ি রয়েছে। এটিও দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মত সংযোজন করা হয়েছে। ৪০ শয্যার আইসিইউ ও ২০ শয্যার এইচডিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সুবিধা সহ ৬২টি ভেন্টিলেটর সংযোগ করা হয়েছে। আরও রয়েছে একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন। অত্যাধুনিক অটোক্লেভ ও চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণের জন্য সলিড ওয়েস্ট ডিজপোজাল সিস্টেম ও পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট ব্যবস্থা সুবিধা রয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) নতুন ভবনটির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এই নতুন ভবনের মাধ্যমে হাসপাতালে সংযুক্ত হবে আরও ৫০০ শয্যা।

বর্তমানে শয্যাসঙ্কটের কারণে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। এখানে শয্যার বাইরে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না। উদ্বোধনের পর আমরা আরও অনেক রোগীকে বিশ্বমানের সেবা দিতে সক্ষম হব। রোগীকে আর ফিরিয়ে দিতে হবে না।

তিনি জানান, দেশে নিউরো রোগীদের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে এই হাসপাতালের নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করবেন। এটি আমাদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি ও গর্বের বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%