১০:০৬ এম
দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যেখানে শুধুমাত্র মাদক বহনকারী বা সেবনকারী নয়, বরং এর নেপথ্যে থাকা সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতেও চলছে নজরদারি। স্থানীয় সচেতন মহল এর বিরুদ্ধে পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তাদের দাবি যে এমন অভিযান যেন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকে।
হাকিমপুর থানা সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযানগুলোতে মদ্যপায়ী ২৪২ জনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে, এবং মাদক সেবনের দায়ে ২১০ জনকে আটক করাও হয়েছে। ফলে, সর্বমোট ৪৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখে চলেছে বলেও জানানো হয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান মন্তব্য করেছেন যে, হাকিমপুর উপজেলা একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার অনেক বেশি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এই নীতির প্রেক্ষিতে হাকিমপুর থানা পুলিশ যে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তার জন্য তারা সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশকে সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
সাধারণ সম্পাদক ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেছেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদকসেবীদের চিহ্নিত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটি ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হিলির মাদক প্রবণতা আরও কমে আসবে এবং মাদক সেবীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। তিনি প্রশাসনের ছবিেই পুলিশকে সমর্থন জানিয়েছেন।
হাকিমপুর উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেছেন, মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের পক্ষে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে যাতে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সন্তানদের বাঁচানো যায়। তিনি সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
হাকিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল ইমরান বলেছেন, পুলিশের কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের নিয়মিত অভিযান ও তৎপরতা এলাকায় যুবসমাজের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পূর্বে সহজে মাদক পাওয়া যেত, তবে এখন পরিস্থিতির অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে। তবে সমাজ থেকে মাদকের নির্মূলের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে এখানে মাদকের সহজলভ্যতা রয়েছে। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে এবং সব সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে মাদকবিরোধী সচেতনতা প্রচারে সহায়তার আহ্বান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ্ বলেছেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে পুলিশের সঙ্গে সচেতন সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর ফলে মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থার মূল হোতাদের শনাক্ত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন