প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঘটনাটি সিনেমার মতোই। গত ১৬ জুলাই উত্তর-পশ্চিম দিল্লির কাঞ্জাওয়ালা এলাকায় চান্দপুর মাজরা রোডের কাছে একটি স্কোর্পিও গাড়ি একটি স্কুটারকে চাপা দেয়।
এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান স্কুটারের আরোহী, মাজরার ডাবাস গ্রামের বাসিন্দা দীপক ডাবাস (৪৫)। প্রথম দিকে সবাই এটি সড়ক দুর্ঘটনা বলেই ভেবেছিল।
এখন আমরা একটু পেছনে ফিরে যাই। এটি ২২ থেকে ২৭ বছর আগে ঘটে। ১৬ জুলাই নিহত দীপক ডাবাস একই গ্রামের এক নারীর প্রতি হেনস্থা করেছিলেন। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীর চাচাতো ভাই রাজপাল দীপককে বেদম মারধর করেন। রাজপালের মারধরের পর দীপক চুপ করে বসে থাকেননি। সুযোগ পেয়ে তিনিও রাজপালের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন।
এই ঘটনার পর থেকে মাজরা ডাবাস গ্রামের এই দুই পরিবারে তীব্র বৈরিতা সৃষ্টি হয়।
সেই নারীর ভাই পবন, যিনি ওরফে জগড়াল ডাবাস, তিনি বোনের অপমান কখনো ভুলতে পারেননি। তিনি ২২ থেকে ২৭ বছর ধরে প্রতিশোধের আগুন পুষে রেখেছিলেন। সেই দহনেই দীপকের প্রাণ যায়। পবন ডাবাস দীপককে হত্যা করার জন্য খুনী ভাড়া করেন।
দীপককে হত্যায় পবন মরিয়া হয়ে অন্তত তিনবার দীপককে হত্যা করার চেষ্টা করেন। ১৬ জুলাইয়ের গাড়ি দিয়ে ধাক্কার ঘটনা ছিল তৃতীয় ও সফল চেষ্টা।
১৬ জুলাই কাঞ্জাওয়ালা থানায় একটি পিসিআর কল আসে যে, একটি মাঠের মধ্যে এসইউভি গাড়ির পাশে এক ব্যক্তি মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীপকের মরদেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে তার স্কুটার পড়ে ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় এটিকে দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ জানতে পারে, ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, ২ জুলাই দীপক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। তখন পুলিশের সন্দেহ বৃদ্ধি পায়।
তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করা হয় যাতে দেখা যায়, দুই দুর্ঘটনায় কোনো যোগসূত্র আছে কিনা। তদন্ত শেষে পুলিশ সন্দেহে পৌঁছায় যে, ২ জুলাইয়ের দুর্ঘটনাটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। বরং পুলিশ ধারণা করছে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দীপককে হত্যার চেষ্টা করেছিল এবং ১৬ জুলাইয়ের সংঘর্ষটি ছিল তাঁদের দ্বিতীয় ও সফল প্রচেষ্টা। তবে এখন জানা যাচ্ছে, গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার দ্বিতীয় চেষ্টা হলেও এর আগে গুলি করেও দীপককে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অর্থাৎ হত্যাকারীরা আসলে তৃতীয় চেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ জুলাই মাজরা ডাবাসের কাছে প্রেম পেয়াউ রোডে যখন দীপক স্কুটার চালাচ্ছিলেন, তখন একটি সাদা রঙের হুন্ডাই আই১০ গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা হিসাবে দেখা হয়েছিল। সেবার দীপক প্রাণে বেঁচে যান।
দীপকের মৃত্যুর পরদিন, ১৭ জুলাই পুলিশ ৩০ বছর বয়সী সাগর ওরফে কালাকে গ্রেফতার করে। সাগর জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যা ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত প্রকাশ করে এবং দীপককে হত্যার উদ্দেশ্যে ২ জুলাই ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি দিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলায় ব্যবহৃত হুন্ডাই আই১০ গাড়িটি পরে অতুল ওরফে মন্টি (৩০) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। গাড়িটি উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীরা প্রথম হামলার চেষ্টার একটি বস্তুগত যোগসূত্র পান এবং এটি তাঁদের পুরো পরিকল্পনাটি সাজাতে সাহায্য করে।
তদন্ত করতে নেমে চমকে যায় পুলিশ। বেরিয়ে আসে ২২ থেকে ২৭ বছরের পুরোনো এক প্রতিশোধের গল্প। দীপককে হত্যা করার মূল পরিকল্পনাকারী সেই গ্রামের বাসিন্দা পবন ওরফে জগড়াল ডাবাস (৪৫)। বোনের অপমানের বদলা নিতে দীপককে হত্যার জন্য তিনি খুনীদের ভাড়া করেছিলেন। গত বুধবার পুলিশ পবনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাচেষ্টা ও হত্যায় ব্যবহৃত গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন