প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আগামীকাল শনিবার আরও ৫০০ শয্যার নতুন একটি ভবন চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান ওইদিন সকাল ১০টায় নতুন ভবনটির শুভ উদ্বোধন করবেন, বলার জন্য আশা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও শেষ হয়ে রয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে মোট শয্যার সংখ্যা বেড়ে এক হাজারে দাঁড়াবে। এর ফলে হাসপাতালটি দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসাবে পরিণত হতে পারবে।
সাইট ভিজিটে দেখা যায়, নতুন ভবনটি ১৫ তলা বিশিষ্ট। এর নিচের তিনতলা বেজমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বেজমেন্টে পার্কিং এরিয়া সহ সার্ভিস সেকশনও রয়েছে। উপরের ১২ তলায় রয়েছে ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিটের ব্যবস্থা। এখানে ৪০টি আইসিইউ বেড, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড ও ১১২টি কেবিন অবস্থান করছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করার পর জানা গেছে, এখানে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকের রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এর পরেই রয়েছে দুর্ঘটনার ফলে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগী।
অন্য রোগীদের মধ্যে পার্কিনসন্স ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী, হাইড্রোকেফালাসসহ নিউরোলজিক্যাল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা সেবা গ্রহণ করেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসা এই হাসপাতালে পাওয়া যায়।
হাসপাতালটির নতুন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, এটি ১৫তলা বিশিষ্ট নিনস ইউনিট-২ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম)। এটি দেশের কোনো সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রথমবারের মত সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট, যা সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জন্য ব্যবস্থাপনা করবে। এখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) সুবিধা পাবেন রোগীরা। চারটি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি রয়েছে। এই আধুনিক ওটিতে অস্ত্রোপচার হওয়া রোগীদের ইনফেকশন ঝুঁকি নেই।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, সাধারণভাবে পঙ্গু ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের পরিবহন করতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ থাকে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য নতুন ভবনে রোগী স্থানান্তরের সুযোগ সুবিধা রয়েছে, যেমন এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে যাওয়ার জন্য একটি থেকে তিনতলা পর্যন্ত চলন্ত সিঁড়ি রয়েছে। এটিও দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মত সংযোজন করা হয়েছে। ৪০ শয্যার আইসিইউ ও ২০ শয্যার এইচডিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সুবিধা সহ ৬২টি ভেন্টিলেটর সংযোগ করা হয়েছে। আরও রয়েছে একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন। অত্যাধুনিক অটোক্লেভ ও চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণের জন্য সলিড ওয়েস্ট ডিজপোজাল সিস্টেম ও পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট ব্যবস্থা সুবিধা রয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) নতুন ভবনটির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এই নতুন ভবনের মাধ্যমে হাসপাতালে সংযুক্ত হবে আরও ৫০০ শয্যা।
বর্তমানে শয্যাসঙ্কটের কারণে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। এখানে শয্যার বাইরে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না। উদ্বোধনের পর আমরা আরও অনেক রোগীকে বিশ্বমানের সেবা দিতে সক্ষম হব। রোগীকে আর ফিরিয়ে দিতে হবে না।
তিনি জানান, দেশে নিউরো রোগীদের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে এই হাসপাতালের নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করবেন। এটি আমাদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি ও গর্বের বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন