০২:১০ পি.এম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভরা মৌসুমেও মাছের দেখা নেই। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও, জেলার একমাত্র এই অবতরণ কেন্দ্রটি সীমিত সরবরাহের মধ্যেই চলছে।
মৎস্যজীবীদের মতে, চলতি বছরে অতিবৃষ্টি এবং আগাম বন্যার কারণে হাওড়ে মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের সংকটের পাশাপাশি তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে তারা বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, হাওরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমাতে তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড
ভোরের আলো ফুটতেই, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মাছের আড়তে হাওড় পাড়ের ব্যবসায়ী ও জেলেরা ভিড় করেন। বিভিন্ন হাওড় থেকে নৌকায় করে মাছ নিয়ে আসা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকের মধ্যে হাওড়ের দেশীয় মাছ বিক্রি হয় এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। তবে মাছের আমদানি কম থাকায় বেচাকেনায় মন্দা রয়েছে, বলে জানান তারা।
নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী এবং পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের মধ্যনগর, ধর্মপাশাসহ বিভিন্ন হাওড়ের মাছ আসে মোহনগঞ্জের এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। দেশীয় মাছের মধ্যে পুঁটি, টেংরা, পাবদা, বোয়াল, আইড়সহ নানা রকম ছোট মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানভেদে এক কেজি মাছের দাম ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
এখান থেকে কেনা মাছ বাছাই করার পর বড় বড় বাক্সে করে রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তবে মাছের সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয়সহ সব বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে মাছ একেবারেই কম ছিল।
তারা জানান, এপ্রিল-জুনে অতিবৃষ্টির কারণে আগাম বন্যায় হাওড়ে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাবও মাছের ওপর পড়েছে। ফলে অনেকেই ঋণ নিয়ে হাওড়ে নামলেও মাছ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঘোষণার আট বছরেও সুন্দরবনে দস্যুতা অব্যাহত, আতঙ্কে বনজীবীরা
গেল কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর, আবারও বেসরকারি উদ্যোগে জেলার একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বরফ কল চালু হয়েছে। তবে অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে সময় মত বরফ না পেয়ে অনেক মৎস্য ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, হাওড়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল বন্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার হাওড়ে অভিযান চালিয়ে ২৬৭০ টি চায়না দুয়ারী, ৫৩৩টি কারেন্ট জাল, চারটি বেড় জালসহ নয়টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। ১৫ দিন করে তিনজন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৫৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপির ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন