ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাভি-পারেদেসের ধাক্কাধাক্কির বিপরীতে সৌহার্দপূর্ণ আলিঙ্গন মেসি-ইয়ামালের


গাভি-পারেদেসের ধাক্কাধাক্কির বিপরীতে সৌহার্দপূর্ণ আলিঙ্গন মেসি-ইয়ামালের

মেসি ও ইয়ামাল হাসিমুখে ভাব বিনিময় করছেন। ছবিটি এক্স থেকে নেওয়া।

ম্যাচ হারের পর স্বাভাবিকভাবেই পরাজিত দলের মন খারাপ থাকে। বিশেষ করে, বিশ্বকাপের ফাইনাল হারলে তো আর কথাই নেই।

দুঃখজনক মুহূর্তে কেউ উসকানিমূলক কিছু বললে রাগ হওয়া স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: টিভিতে আজকের খেলা: নিউজিল্যান্ড-ভারত টি–টোয়েন্টি সিরিজ শুরু

তবে মন্তব্য শুনে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়িও কাম্য নয়। তাই গতকাল রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই কাজটি করেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর পারেদেস এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন।

পরমুহূর্তেই তিনি গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দেন। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার তখন তাকে মারতে উদ্যত হন।

পারেদেসের এমন কর্মকাণ্ডের আগে গাভি হালকা ধাক্কা দেওয়ার মাধ্যমে উসকানিমূলক কিছু বলেছিলেন। তবে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার কী মন্তব্য করেছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।

পরে কোচ এবং অন্য খেলোয়াড়রা এসে দ্বন্দ্বের মিটমাট করেন। তবে এই ঘটনার জন্য পারেদেসের লাল কার্ড দেখতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

গাভি ও পারেদেসের এমন অসৌজন্যমূলক ঘটনার মধ্যে ম্যাচেই সৌহার্দপূর্ণ ভাব বিনিময় করেন লিওনেল মেসি এবং লামিনে ইয়ামাল। ফাইনাল হারানোর পরে হতাশায় মেসি মাঠের এক স্থানে একাকী বসেছিলেন। উদযাপনের এক ফাঁকে ইয়ামাল দৌড়ে এসে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সঙ্গে বুক মেলান।

তারা একে অপরের সঙ্গে কিছু বাক্য বিনিময়ও করেন।

ইয়ামালের আলিঙ্গনের বিষয়ে পরে মেসি বলেছেন, ‘সে আমাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিল আর বারবার বলছিল আমি যেন না কাঁদি। সে সত্যিই খুব দয়ালু ও নরম মনের একজন ছেলে।’ ম্যাচ শুরুর আগেও দুজনকে হাসিমুখে দেখা যায়।

মাঠে প্রথম দেখা হলেও মেসি ও ইয়ামালের প্রথম সাক্ষাৎটি ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে হয়েছিল। সে সময় ইয়ামালের বয়স মাত্র ৫ মাস ছিল। বার্সেলোনার একটি স্টুডিওতে ওইদিন মেসি, যে সময়ের ২০ বছর বয়সী ছিলেন, ছোট্ট ইয়ামালকে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই দিন বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন এবং কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্তের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের অংশ হিসেবে দুজনের দেখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবা আকাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে শহরে ঘোরেন বস্তাবন্দি মেয়ের লাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


বাবা আকাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে শহরে ঘোরেন বস্তাবন্দি মেয়ের লাশ

খুলনার কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বাবা আকাশ নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামানের আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি দোকান থেকে র‍্যাব আকাশকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং পরে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

পুলিশ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই সকালে নির্জনা স্বামীর সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। বিকেলে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নির্জনা মায়ের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাবা আকাশ কাঠের একটি চলা দিয়ে আঘাত করেন। তার দাবি, আঘাতটি দুর্ঘটনাবশত নির্জনার মাথায় লাগে এবং পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এরপর মরদেহ গোপন করতে নির্জনাকে কালো লুঙ্গি দিয়ে বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ঢুকিয়ে বাড়ির নিচে নামানো হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর বাসায় ফিরে রক্তের দাগ মুছে ফেলেন আকাশ ও তার স্ত্রী। রাতে তারা কান্নাকাটি করেন এবং পরদিন সকালে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি পিবিআই ও সিআইডির মতো বিশেষায়িত সংস্থাও শুরুতে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের ছবি প্রকাশের পর দিন বিকেলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়।

ওসি আরও জানান, তদন্তের সময় নিহতের মা-বাবার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুরুতে তিনি নীরব থাকলেও পরে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং ১০ দিন পর ডুমুরিয়া থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খান

বিএনপি নেতা রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় হয়েছে।

এরই মধ্যে রবিবার (১৯ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মো. রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়োগ পাওয়ার জন্য তাকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) কার্যকর হবে।

এছাড়া, এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। মো. রাশেদ খাঁন ব্যক্তিগতভাবে আজ সোমবার (২০ জুলাই) ফেসবুকে এক পোস্টে বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করেছেন।

তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন।’

এছাড়া তিনি জানান, ‘অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিমূর্তি, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। আমি যাতে আস্থা ও বিশ্বাসের সহিত আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারি, এজন্য সবার দোয়া ও ভালবাসা চাই। নতুন জীবনের এই পথচলায় সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাত সকালে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


সাত সকালে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান

পুনরায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইরান। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে সোমবার সকালের স্থানীয় সময়ে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল কুজারান এলাকার নিকটবর্তী।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে উল্লেখ অনুযায়ী, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮ কিলোমিটার গভীরে ছিল।

সকাল ৭টা ১৩ মিনিটে এই কম্পনটি অনুভূত হয়। কম্পনের উপকেন্দ্র কুজারান থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার এবং কেরমানশাহ প্রাদেশিক রাজধানী থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল।

একদিন আগেই রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের সারান্দ এলাকায় আরেকটি ভূমিকম্প ঘটে যার মাত্রা ছিল ৫। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে ছিল।

ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে ইরান হলো বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, ফলে প্লেট দুটির ক্রমাগত গতিশীলতার কারণে সেখানে নিয়মিতভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য অনুসারে, কেরমানশাহ, খুজেস্তান এবং হরমোজগানের মতো পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো তুলনামূলকভাবে অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকাংশ ভূমিকম্পের তীব্রতা অনেক বেশি না হলেও, অগভীর গভীরতায় উৎপন্ন কম্পন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অধিক অনুভূত হবে এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি

শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর আহ্বানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মী ও রাজনৈতিক নেতা ভারতীয় সংসদের দিকে পদযাত্রা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

গতকাল রবিবার (১৯ জুন) থেকে বিক্ষোভকারীরা দিল্লির নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে জড়ো হতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, যখন সিজেপি-সমর্থিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে গিয়ে তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে পরিচয় দিচ্ছেন।

গত এক মাস ধরে তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুক এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লির তীব্র গরমের মধ্যেও তিনি শুধু পানি ও লবণ খেয়ে অনশন অব্যাহত রেখেছেন। এতে তার ওজন ৯ কেজির বেশি কমে গেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি রসিকতা করে বলেছেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।

তবে শনিবার সকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার কিছু আগে কয়েক ডজন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য অনশনস্থলে প্রবেশ করেন। পরে তারা অনশনরত ওয়াংচুককে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ সময় তাকে নিয়ে যাওয়া ঠেকাতে আন্দোলনকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। ঘটনাটি বিক্ষোভ স্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মঞ্চ থেকে নামানোর আগে পুলিশ সোনমকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নয়াদিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো জানান, হাসপাতালে থেকেও সোনম অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

রবিবার গীতাঞ্জলি বলেছেন, ‘সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হবে, এমন আশ্বাস রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে এসে দিলে তবেই সোনম তার অনশন ভাঙবেন।’

ওয়াংচুক মিছিলে অংশ নিতে না পারলেও আন্দোলন থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন দিপকে। তিনি বলেন, সোমবারের মিছিল পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। দিপকের ভাষায়, ‘ওয়াংচুককে সরিয়ে দিলেই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে, এমনটা যদি কেউ ভেবে থাকে, তাহলে তারা ভুল করছে। আমরা এখানেই থাকব এবং ২০ জুলাই সংসদের দিকে মিছিল করব।’

ওয়াংচুকের পরিবর্তে দিপকে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে হাজার হাজার মানুষ এই মিছিলে অংশ নেবেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে সিজেপির নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে।

মে মাসের শুরুতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হয়। এতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে ২১ জুন আবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ঘটনার চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নৈতিক দায়ভার নিয়ে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। অন্যদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধান সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শক্তির বি-টিম’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেনি।

শনিবারের ঘটনার পর সিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে। আন্দোলনের নেতা দীপকে বলছেন, ‘এতকাল আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছিলাম। কিন্তু এই ঘটনার পর আমরা এখন নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগও দাবি করব।’

ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তারা ঘটনাটিকে ‘চমকপ্রদ জবরদস্তিমূলক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা’ ও ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার দাবিতে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের নেতাদের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। এ সময় অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা অনশনরত ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মতে, বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলোর গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনায় বসা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%