ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের সামনে এখনও যেসব বড় চ্যালেঞ্জ ইরান চুক্তির জন্য


ট্রাম্পের সামনে এখনও যেসব বড় চ্যালেঞ্জ ইরান চুক্তির জন্য

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং তেহরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে। এমনকি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা ‘আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি’ অবস্থায় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা যে কোনও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয় বরং এটি হবে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র।

আলোচনাধীন অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় ইরানের হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধমূলক পদক্ষেপ শিথিল করার মতো তুলনামূলক সহজ বিষয়গুলোতে সমঝোতা হতে পারে। একই সঙ্গে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আরও জটিল ও বিতর্কিত ইস্যুগুলোর সমাধানের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

তবে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম সম্ভাব্য সমঝোতাকে তেহরানের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক হিসেবে তুলে ধরছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলতে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত। তবে বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।

মূল প্রশ্ন হচ্ছে— ইরান কি তার পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করবে, নাকি কেবল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি সীমার মধ্যে রাখবে? এছাড়া ভবিষ্যতে চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা থাকবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নতুন একটি পরিদর্শন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বহু বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। ফলে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কার্যকর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই ব্যবস্থাই হবে চুক্তির সফলতার মূল মাপকাঠি।

এছাড়া ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে যে, নতুন চুক্তিটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর। কারণ অতীতে তিনি সেই চুক্তিকে বারবার দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন।

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে জটিলতা ইরানের কাছে ইতোমধ্যে যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার

মার্কিন প্রশাসন চায় ইরান এসব উপাদান হস্তান্তর করুক। তবে এসব মজুতের একটি অংশ গভীর ভূগর্ভে সংরক্ষিত রয়েছে, যা উদ্ধার করা সহজ নয়।

ট্রাম্প অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো শেষ পর্যন্ত এই ইউরেনিয়াম সরাসরি নিজেদের দখলে নাও নিতে পারে। পরিবর্তে সেগুলোকে অকার্যকর করে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হতে পারে।

আরেকটি সম্ভাবনা হচ্ছে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে তা বেসামরিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা। তবে সেক্ষেত্রে উপাদানগুলো ইরানের কাছেই থেকে যাবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী চুক্তির অধীনে ইউরেনিয়াম ধ্বংস করে পরে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর

ইরানের স্থগিত সম্পদ: ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা।

ইরান প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি চাইছে বলে জানা গেছে।

২০১৬ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের ঘটনাকে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তারা অভিযোগ করেছিলেন, ওই অর্থ সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

এবার যদি ইরানের সম্পদ মুক্ত করা হয়, তাহলে ট্রাম্প একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান

যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, “কোনও ধরনের অর্থ হস্তান্তর করা হবে না।” তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সরাসরি নগদ অর্থ না দিলেও সম্পদ অবমুক্ত করার মাধ্যমে বাস্তবে ইরান আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।

হরমুজ প্রণালী: নতুন বাস্তবতা এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালী একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা চাইলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্যই চাইবে ইরান ভবিষ্যতে এই পথকে রাজনৈতিক বা সামরিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দিক।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তালাক বন্ধ: চিফ হুইপ

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে সমাধান না হয়, তাহলে সমালোচকরা বলতে পারেন যে নতুন চুক্তিটি ওবামার সময়কার চুক্তির চেয়েও দুর্বল।

ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে, তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করা।

ট্রাম্প অতীতে দাবি করেছিলেন, ইরান এসব গোষ্ঠীকে সমর্থন বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের বক্তব্যে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং তা কীভাবে যাচাই করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে ট্রাম্প তার ঘোষিত অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে সমালোচনা উঠতে পারে।

সামনে কঠিন পথ যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তবুও চূড়ান্ত চুক্তির পথে এখনও বহু জটিলতা রয়ে গেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, স্থগিত সম্পদ, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ- এসব প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য সমাধান ছাড়া কোনও স্থায়ী চুক্তি সম্ভব নয়।

ফলে ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তি করতেও সক্ষম হন, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এবং নিজ দলের সমর্থকদের কাছে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা সহজ হবে না বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এফবিআইয়ের অভিযোগ: ড্রোন হ্যাক ও বিশ্বকাপে হামলার পরিকল্পনায় ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


এফবিআইয়ের অভিযোগ: ড্রোন হ্যাক ও বিশ্বকাপে হামলার পরিকল্পনায় ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এফবিআইয়ের ড্রোন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের দাবি করেছে।

তারা গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়, একটি সংস্থার বরাতে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের তথ্যমতে, ‘হান্দালা’ নামের ওই গোষ্ঠী একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘মাসের পর মাস’ এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা ‘প্রতিটি ছবি এবং প্রতিটি সন্দেহভাজনের তথ্য’-এর অ্যাক্সেস পেয়ে আসছে।

হ্যাকারদের দাবি, এসব ড্রোনের মধ্যে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণের প্রযুক্তি ছিল, যা সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হতো।

হান্দালা তাদের বিবৃতিতে যোগ করেছে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। তারা বলেছে, কিছু দল তাদের মোটেও পছন্দ নয়। মনে রাখবেন, এফপিভি ড্রোন সর্বত্র রয়েছে। কখন কোনটি আপনার দলের বাসের ঠিক সামনে আসবে, তা আপনি জানেন না।

বিশ্বকাপ চলাকালে অননুমোদিত উড়োজাহাজের হুমকি মোকাবিলায় স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে ড্রোন মোতায়েন করছে এফবিআই।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়ামগুলোতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের সময় আকাশসীমা এবং টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের ওপর ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সতর্ক করেছিল।

হান্দালা কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী হ্যাক হওয়া ড্রোন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সাইটের মতে, কথিত হ্যাকিংয়ের একটি ভিডিও আসলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল। এই ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুলিশ বিভাগের টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি জরিপের প্রযুক্তির প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

গত মার্চে হান্দালা দাবি করেছিল, তারা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে। এরপর এফবিআই পরিচালকের ব্যক্তিগত ছবি ও অন্যান্য তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করেছিল এই গোষ্ঠী।

যুক্তরাষ্ট্র হান্দালার সদস্যদের শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে নিজেই গাড়ি চালালেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে নিজেই গাড়ি চালালেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সৃষ্টি করলেন। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী চালকের আসনে বসে হিলটপ সার্কিট হাউসের দিকে রওনা হন। তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সেখানে পৌঁছান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহাজাহান চৌধুরী এবং দলের নেতাকর্মী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী একটি ব্যতিক্রমী উপস্থিতি তৈরি করলেন যা বিমানবন্দর ও আশপাশে উপস্থিত কর্মকর্তাদের, কর্মচারীদের এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

হিলটপ সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সেখানে আয়োজিত পথসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরে, বেলা সোয়া ১১টায় তিনি সড়কপথে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। দুপুর ১২টায় সেখানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-এর উদ্বোধন এবং পার্ক পরিদর্শন করবেন।

দুপুর সোয়া ১২টায়, পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

দুপুর দেড়টায়, সেখান থেকে রওনা হয়ে দুপুর ২টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে, দুপুর পৌনে ৩টায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। জোহরের নামাজ আদায়ের পর বিকেল ৩টায় পেকুয়ার সাঈদ ম্যানশনে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবনে, মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেল সাড়ে ৩টায়, পেকুয়া থেকে রওনা হয়ে বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। সেখানে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।

জনসভা শেষে, বিকেল পৌনে ৫টায় কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করবেন। একই দিন রাত ৮টায় কক্সবাজারের লং বিচ হোটেল অডিটোরিয়ামে জেলার বিশিষ্ট নাগরিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভা শেষে, রাত ৯টায় সপরিবারে বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত ‘পুশইন’-এর একটি প্রচেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬ নম্বর প্রধান পিলারের ৮ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে আমঝোল সীমান্তের ওপারে ১০-১২ জন ব্যক্তিকে বহনকারী একটি গাড়ি এসে থামে। অভিযোগ রয়েছে, বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করে দ্রুত সতর্ক হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীদের একত্রিত করেন এবং বিজিবিকে খবর দেন। পরে, স্থানীয় জনসাধারণ ও বিজিবির সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা তাদের পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন।

স্থানীয়দের দাবি, মাইকিং শোনার পর কয়েকশ মানুষ রাতেই সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা সীমান্তজুড়ে সতর্ক নজরদারি বজায় রাখেন। একপর্যায়ে, তোপের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে সরিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে পুশইনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। আমঝোল সীমান্তের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার বিষয়টি প্রথমে আমাদের নজরে আসে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের লোকজনকে খবর দিই এবং বিজিবিকে জানাই। এরপর কয়েকশ গ্রামবাসী সীমান্তে জড়ো হই। আমাদের সতর্কতা ও বিজিবির উপস্থিতির কারণে তারা সফল হতে পারেনি। অনেকেই রাতভর সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের দর্শকসংখ্যায় ভাঙতে পারে সব রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


বিশ্বকাপের দর্শকসংখ্যায় ভাঙতে পারে সব রেকর্ড

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হলেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয় অন্যরকম উন্মাদনা। দর্শকপ্রিয়তার দিক থেকে এই আসর কতটা এগিয়ে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ও সুপার বোলের তুলনায়।

পরিসংখ্যান বলছে, বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যায় বিশ্বকাপ ফাইনাল অনেক এগিয়ে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি সরাসরি দেখেছেন প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ মানুষ। অন্যদিকে সুপার বোলের গড় লাইভ দর্শক সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ কোটির মধ্যে।

বিশ্বকাপ ২০২৬ এ দলসংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ এবং ম্যাচসংখ্যা ১০৪ হওয়ায় দর্শকসংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২২ বিশ্বকাপে টেলিভিশন, স্ট্রিমিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ যুক্ত ছিলেন। এবারে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল জনপ্রিয়তা তুলনামূলক কম হলেও বিশ্বকাপ ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে। ২০২২ সালের ফাইনাল দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দেখেছেন। তবে বিশ্বের অন্যান্য ফুটবলপ্রধান দেশের তুলনায় এটি কম।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটিতে ফুটবলের দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আবেদন এবং দর্শকসংখ্যার দিক থেকে এটি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে।

সূত্র: অ্যাপ ডট কম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%