মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০৩:৫৭ পি.এম
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নিতে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, পেন্সিল বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং খাবার হিসেবে বিস্কুট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গগন বিকাশ চাকমাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জোন কমান্ডার তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিশু তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও যেন সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, পাহাড়ি এলাকার অনেক পরিবার সীমিত আয়ের কারণে সন্তানদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে হিমশিম খায়। এমন সহায়তা শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিক্ষা উপকরণ পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা আরও আগ্রহ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে ভালো ফলাফল অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা বিস্তার ও শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু সহায়তাই নয়, বরং সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তাও বহন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া। এছাড়া বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাইমেনা শারমীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ উন নবী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুল হক এবং সায়মা শারমিনসহ অন্যরা।
বক্তারা তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, তামাকের আসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় পরোক্ষ ধূমপানের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং তামাকজাত পণ্যের বিভিন্ন ধরনের বিপণন কৌশল সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা।
এ সময় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বালুভর্তি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে নিহত হয়েছেন আল আমিন নামে এক যুবক। এই দুর্ঘটনা মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়।
নিহত আলামিন (৩৫) ফরিদগঞ্জ গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন চির্কাচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বেপরোয়া গতিতে আসা বালুভর্তি একটি পিকআপভ্যান মোটরসাইকেল আরোহী আল আমিন হোসেনকে ধাক্কা দেয়। এতে আল আমিন গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল নেওয়া হলে চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন কিছু তথ্য জানান। তিনি বলেন, "সংবাদ পাওয়ার পর বালুভর্তি পিকআপভ্যানটি আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বের মাধ্যমে পুনরায় শুরু হয়েছে।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনটি শুরু করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুহাররম মাসের প্রথম দশ দিন পর ইরানের সর্বোচ্চ প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা শেষে দাফন এবং বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। এ নিয়ে মঙ্গলবার (৯ মে) সর্বোচ্চ এই নেতার শাহাদাত স্মরণে গঠিত সদর দপ্তরের আয়োজকরা তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরিবারের স্বজনরা জানাজা এবং স্মরণসভার আয়োজন সম্পর্কিত দ্বিতীয় বিবৃতি জারি করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজন নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দেশীয় ও বিদেশী গণমাধ্যমে এই অনুষ্ঠানগুলোর সময় ও বিবরণ সম্পর্কে জল্পনা এবং যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুনের পর জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের গুজব ঐতিহাসিক এই সমাবেশে যোগদানে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং এগুলো কোনো ভিত্তি নেই। বিবৃতি অনুসারে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকানুষ্ঠান স্মরণে শহীদ নেতার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, আশুরার শোককাল শেষ হওয়ার পর মহররমের প্রথম দশ দিন শেষে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
দেশটির সদর দপ্তর জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তটি ইরান এবং ইসলামী বিশ্বজুড়ে মহররমের অনুষ্ঠান পালনের ব্যাপক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর প্রয়োজনীয়তাকেও প্রতিফলিত করে। শোকাহতদের জন্য যথাযথ পরিষেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রিয় সংগঠনগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করছে। অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে সদর দপ্তর থেকে ঘোষণা করা হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দেশটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর ১০০ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তার দাফন সম্পন্ন হয়নি। এই বিলম্বের কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শুধু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন, বরং তিনি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। যদিও তিনি সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, তথাপি তিনি কার্যত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, দেশের অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের প্রধান দিকনির্দেশক এবং রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে ভাবা হতেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের নেতা হিসেবেও বিবেচিত হতেন।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ