ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, রোগীরা ভোগান্তিতে


রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, রোগীরা ভোগান্তিতে

এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও ভাতা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দুই দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন শিক্ষানবিস চিকিৎসকেরা।

সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার সময় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি এবং মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা করেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই টানা কর্মবিরতি চলতে থাকবে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং-সংক্রান্ত কিছু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ রাখতে হবে, উপজেলা পর্যায়ে দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান করতে হবে এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা সাধারণ চিকিৎসকদের স্বার্থবিরোধী।

আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবি রয়েছে- এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন করতে হবে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে, সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ করতে হবে, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করতে হবে এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে সরেজমিনে রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নতুন রোগী ভর্তি, নিয়মিত রাউন্ড (পর্যবেক্ষণ), রোগীর ছাড়পত্র এবং ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার মতো জরুরি কাজগুলোতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, 'ইন্টার্ন ডাক্তাররা না থাকায় রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সিনিয়র ডাক্তাররা থাকলেও তাঁদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি।'

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের তৈরি হওয়া সংকটের কথা স্বীকার করেছেন রামেক কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, 'ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের ওপর কিছুটা অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিড-লেভেল (মধ্যম সারির) চিকিৎসকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের রেকর্ড জয় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


ভারতের রেকর্ড জয় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে

নিউ চণ্ডীগড়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ভারত ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এটি টেস্ট ক্রিকেটে রান সংখ্যা অনুযায়ী ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।

তৃতীয় দিনের ম্যাচ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাগতিকরা পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। আগের দিনের ৫৬৪ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করার পর আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫২ রানে অলআউট হয়ে যায়।

ভারতের হয়ে অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিং করেন বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার। প্রথম ইনিংসে তিনি ৩৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেন। এটি টেস্ট অভিষেকে কোনো ভারতীয় বোলারের জন্য তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার।

ফলোঅনে পড়া আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়। প্রথম ইনিংসে রহমত শাহর ৬০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে সেদিকুল্লাহ আতালের ৪২ রান ছাড়া তাদের কিছুই আসেনি। ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে সফরকারীরা বারবার অসহায় আত্মসমর্পণ করে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। তিনি অফস্পিনে ৩৬ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া কুলদীপ যাদব ৩টি এবং মানব সুতার আরও একটি উইকেট শিকার করেন। এতে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস মাত্র ১১২ রানে গুটিয়ে যায়।

ব্যাট হাতে ভারতের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে নির্বাহী নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক শুভমান গিল ও লোকেশ রাহুল। গিল ১২৬ এবং রাহুল ১০০ রান করেন। যদিও আফগান পেসার মোহাম্মদ সালিম ৬ উইকেট নিয়ে লড়াই করছিলেন, কিন্তু তা দলের জন্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

মাত্র তিন দিনের মধ্যে শেষ হওয়া এই টেস্টে ভারত ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—সব বিভাগেই ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। বিশেষ করে অভিষিক্ত মানব সুতারের প্রদর্শন ছিল অসাধারণ।

এই জয়ের মাধ্যমে টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করল ভারত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুবাইয়ে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


দুবাইয়ে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ৭

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের এমিরেটস রোডে ট্রাকের সঙ্গে মিনিবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাতজন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের বরাতে এ খবর জানিয়েছে খালিজ টাইমস।

আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রাকটি রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায়। এ সময় পেছন থেকে ট্রাকটিকে সহোরে ধাক্কা দেয় মিনিবাসটি।

 

ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জুমা সালেম বিন সুওয়াইদান জানিয়েছেন, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ট্রাফিক টহল ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।

 

তার ভাষ্য, ‘এই দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের আঘাত গুরুতর এবং চারজনের মাঝারি। চিকিৎসার জন্য তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়।’

 

 

দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ট্রাফিক টহল দল এলাকাটি দ্রুত সুরক্ষিত করে, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

 

অন্যদিকে ট্রাফিক দুর্ঘটনা তদন্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

 

ব্রিগেডিয়ার বিন সুওয়াইদান বলেছেন, গাড়ি বিকল হওয়া, জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়া বা টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে মহাসড়কের মাঝখানে থেমে যাওয়া সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য চরম বিপদ ডেকে আনে। তিনি গাড়িচালকদের যাত্রা শুরুর আগে তাদের যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ নির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা, মননশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতায়ও সমানভাবে এগিয়ে যাক।”

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয়। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

মাহদী আমিন বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রীড়া বিষয়টি নতুন সাবজেক্ট হিসেবে চালু করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়টিও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বিষয় থাকবে, যেখানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো শেখানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যেই একটি বিস্তৃত অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে কিংবা এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব জায়গায় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, আমরা তা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ থাকবে।”

নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য সরকারের হাতে মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় ছিল। ফলে সব পরিবর্তন একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি আরও দেন, “আমরা বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করছি। তিন-চার মাসে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে এবং ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

মাহদী আমিন দেশের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এ বছর ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। বালক ও বালিকা মিলিয়ে এই অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি বড় অর্জন।

তিনি বলেন, “ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে চাই। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী ২০ জুন জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বিকাশে ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ নামে একটি জাতীয় কর্মসূচি চালুর কথাও জানান তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় ও জাতীয় সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী ভালো উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আসবে, তাদের জন্য সিড ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠুক এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।”

কারিগরি শিক্ষার প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তার ভাষায়, “আমরা চাই কারিগরি শিক্ষা একটি সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।”

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে রেফারিদের সুযোগ পাওয়ার পথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে রেফারিদের সুযোগ পাওয়ার পথে

একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্ত চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং লালিত স্বপ্নকে সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে শুধু খেলোয়াড়রা নন, মাঠের অপর নায়কদেরও মোকাবিলা করতে হয় এক চরম মানসিক ও শারীরিক অগ্নিপরীক্ষার। সম্প্রতি ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য রেফারি প্যানেল চূড়ান্ত করার পর এই আলো-আঁধারির গল্প আবারও সামনে এসেছে। এবারের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে টেক্সাসের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমাইল এলফাত, যখন তিনি নিজের ঘরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইতালির মার্কো গুইদার মতো অনেক নামী রেফারিকে বাদ পড়ার বেদনায় পুড়তে হচ্ছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছানোর জন্য যেকোনো রেফারির ক্যারিয়ারের মূল শিখরে পা রাখার সুযোগ ঘটে। কিন্তু, এই পথটি মোটেও মসৃণ নয়। ফিফার নিবিড় পর্যবেক্ষণ, কঠোর ফিটনেস পরীক্ষা এবং অবিশ্বাস্য মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তবেই মিলবে চূড়ান্ত টিকিট। রেফারিদের গতি, শক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রতিনিয়ত ট্র্যাক করা হয় জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে। এমনকি তাদের ঘুমের তথ্যও ফিফা কর্মকর্তাদের নজরদারিতে চলে যায়। কনমেবল ও কনকাকাফ অঞ্চলের রেফারিদের নিয়ে পরিচালিত সাম্প্রতিক সেমিনারে দেখা গেছে, চরম চাপের মুখে তাদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া কিভাবে ঘটে, তা নিরূপণ করতে স্পোর্টস সায়েন্টিস্টদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

মাঠে নামার পরে এই চাপ আরও বাড়ে। রেফারিরা কেবল একটি ম্যাচ পরিচালনা করেন না, বরং অনেক সময় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয় দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে অথবা আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচের তীব্র উত্তেজনা সামলানো রেফারিদের কাছে আজও সেই মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকে। যখন হাজার হাজার দর্শক এবং কোটি কোটি টেলিভিশন স্ক্রিনের চোখ একটি মাত্র বাঁশির ওপর আটকে থাকে, তখন সাধারণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে যেতে পারে। কাতার বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেওয়া পেনাল্টি অথবা ভিনসেন্ট আবুবাকারকে লাল কার্ড দেখানোর মতো ঘটনাগুলো রেফারিদের রাতারাতি বিশ্বের আলোচনায় নিয়ে আসে এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের ট্রোলের শিকারও হতে হয়।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষে বাস্তবতার নিষ্ঠুরতা শুরু হয়। টুর্নামেন্টের মধ্যে যেন তৈরি হয় আরেকটি প্রতিযোগিতা। যেখানে প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিদের নিজেদের মধ্যে একটি অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলে পরবর্তী পর্বের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য। ফিফা অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্তের পরও বিতর্ক এড়াতে রেফারিদের দেশে ফিরিয়ে পাঠিয়ে দেয়, যা জার্মানির ড্যানিয়েল সিবার্ট এবং স্লোভেনিয়ার স্লাভকো ভিনচিচের ক্যারিয়ারে একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফাইনালে বাঁশি বাজানোর স্বপ্ন প্রতিটি রেফারির মনে থাকে। কিন্তু সেখানেও কাজ করে আন্তর্জাতিক গঠনমূলক সমীকরণ। যেমন ঘটেছিল ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেইলরের ক্ষেত্রে; রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও তাকে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে, সমস্ত বাধা কাটিয়ে যারা ফাইনালের সোনালী ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজাতে পারেন, তাদের জন্য এটি জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা হয়। যেমনটি ২০১০ সালের ফাইনাল পরিচালনা করা সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান পরম আনন্দে স্মরণ করেন। সেই সোনালী মুহূর্ত এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরের স্বস্তি কাটিয়ে আবারও শুরু হয়ে যায় পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার একটি অন্তহীন লড়াই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%