ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে রেফারিদের সুযোগ পাওয়ার পথে


কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে রেফারিদের সুযোগ পাওয়ার পথে

একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্ত চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং লালিত স্বপ্নকে সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে শুধু খেলোয়াড়রা নন, মাঠের অপর নায়কদেরও মোকাবিলা করতে হয় এক চরম মানসিক ও শারীরিক অগ্নিপরীক্ষার। সম্প্রতি ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য রেফারি প্যানেল চূড়ান্ত করার পর এই আলো-আঁধারির গল্প আবারও সামনে এসেছে। এবারের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে টেক্সাসের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমাইল এলফাত, যখন তিনি নিজের ঘরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইতালির মার্কো গুইদার মতো অনেক নামী রেফারিকে বাদ পড়ার বেদনায় পুড়তে হচ্ছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছানোর জন্য যেকোনো রেফারির ক্যারিয়ারের মূল শিখরে পা রাখার সুযোগ ঘটে। কিন্তু, এই পথটি মোটেও মসৃণ নয়। ফিফার নিবিড় পর্যবেক্ষণ, কঠোর ফিটনেস পরীক্ষা এবং অবিশ্বাস্য মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তবেই মিলবে চূড়ান্ত টিকিট। রেফারিদের গতি, শক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রতিনিয়ত ট্র্যাক করা হয় জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে। এমনকি তাদের ঘুমের তথ্যও ফিফা কর্মকর্তাদের নজরদারিতে চলে যায়। কনমেবল ও কনকাকাফ অঞ্চলের রেফারিদের নিয়ে পরিচালিত সাম্প্রতিক সেমিনারে দেখা গেছে, চরম চাপের মুখে তাদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া কিভাবে ঘটে, তা নিরূপণ করতে স্পোর্টস সায়েন্টিস্টদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

মাঠে নামার পরে এই চাপ আরও বাড়ে। রেফারিরা কেবল একটি ম্যাচ পরিচালনা করেন না, বরং অনেক সময় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয় দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে অথবা আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচের তীব্র উত্তেজনা সামলানো রেফারিদের কাছে আজও সেই মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকে। যখন হাজার হাজার দর্শক এবং কোটি কোটি টেলিভিশন স্ক্রিনের চোখ একটি মাত্র বাঁশির ওপর আটকে থাকে, তখন সাধারণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে যেতে পারে। কাতার বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেওয়া পেনাল্টি অথবা ভিনসেন্ট আবুবাকারকে লাল কার্ড দেখানোর মতো ঘটনাগুলো রেফারিদের রাতারাতি বিশ্বের আলোচনায় নিয়ে আসে এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের ট্রোলের শিকারও হতে হয়।

আরও পড়ুন: আটঘরিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস খেলোয়াড় বাছাই পর্বের উদ্বোধন

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষে বাস্তবতার নিষ্ঠুরতা শুরু হয়। টুর্নামেন্টের মধ্যে যেন তৈরি হয় আরেকটি প্রতিযোগিতা। যেখানে প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিদের নিজেদের মধ্যে একটি অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলে পরবর্তী পর্বের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য। ফিফা অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্তের পরও বিতর্ক এড়াতে রেফারিদের দেশে ফিরিয়ে পাঠিয়ে দেয়, যা জার্মানির ড্যানিয়েল সিবার্ট এবং স্লোভেনিয়ার স্লাভকো ভিনচিচের ক্যারিয়ারে একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফাইনালে বাঁশি বাজানোর স্বপ্ন প্রতিটি রেফারির মনে থাকে। কিন্তু সেখানেও কাজ করে আন্তর্জাতিক গঠনমূলক সমীকরণ। যেমন ঘটেছিল ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেইলরের ক্ষেত্রে; রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও তাকে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে, সমস্ত বাধা কাটিয়ে যারা ফাইনালের সোনালী ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজাতে পারেন, তাদের জন্য এটি জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা হয়। যেমনটি ২০১০ সালের ফাইনাল পরিচালনা করা সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান পরম আনন্দে স্মরণ করেন। সেই সোনালী মুহূর্ত এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরের স্বস্তি কাটিয়ে আবারও শুরু হয়ে যায় পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার একটি অন্তহীন লড়াই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অলিসের জন্য পেরেজকে প্রস্তাব পাঠানোর ‘কষ্ট’ করতে নিষেধ করল বায়ার্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


অলিসের জন্য পেরেজকে প্রস্তাব পাঠানোর ‘কষ্ট’ করতে নিষেধ করল বায়ার্ন

বুন্ডেসলিগার চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ যদি মাইকেল অলিসেকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা করে, তবে সেই চেষ্টা হবে সম্পূর্ণ বৃথা। স্প্যানিশ গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন উঠেছে যে, ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ অলিসের জন্য রেকর্ড ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। তবে বায়ার্ন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে অলিসে কোনো মূল্যেই বিক্রির জন্য উপলব্ধ নয়।

অ্যালিয়ানৎস অ্যারেনার কর্তারা অলিসেকে ঘিরে চলমান জল্পনায় বিরক্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সদ্য নির্বাচনে জয়ী হওয়া পেরেজ তার নতুন মেয়াদের সূচনায় বড় চমক হিসেবে ফরাসি উইঙ্গারকে সান্তিয়াগো বের্নাব্যুতে আনতে চান।

এদিকে, বায়ার্ন সভাপতি হার্বার্ট হাইনার নিজে এই গুঞ্জনের ইতি টানার চেষ্টা করেছেন। সমর্থকদের একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'মাইকেল অলিসে বায়ার্নের খেলোয়াড় এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। আমরা খেলোয়াড় বিক্রি করে চলা কোনো ক্লাব নই। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ যদি আমাদের কাছে কোনো প্রস্তাব পাঠাতে চান, যদিও এখন পর্যন্ত এমন কিছু ঘটেনি, তাহলে তিনি সেই কষ্ট না করলেও পারেন।'

হাইনারের এই অবস্থান ক্লাবের সম্মানসূচক সভাপতি উলি হোয়েনেসের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। হোয়েনেসও এর আগে অলিসের সম্ভাব্য বিদায়ের গুজব উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, বিপুল অর্থ পেলেও ক্লাবের ক্রীড়াগত লক্ষ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেছিলেন, 'মাইকেল অলিসেকে ২০০ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করব? সে কোথাও যাচ্ছে না। আমরা এই খেলা খেলি আমাদের সমর্থকদের জন্য। আমাদের ৪ লাখ ৩০ হাজার সদস্য আছে, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থক আছে। ব্যাংকে ২০০ মিলিয়ন ইউরো বাড়তি থাকলেও যদি প্রতি শনিবার আমরা দুর্বল ফুটবল খেলি, তাহলে তাতে সমর্থকদের কোনো লাভ নেই।'

এখন গুজব ছড়ানোর সময়টাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি পেরেজ আবার রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অতীতে নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর বড় তারকা সই করিয়ে তিনি নতুন অধ্যায় শুরু করার নজির বহুবার গড়েছেন।

জয়ের পর বক্তব্যে পেরেজ বলেছেন, 'আমি এখনও এখানে আছি। সদস্যরা আমাকে চেনেন। আমি রিয়াল মাদ্রিদকে রক্ষা করতে এখানে আছি। আমরা কাজ চালিয়ে যাব, যাতে রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপা জয় করতে থাকে।'

যদিও তিনি অলিসের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তথাপি প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে যে ক্লাবে সম্ভাব্য নতুন প্রকল্পের অংশ হিসেবে শীর্ষ মানের খেলোয়াড় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জোসে মরিনিয়োকেও তিনি ফিরিয়ে আনছেন।

অন্যদিকে, অলিসে এখনও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে বায়ার্নের সঙ্গে আবদ্ধ এবং কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিমিয়ার লিগ থেকে মিউনিখে আসার পর তিনি বুন্ডেসলিগায় অসাধারণ পারফর্ম করেছেন এবং দ্রুতই সমর্থকদের প্রিয় খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন।

বায়ার্নের অবস্থান এতটাই কঠোর যে তারা কোনো প্রস্তাব নিয়েই আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। ফলে, অলিসেকে দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে রিয়াল মাদ্রিদের আশা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তবে এ ধরনের অর্থপাচারের বিষয়টি প্রমাণ করা সহজ নয়, মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে এ বিষয়টি উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা হাত উঁচিয়ে ছিলাম, এরপর কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে প্রতিনিয়ত অর্থ পাচার হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, টাকা পাচারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেবেন?'

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অনেক কিছু ঘটে। অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। এটি শুনতে যত সহজ, প্রমাণ করা তত কঠিন। দেশে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন কোন পণ্যের মাধ্যমে কত অর্থ পাচার হচ্ছে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে বর্তমানে যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, উত্তরণের পর তার বড় অংশ হারাতে হবে। তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার বাণিজ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। ওই সময়ে রফতানি আয় ছিল ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। তিনি বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এ নির্ভরতা কমাতে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নতুন বাজার অনুসন্ধান, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা এবং রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বাস চূর্ণবিচূর্ণ, শিশুসহ নিহত ২, আহত ৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বাস চূর্ণবিচূর্ণ, শিশুসহ নিহত ২, আহত ৩৩

কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া ঢালায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে, যার ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী এবং চালকদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা এভারগ্রীন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাসের সঙ্গে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারমুখী স্থানীয় একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে দুইটি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন এবং উভয় বাসের অন্তত ৩৩ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাস দুটি মহাসড়কের ওপর অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে মহাসড়কের উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে, ফলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর হাইওয়ে পুলিশ বাস দুটি উদ্ধার করে, যাতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম।

তিনি বলেন, 'দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মচারীর বিয়েতে সৌদি মালিক, হেলিকপ্টারে গ্রামে এসেছেন ৩ অতিথি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


কর্মচারীর বিয়েতে সৌদি মালিক, হেলিকপ্টারে গ্রামে এসেছেন ৩ অতিথি

সাধারণত কর্মীরা সাধারণত মালিকের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। তবে এবার ঘটে গিয়েছে উল্টো ঘটনা। সৌদি আরব থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর বিয়েতে উপস্থিত হতে তার কফিল (নিয়োগকর্তা) নিজেই দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারযোগে বাংলাদেশে হাজির হয়েছেন। আর এই ব্যতিক্রমী আগমন দেখে গ্রামজুড়ে শত শত মানুষের ঢল নামে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে প্রবাসী যুবকের বিয়েকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে চাউরা কবি সানাউল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে।

হেলিকপ্টার নামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে আশপাশের এলাকার মানুষজন ভিড় করতে শুরু করেন। হেলিকপ্টারটি মাটিতে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা উৎসবের আবহে পরিণত হয়।

জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রামের সুদন মিয়ার ছোট ছেলে মো. বাপ্পি গত চার বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন। তার বড় ভাই মাসুদ রানা প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করার সুবাদে তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান মালিক ফায়েজ আল মাকদুবি এবং তার দুই বন্ধু সালমান আল মুতাহারী ও আহাদ মোহাম্মদীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

মাসুদ রানা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে কফিল ও তার বন্ধুরা বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে অংশ নিতে তারা সৌদি আরব থেকে এসেছেন। তাদের এই আগমনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

বর মো. বাপ্পিও সৌদি আরবে কর্মরত আছেন। তার বিয়েতে সৌদি অতিথিদের উপস্থিতি পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

বাবা সুদন মিয়া বললেন, "আমার ছেলের বিয়েতে তার মালিক সুদূর সৌদি আরব থেকে এসেছেন—এটি আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। এমন ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি।"

স্থানীয়রা জানান, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায় এ ধরনের বিদেশি অতিথির আগমন এই প্রথম। হেলিকপ্টারযোগে তাদের আগমন পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে এলাকার জন্য স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এলাকার মানুষজন আশা করছেন, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে এলাকার তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, সৌদি অতিথিদের মাধ্যমে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির জন্য বিদেশে কাজের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

প্রবাসী যুবকের বিয়ে ও সৌদি অতিথিদের আগমনকে ঘিরে মধ্যপাড়া গ্রাম এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন হেলিকপ্টার দেখতে এবং অতিথিদের একনজর দেখার জন্য। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন প্রবাসী বাপ্পির বিয়েকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন এলাকাবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%